০৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানাল চীন, দ্বিতীয় দফা আলোচনায় ইতিবাচক ফলের আশা ইয়েনের রেকর্ড দুর্বলতায় হস্তক্ষেপের শঙ্কা, প্রথমবার ৭১ হাজার ছাড়াল নিক্কেই স্মৃতিশক্তি থেকে মানসিক স্বাস্থ্য: গাঁজার প্রভাব নিয়ে নতুন গবেষণায় উঠে এলো ৭ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপালগঞ্জে তিন দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে ২৫ জন আহত, আতঙ্কে মুকসুদপুর ১১ লাখ কোটি টাকার ‘ঋণখেলাপি’ বিতর্ক, মুখোমুখি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-রুমিন জি-৭ সম্মেলনে তাকাইচির কূটনৈতিক ছাপ, খনিজ ও ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তায় জাপানের জোর বালু উত্তোলন বিরোধে ভয়াবহ হামলা: ট্রাকের মাঝে আটকে গাড়িতে আগুন, জীবন্ত দগ্ধ বিজেপি নেতা সহ নিহত ৩ মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপ শুরু, ক্লোসের রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে আর্জেন্টিনার দাপুটে জয় পরীমণির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে অবশেষে বাধ্যতামূলক অবসরে সাবেক ডিবি কর্মকর্তা সাকলায়েন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের তৎপরতা নিয়ে নজরদারির দাবি ইসরায়েলের

নীট পুনঃপরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম সীমিত, কারণ ব্যাখ্যা করল ভারত সরকার

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নীটের পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে টেলিগ্রাম ব্যবহারে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দিল্লি হাইকোর্টে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টেলিগ্রামের কিছু প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য অন্য বার্তা আদান-প্রদানকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর তুলনায় তথ্য দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

কেন টেলিগ্রামকে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে

আদালতে সরকারের প্রতিনিধিরা জানান, টেলিগ্রামের বটভিত্তিক কাঠামো তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। একজন ব্যবহারকারী একাধিক বট তৈরি করতে পারেন, যা পরে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড় ধরনের স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্কে পরিণত হতে পারে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

সরকারের মতে, এই ব্যবস্থার কারণে সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন নথি দ্রুত বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, যা পরীক্ষার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তদন্তে বাধার অভিযোগ

সরকার আদালতকে আরও জানায়, টেলিগ্রামের ক্লাউডভিত্তিক কার্যপ্রণালীর কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অনেক সময় প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হলেও এর পেছনে থাকা ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা সবসময় সহজ হয় না।

সরকারের দাবি, এ ধরনের বৈশিষ্ট্য তদন্তের সময় যোগাযোগের শৃঙ্খল অনুসরণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং অপরাধের উৎস নির্ধারণে জটিলতা তৈরি করে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা

আদালতে উপস্থাপিত এক সরকারি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়, কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে টেলিগ্রামকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অতীতে অভিযোগ উঠেছে। সরকার জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্ল্যাটফর্মটির কার্যপ্রণালী নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।

তবে সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, তারা টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ আনছে না। বরং কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ দূর করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট কার্যকর হয়নি বলেই তাদের মত।

বার্তা সম্পাদনার সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন

সরকারের আরেকটি আপত্তি টেলিগ্রামের বার্তা সম্পাদনা সুবিধা নিয়ে। আদালতে বলা হয়, কোনো বার্তা সম্পাদনা করার পর কখন পরিবর্তন করা হয়েছে তা সব ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে না। এর ফলে কোনো নথি বা প্রশ্নপত্র পরে আপলোড করে সেটিকে আগের তারিখে প্রকাশিত বলে দেখানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারের দাবি, অতীতের একটি পরীক্ষাসংক্রান্ত বিতর্কেও এ ধরনের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাই পুনঃপরীক্ষার আগে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

টেলিগ্রামের আপত্তি

অন্যদিকে টেলিগ্রামের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, কয়েকটি অভিযোগের কারণে পুরো প্ল্যাটফর্মে বিধিনিষেধ আরোপ করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের দাবি, ভারতে বিপুলসংখ্যক বৈধ ব্যবহারকারী এই সেবার ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার পরও পুরো প্ল্যাটফর্মের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

বর্তমানে নীট পুনঃপরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত টেলিগ্রামের ওপর আরোপিত এই সাময়িক বিধিনিষেধ নিয়ে আদালতে শুনানি চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানাল চীন, দ্বিতীয় দফা আলোচনায় ইতিবাচক ফলের আশা

নীট পুনঃপরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম সীমিত, কারণ ব্যাখ্যা করল ভারত সরকার

০৮:০৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নীটের পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে টেলিগ্রাম ব্যবহারে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দিল্লি হাইকোর্টে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টেলিগ্রামের কিছু প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য অন্য বার্তা আদান-প্রদানকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর তুলনায় তথ্য দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

কেন টেলিগ্রামকে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে

আদালতে সরকারের প্রতিনিধিরা জানান, টেলিগ্রামের বটভিত্তিক কাঠামো তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। একজন ব্যবহারকারী একাধিক বট তৈরি করতে পারেন, যা পরে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড় ধরনের স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্কে পরিণত হতে পারে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

সরকারের মতে, এই ব্যবস্থার কারণে সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন নথি দ্রুত বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, যা পরীক্ষার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তদন্তে বাধার অভিযোগ

সরকার আদালতকে আরও জানায়, টেলিগ্রামের ক্লাউডভিত্তিক কার্যপ্রণালীর কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অনেক সময় প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হলেও এর পেছনে থাকা ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা সবসময় সহজ হয় না।

সরকারের দাবি, এ ধরনের বৈশিষ্ট্য তদন্তের সময় যোগাযোগের শৃঙ্খল অনুসরণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং অপরাধের উৎস নির্ধারণে জটিলতা তৈরি করে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা

আদালতে উপস্থাপিত এক সরকারি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়, কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে টেলিগ্রামকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অতীতে অভিযোগ উঠেছে। সরকার জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্ল্যাটফর্মটির কার্যপ্রণালী নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।

তবে সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, তারা টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ আনছে না। বরং কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ দূর করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট কার্যকর হয়নি বলেই তাদের মত।

বার্তা সম্পাদনার সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন

সরকারের আরেকটি আপত্তি টেলিগ্রামের বার্তা সম্পাদনা সুবিধা নিয়ে। আদালতে বলা হয়, কোনো বার্তা সম্পাদনা করার পর কখন পরিবর্তন করা হয়েছে তা সব ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে না। এর ফলে কোনো নথি বা প্রশ্নপত্র পরে আপলোড করে সেটিকে আগের তারিখে প্রকাশিত বলে দেখানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারের দাবি, অতীতের একটি পরীক্ষাসংক্রান্ত বিতর্কেও এ ধরনের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাই পুনঃপরীক্ষার আগে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

টেলিগ্রামের আপত্তি

অন্যদিকে টেলিগ্রামের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, কয়েকটি অভিযোগের কারণে পুরো প্ল্যাটফর্মে বিধিনিষেধ আরোপ করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের দাবি, ভারতে বিপুলসংখ্যক বৈধ ব্যবহারকারী এই সেবার ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার পরও পুরো প্ল্যাটফর্মের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

বর্তমানে নীট পুনঃপরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত টেলিগ্রামের ওপর আরোপিত এই সাময়িক বিধিনিষেধ নিয়ে আদালতে শুনানি চলছে।