বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ১৪ জুন দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটকে দেয়, কারণ তার নাম ২০২৫ সালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা একটি ‘ব্ল্যাকলিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জাহেদ উর রহমান একটি সাধারণ পাসপোর্ট ও সার্ক (SAARC) ভিসা ব্যবহার করে ভারতে একটি সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। তবে তার নাম ব্ল্যাকলিস্ট থেকে অপসারণ না হওয়ায় দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তার ভিত্তিতে তাকে থামিয়ে দেয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলে সরকারি সূত্র দ্য হিন্দুকে জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবাদপত্র প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ হাইকমিশন ১২ জুন ভারতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছিল যে জাহেদ উর রহমান সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
খবরে বলা হয়, অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতবিরোধী মন্তব্য করার কারণে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসার পর জাহেদ উর রহমানকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তার দিল্লিতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক সহযোগিতা সংস্থা (IORA)-এর একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।

দুই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা
সরকারি একটি সূত্র জানায়, “বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।”
দিল্লিতে আইওআরএ সম্মেলনে যোগ দিতে আসার আগে তার নাম ব্ল্যাকলিস্ট থেকে সরাতে কর্তৃপক্ষ ভুলে গিয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই সূত্র এ মন্তব্য করে।
বাংলাদেশ হাইকমিশন বিষয়টি উত্থাপন করার পর জাহেদ উর রহমানের বিরুদ্ধে জারি করা অভিবাসন সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয় এবং তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলো জানায়।
তবে পুরো প্রক্রিয়ায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। এর ফলে তিনি কলম্বো হয়ে সংযোগকারী ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২০১৬ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সংসদকে জানিয়েছিল, “যেসব বিদেশি নাগরিক বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশিরা ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড, গুরুতর অপরাধ অথবা ভিসা বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হন, যথাযথ পরামর্শ ও যাচাইয়ের পর তাদের নাম একটি নেতিবাচক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।”
এরপর ওই তালিকা ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন (বিওআই)-এর কাছে পাঠানো হয়। বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে প্রবেশের সময় এসব ব্যক্তির নাম যাচাই করে সংস্থাটি।
বিজয়তা সিং ও কল্লোল ভট্টাচার্য 



















