জাপানের মুদ্রা ইয়েন বৃহস্পতিবার প্রায় ২৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। একই দিনে দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৭১ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ও শেয়ারবাজার—দুই ক্ষেত্রেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা।
ডলারের বিপরীতে আরও দুর্বল ইয়েন
বৃহস্পতিবার ইয়েনের বিনিময় হার একপর্যায়ে ডলারপ্রতি ১৬০.৭৯ ইয়েনে পৌঁছায়, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। এর আগে এপ্রিল মাসে ডলারপ্রতি ১৬০.৭২ ইয়েনের স্তর ছুঁয়েছিল জাপানি মুদ্রা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারপ্রতি ১৬০ ইয়েনের সীমাকে দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে কর্তৃপক্ষ বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এর আগে এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাস পর্যন্ত ইয়েনের পতন ঠেকাতে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় মোট ১১.৭৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল। সেই সময়ও ইয়েন ডলারপ্রতি ১৬০-এর নিচে নামার পর সরকার বাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল।
জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বৃহস্পতিবার বলেন, প্রয়োজন হলে সরকার যে কোনো সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
সুদের হার বাড়িয়েও মিলল না কাঙ্ক্ষিত ফল
ইয়েনের দুর্বলতা এমন সময়ে দেখা দিল, যখন জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) মঙ্গলবার সুদের হার ১ শতাংশে উন্নীত করেছে। ১৯৯৫ সালের পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ নীতিসুদ। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সুদের হার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এটি ছিল নতুন পদক্ষেপ।
তবে বাজারে এই সিদ্ধান্ত আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল বলে সুদের হার বৃদ্ধি ইয়েনকে শক্তিশালী করতে পারেনি। পাশাপাশি বিওজের ডেপুটি গভর্নর শিনইচি উচিদা ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাব্য গতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি।

মিজুহো সিকিউরিটিজের প্রধান বন্ড কৌশলবিদ নোরিআতসু তানজির মতে, উচিদা সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও তাদের সাম্প্রতিক বার্তাকে অনেক বিনিয়োগকারী তুলনামূলক কঠোর বা ‘হকিশ’ হিসেবে দেখছেন, যা ডলারের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
নিক্কেইতে নতুন ইতিহাস
মুদ্রাবাজারে উদ্বেগের মধ্যেই টোকিও শেয়ারবাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। বৃহস্পতিবার সকালে নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রথমবারের মতো ৭১ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে সূচকটি ৭১,৩৯৮.৫৮ পয়েন্টে উঠে নতুন সর্বোচ্চ অবস্থান স্পর্শ করে।
দিনশেষে নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৬৫ শতাংশ বেড়ে ৭১,০৫৩.৪৯ পয়েন্টে বন্ধ হয়।
প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ এ উত্থানের প্রধান চালিকা শক্তি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচকের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবেও জাপানের প্রযুক্তি শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ে।
চিপ সরঞ্জাম নির্মাতা টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ার ৪.৭ শতাংশ বেড়েছে। আইসি প্যাকেজ সাবস্ট্রেট সরবরাহকারী ইবিডেনের শেয়ার ৭ শতাংশের বেশি লাফ দিয়েছে। একই সময়ে মুরাতা ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের শেয়ারও ৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দিনের শেষ দিকে টোকিও বাজারে ডলারপ্রতি ইয়েনের বিনিময় হার প্রায় ১৬০.৬-এর কাছাকাছি অবস্থান করছিল।
ইয়েনের রেকর্ড দুর্বলতা ও নিক্কেইর নতুন উচ্চতা জাপানের অর্থনীতির জন্য একদিকে সুযোগ তৈরি করলেও অন্যদিকে নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।
ইয়েনের ২৩ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থান, নিক্কেই ২২৫-এর ৭১ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম এবং সম্ভাব্য সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















