যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’কে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা জয়ারাম রমেশ দাবি করেছেন, এই সমঝোতা পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের প্রতীক এবং এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা।
এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে জয়ারাম রমেশ বলেন, চুক্তিটির নাম ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ হওয়াই পাকিস্তানের নতুন কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে। তাঁর মতে, একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা পাকিস্তান এখন আবার গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে।
পাকিস্তানের বাড়তি ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তা গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক এই সমঝোতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে তা একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে এটি ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝির উৎসও হয়ে উঠতে পারে। তাই আগামী দুই মাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের অর্জনের কথা তুলে ধরলেন রমেশ
জয়ারাম রমেশের মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ইরান উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তিনি বলেন, সমঝোতায় তেহরানের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপ্রত্যাশিত সুবিধা রয়েছে, যা দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এই চুক্তিকে সতর্ক আশাবাদের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা ভবিষ্যতে নিজেদের আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব ও নিরাপত্তা কৌশল নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকেও কটাক্ষ
কংগ্রেস নেতা মনে করেন, এই সমঝোতা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি কূটনৈতিক ধাক্কা। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতানিয়াহু আগের তুলনায় বেশি চাপের মুখে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এই চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা হতে পারে।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক অভিযানের বিষয়ে মোদি সরকার ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, এই অবস্থান ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
জয়ারাম রমেশ আরও বলেন, সামরিক শক্তি দিয়ে সব ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও দেখিয়েছে যে যুদ্ধ ও শক্তি প্রদর্শনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক
কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। প্রতিবেশী দেশ, পশ্চিম এশিয়া এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানের প্রয়োজন রয়েছে বলে দলটি মনে করে।
সাম্প্রতিক এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দল আবারও দাবি করেছে যে দ্রুত পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ভারতের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ভাবনা ও পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ইসলামাবাদ সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা ঘিরে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















