০১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ প্রণালীকে হাতিয়ার করে জুনের চুক্তিতে ফিরতে চাইছে ইরান বাফুফের বিদেশি কোচের বিস্ফোরক অভিযোগ: ‘ভয়ে আছি, স্ত্রী-সন্তানকে টাকা পাঠাতে পারছি না’ এসএসসি-সমমানে পরীক্ষার্থী কমেছে, ফেল বেড়েছে প্রায় ৯০ হাজার আসামে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা ১০০, পানিবন্দি প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার সিলেটে ১৪ মাস পর আবারও করোনা শনাক্ত, হাসপাতালে ৫৫ বছরের রোগী সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি এসএসসি-সমমানের ফলে বড় পতন, পাসের হার নেমে ৬২.২৫ শতাংশ কল্যাণ সংস্কারে শুধু তথ্য নয়, দরকার সঠিক রাজনৈতিক সময় হরমুজ প্রণালীকে ‘অস্ত্র’ বানিয়ে দীর্ঘদিন চাপ ধরে রাখতে পারবে ইরান ১৩ বছরের কিশোরকে চাপা দিয়ে হত্যার পরও দুই বছরেই মুক্তি, ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার

ইরান যুদ্ধের পর ট্রাম্পের সমঝোতা, বিজয় কার—ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা উত্তেজনার নতুন অধ্যায় হিসেবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটেছে একটি সমঝোতার মাধ্যমে। তবে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের” কথা বলেছিলেন, চূড়ান্ত সমঝোতার ভাষ্য তা থেকে অনেকটাই ভিন্ন। বরং পরিস্থিতি এমন যে, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও ইরান নিজেকে রাজনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সমঝোতার পর ইরানের অর্থনীতিতে স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটি আবারও তেল বিক্রির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক আয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বহু বছর ধরে আটকে থাকা কিছু সম্পদ ছাড়ের পথও উন্মুক্ত হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্য, কূটনীতিতে প্রশ্ন

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী, বিমান শক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল আরও বড়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটির ক্ষমতাকাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া।

সমালোচকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জন থাকলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ফলাফল এখনো অস্পষ্ট। কারণ নতুন সমঝোতায় ইরানের ওপর প্রত্যাশিত মাত্রার কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়নি।

তেলের বাজার ও অর্থনৈতিক চাপ

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারত। বিশেষ করে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল প্রবল। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পেছনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বড় ভূমিকা রেখেছে। কারণ সংঘাত আরও বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারত।

Dissent grows against deal in Iran – but the regime is likely to have final  say | CNN

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা

সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ। নতুন আলোচনায় আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও এখনো অনেক বিষয় চূড়ান্ত হয়নি।

অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের আলোচনায় ইরান দীর্ঘ সময় ধরে দরকষাকষির কৌশল ব্যবহার করে। ফলে সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনা ও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব?

যুদ্ধের শুরুতে ধারণা ছিল, সামরিক চাপ ইরানের ক্ষমতাসীন কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষণ স্পষ্ট নয়। বরং নতুন নেতৃত্বের অধীনে রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফলে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ফল হিসেবে সরকারবিরোধী বড় ধরনের আন্দোলন বা ক্ষমতার পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন

এই যুদ্ধ শেষ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জ্বালানি রাজনীতিকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষকের আশঙ্কা, ইরান ভবিষ্যতে নিজেদের নিরাপত্তা কৌশল নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, এই সমঝোতাই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার পথ খুলে দেবে।

তবে ইতিহাস শেষ কথা বলার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার—যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতা এখনো শেষ হয়নি।

সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অর্থনীতি, তেলবাজার ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামনে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালীকে হাতিয়ার করে জুনের চুক্তিতে ফিরতে চাইছে ইরান

ইরান যুদ্ধের পর ট্রাম্পের সমঝোতা, বিজয় কার—ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?

০৬:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা উত্তেজনার নতুন অধ্যায় হিসেবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটেছে একটি সমঝোতার মাধ্যমে। তবে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের” কথা বলেছিলেন, চূড়ান্ত সমঝোতার ভাষ্য তা থেকে অনেকটাই ভিন্ন। বরং পরিস্থিতি এমন যে, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও ইরান নিজেকে রাজনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সমঝোতার পর ইরানের অর্থনীতিতে স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটি আবারও তেল বিক্রির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক আয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বহু বছর ধরে আটকে থাকা কিছু সম্পদ ছাড়ের পথও উন্মুক্ত হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্য, কূটনীতিতে প্রশ্ন

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী, বিমান শক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল আরও বড়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটির ক্ষমতাকাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া।

সমালোচকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জন থাকলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ফলাফল এখনো অস্পষ্ট। কারণ নতুন সমঝোতায় ইরানের ওপর প্রত্যাশিত মাত্রার কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়নি।

তেলের বাজার ও অর্থনৈতিক চাপ

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারত। বিশেষ করে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল প্রবল। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পেছনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বড় ভূমিকা রেখেছে। কারণ সংঘাত আরও বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারত।

Dissent grows against deal in Iran – but the regime is likely to have final  say | CNN

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা

সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ। নতুন আলোচনায় আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও এখনো অনেক বিষয় চূড়ান্ত হয়নি।

অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের আলোচনায় ইরান দীর্ঘ সময় ধরে দরকষাকষির কৌশল ব্যবহার করে। ফলে সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনা ও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব?

যুদ্ধের শুরুতে ধারণা ছিল, সামরিক চাপ ইরানের ক্ষমতাসীন কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষণ স্পষ্ট নয়। বরং নতুন নেতৃত্বের অধীনে রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফলে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ফল হিসেবে সরকারবিরোধী বড় ধরনের আন্দোলন বা ক্ষমতার পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন

এই যুদ্ধ শেষ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জ্বালানি রাজনীতিকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষকের আশঙ্কা, ইরান ভবিষ্যতে নিজেদের নিরাপত্তা কৌশল নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, এই সমঝোতাই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার পথ খুলে দেবে।

তবে ইতিহাস শেষ কথা বলার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার—যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতা এখনো শেষ হয়নি।

সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অর্থনীতি, তেলবাজার ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামনে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।