০২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
হাইলাইট: দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে প্রতিদিন, তবে বন্ধ অনুসন্ধান–মামলা সপ্তাহের শুরুতেই সোনার গহনার দাম ভরিতে কমলো ২২১৬ টাকা   শিকারি-সংগ্রাহকদের মধ্যেও ছিল প্লেগ! ৫,৫০০ বছর আগের মহামারির চাঞ্চল্যকর প্রমাণ এল নিনোর নতুন হুমকি: ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী জলবায়ু ঘটনা কি সামনে? গাছেরও আছে ‘গোপন শ্রবণশক্তি’, প্রতিবেশীর খবর শুনেই বদলায় বেড়ে ওঠার কৌশল নেটফ্লিক্সে হারলান কোবেন ঝড়: রহস্য আর পারিবারিক নাটকের জাদুতে বিশ্বজয় বড়দের নতুন ছুটি: গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ফিরছে প্রাপ্তবয়স্করা অনলাইনের প্রেমে প্রতারণা: একাকীত্বকে পুঁজি করে বাড়ছে ‘লাভ স্ক্যাম’ চক্র অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারে নতুন আশা, জীবন বাড়াতে পারে যুগান্তকারী ওষুধ চকলেটের মিষ্টি রহস্য: কোকো ফলনে ভরসা রক্তচোষা ক্ষুদে পোকা

তৃণমূল ও শিবসেনার অস্থিরতায় সংসদে এগোচ্ছে এনডিএ, তবু সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্য এখনও দূরে

ভারতের বিরোধী রাজনীতিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা নতুন করে আলোচনায় এনেছে ক্ষমতাসীন জোট এনডিএর সংসদীয় শক্তিকে। তৃণমূল কংগ্রেস ও শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) শিবিরে বিদ্রোহের গুঞ্জন এবং কয়েকজন সাংসদের অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হওয়ায় সংসদে এনডিএর সম্ভাব্য সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নটি এখন কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। যদিও বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা এনডিএর অবস্থানকে কিছুটা শক্তিশালী করতে পারে, তবুও প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় জোটটি এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

সাংবিধানিক সংশোধনী কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়। চলতি বছরে সরকার নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে আনে। কিন্তু এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করা সহজ হয়নি।

নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়ে বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজনৈতিক দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে লোকসভায় বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

লোকসভায় এনডিএর বর্তমান শক্তি

বর্তমানে ৫৪০ সদস্যের লোকসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ২৯৩। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩৬০ সদস্যের সমর্থন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের সাতজন এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয়জন বিদ্রোহী সাংসদ যদি এনডিএর পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে জোটের শক্তি ৩১৬ আসনে পৌঁছাতে পারে। তবে সেই অবস্থাতেও সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সীমা থেকে ৪০টিরও বেশি আসন দূরে থাকবে এনডিএ।

রাজ্যসভায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান

উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এনডিএর অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী। বর্তমানে জোটটির সদস্য সংখ্যা ১৪৯। সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং সম্ভাব্য উপনির্বাচনের ফল বিবেচনায় এই সংখ্যা ১৫৮-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৬৪ সদস্য। সে হিসেবে এনডিএ মাত্র ছয় আসন পিছিয়ে থাকবে। ফলে উচ্চকক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন অর্জনের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টিকে ঘিরে জল্পনা

রাজনৈতিক আলোচনায় ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও নানা জল্পনা চলছে। দুই দলই এখনো এনডিএকে সমর্থনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে তাদের সমর্থন মিললে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই এনডিএর অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হতে পারে।

সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্ব ইতোমধ্যে দলভাঙনের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডিএমকের পক্ষ থেকেও এনডিএকে সমর্থনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি।

এখন কী হতে পারে

বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনা মূলত সংখ্যার হিসাব-নিকাশকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ। তৃণমূল ও শিবসেনার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এনডিএর জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করলেও সাংবিধানিক সংশোধনী এককভাবে পাস করার মতো অবস্থানে জোটটি এখনও পৌঁছায়নি।

আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের ভেতরের পরিবর্তন, সম্ভাব্য জোট-সমীকরণ এবং সংসদীয় রাজনীতির নতুন বাস্তবতাই নির্ধারণ করবে এনডিএ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান কমাতে পারে কি না।

ভারতের সংসদে বিরোধী দলগুলোর অস্থিরতা এনডিএর শক্তি বাড়াতে পারে, তবে সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা এখনও অধরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে প্রতিদিন, তবে বন্ধ অনুসন্ধান–মামলা

তৃণমূল ও শিবসেনার অস্থিরতায় সংসদে এগোচ্ছে এনডিএ, তবু সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্য এখনও দূরে

০৭:৫০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ভারতের বিরোধী রাজনীতিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা নতুন করে আলোচনায় এনেছে ক্ষমতাসীন জোট এনডিএর সংসদীয় শক্তিকে। তৃণমূল কংগ্রেস ও শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) শিবিরে বিদ্রোহের গুঞ্জন এবং কয়েকজন সাংসদের অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হওয়ায় সংসদে এনডিএর সম্ভাব্য সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নটি এখন কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। যদিও বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা এনডিএর অবস্থানকে কিছুটা শক্তিশালী করতে পারে, তবুও প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় জোটটি এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

সাংবিধানিক সংশোধনী কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়। চলতি বছরে সরকার নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে আনে। কিন্তু এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করা সহজ হয়নি।

নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়ে বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজনৈতিক দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে লোকসভায় বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

লোকসভায় এনডিএর বর্তমান শক্তি

বর্তমানে ৫৪০ সদস্যের লোকসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ২৯৩। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩৬০ সদস্যের সমর্থন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের সাতজন এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয়জন বিদ্রোহী সাংসদ যদি এনডিএর পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে জোটের শক্তি ৩১৬ আসনে পৌঁছাতে পারে। তবে সেই অবস্থাতেও সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সীমা থেকে ৪০টিরও বেশি আসন দূরে থাকবে এনডিএ।

রাজ্যসভায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান

উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এনডিএর অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী। বর্তমানে জোটটির সদস্য সংখ্যা ১৪৯। সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং সম্ভাব্য উপনির্বাচনের ফল বিবেচনায় এই সংখ্যা ১৫৮-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৬৪ সদস্য। সে হিসেবে এনডিএ মাত্র ছয় আসন পিছিয়ে থাকবে। ফলে উচ্চকক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন অর্জনের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টিকে ঘিরে জল্পনা

রাজনৈতিক আলোচনায় ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও নানা জল্পনা চলছে। দুই দলই এখনো এনডিএকে সমর্থনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে তাদের সমর্থন মিললে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই এনডিএর অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হতে পারে।

সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্ব ইতোমধ্যে দলভাঙনের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডিএমকের পক্ষ থেকেও এনডিএকে সমর্থনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি।

এখন কী হতে পারে

বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনা মূলত সংখ্যার হিসাব-নিকাশকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ। তৃণমূল ও শিবসেনার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এনডিএর জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করলেও সাংবিধানিক সংশোধনী এককভাবে পাস করার মতো অবস্থানে জোটটি এখনও পৌঁছায়নি।

আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের ভেতরের পরিবর্তন, সম্ভাব্য জোট-সমীকরণ এবং সংসদীয় রাজনীতির নতুন বাস্তবতাই নির্ধারণ করবে এনডিএ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান কমাতে পারে কি না।

ভারতের সংসদে বিরোধী দলগুলোর অস্থিরতা এনডিএর শক্তি বাড়াতে পারে, তবে সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা এখনও অধরা।