০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
সময়ের দূরত্বে পিতাকে নতুন করে আবিষ্কার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়, দরকার পেশাগত ন্যায়বিচারের কাঠামো একটি জাতির ভবিষ্যৎ শুধু নীতিতে নয়, সন্তান পালনের গল্পেও নির্ধারিত হয় এত বিপুল সংখ্যক শিশুমৃত্যু বাংলাদেশ আগে কখনও দেখেনি কেপ ভার্দের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, উরুগুয়ের বিপক্ষেও চমক দেখাতে প্রস্তুত ব্লু শার্কস বাবার নীরব ভালোবাসা: স্মৃতি, ত্যাগ আর অটুট বন্ধনের গল্প চালকের উদ্বেগ কমিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে ঝড় তুলেছে প্রোটন বাবার অসমান পায়ের পথচলার ঋণ শোধে জীবন উৎসর্গ মেয়ের বাবার ভালোবাসা সব সময় বলা হয় না, কখনও কখনও তা শুধু ত্যাগেই লেখা থাকে বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুটবল ফেডারেশন

কাস্ত্রপকে না খেলানো নিয়ে প্রশ্ন, দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হারের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ং-বোর দল নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জেন্স কাস্ত্রপকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও মাঠে নামানো হয়নি কেন, তা নিয়ে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে।

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। সন হিউং-মিন, লি জে-সুং ও লি কাং-ইনের সমন্বয়ে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা দেখা গেলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি দলটি। দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ সাজানোর পরিকল্পনা থাকলেও সেখান থেকে কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে গোল হজম করে দক্ষিণ কোরিয়া। গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে মেক্সিকোর লুইস রোমো জয়ের গোলটি করেন। এরপর সমতায় ফেরার জন্য আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার খেলায় নতুনত্ব দেখা যায়নি।

কাস্ত্রপকে নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, জেন্স কাস্ত্রপ কোথায় ছিলেন? বিশ্বকাপের আগে জাতীয়তা পরিবর্তন করে দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া এই ফুটবলারকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বেশ বড়।

জার্মান ক্লাব ফুটবলে উইং-ব্যাক হিসেবে খেলা কাস্ত্রপ তার পরিশ্রম, গতি, প্রেসিং এবং আক্রমণে সহায়তা করার দক্ষতার জন্য পরিচিত। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও তিনি নজর কেড়েছিলেন। ফলে মূল টুর্নামেন্টে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হবে বলেই ধারণা করা হয়েছিল।

কিন্তু প্রথম ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকার পর মেক্সিকোর বিপক্ষেও এক মিনিটের জন্য মাঠে নামানো হয়নি তাকে। অথচ দক্ষিণ কোরিয়া যখন দুই প্রান্ত থেকে কার্যকর আক্রমণ গড়তে ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন কাস্ত্রপকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারত বলে মনে করছেন অনেকেই।

কোচের কৌশল নিয়ে আলোচনা

অবশ্য কাস্ত্রপকে না খেলানোর পেছনে কিছু যুক্তিও রয়েছে। তার আক্রমণাত্মক খেলার ধরন এবং সহজে হলুদ কার্ড পাওয়ার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে পিছিয়ে পড়ার পর যখন দল আক্রমণে গতি আনতে পারছিল না, তখন সেই ঝুঁকি নেওয়া প্রয়োজন ছিল বলেই মত অনেকের।

বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে সাহসী বদলির সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসিত হওয়া কোচ হং মিয়ং-বো এবার সেই একই সাহস দেখাননি বলে সমালোচনা উঠেছে। বেঞ্চে বিকল্প থাকা সত্ত্বেও তাকে ব্যবহার না করায় কোচের ম্যাচ চলাকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

হারের পর বাড়ছে চাপ

মেক্সিকোর বিপক্ষে হারের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে এখন পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ফলাফলের পাশাপাশি দল নির্বাচন ও কৌশলগত সিদ্ধান্তও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

ফুটবলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই কোচের। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যদি ম্যাচের গতি এবং ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক। কাস্ত্রপকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত এখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বকাপে মেক্সিকোর কাছে হারের পর জেন্স কাস্ত্রপকে না খেলানো নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের সিদ্ধান্তে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সময়ের দূরত্বে পিতাকে নতুন করে আবিষ্কার

কাস্ত্রপকে না খেলানো নিয়ে প্রশ্ন, দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

০৭:২৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হারের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ং-বোর দল নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জেন্স কাস্ত্রপকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও মাঠে নামানো হয়নি কেন, তা নিয়ে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে।

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। সন হিউং-মিন, লি জে-সুং ও লি কাং-ইনের সমন্বয়ে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা দেখা গেলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি দলটি। দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ সাজানোর পরিকল্পনা থাকলেও সেখান থেকে কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে গোল হজম করে দক্ষিণ কোরিয়া। গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে মেক্সিকোর লুইস রোমো জয়ের গোলটি করেন। এরপর সমতায় ফেরার জন্য আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার খেলায় নতুনত্ব দেখা যায়নি।

কাস্ত্রপকে নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, জেন্স কাস্ত্রপ কোথায় ছিলেন? বিশ্বকাপের আগে জাতীয়তা পরিবর্তন করে দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া এই ফুটবলারকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বেশ বড়।

জার্মান ক্লাব ফুটবলে উইং-ব্যাক হিসেবে খেলা কাস্ত্রপ তার পরিশ্রম, গতি, প্রেসিং এবং আক্রমণে সহায়তা করার দক্ষতার জন্য পরিচিত। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও তিনি নজর কেড়েছিলেন। ফলে মূল টুর্নামেন্টে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হবে বলেই ধারণা করা হয়েছিল।

কিন্তু প্রথম ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকার পর মেক্সিকোর বিপক্ষেও এক মিনিটের জন্য মাঠে নামানো হয়নি তাকে। অথচ দক্ষিণ কোরিয়া যখন দুই প্রান্ত থেকে কার্যকর আক্রমণ গড়তে ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন কাস্ত্রপকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারত বলে মনে করছেন অনেকেই।

কোচের কৌশল নিয়ে আলোচনা

অবশ্য কাস্ত্রপকে না খেলানোর পেছনে কিছু যুক্তিও রয়েছে। তার আক্রমণাত্মক খেলার ধরন এবং সহজে হলুদ কার্ড পাওয়ার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে পিছিয়ে পড়ার পর যখন দল আক্রমণে গতি আনতে পারছিল না, তখন সেই ঝুঁকি নেওয়া প্রয়োজন ছিল বলেই মত অনেকের।

বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে সাহসী বদলির সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসিত হওয়া কোচ হং মিয়ং-বো এবার সেই একই সাহস দেখাননি বলে সমালোচনা উঠেছে। বেঞ্চে বিকল্প থাকা সত্ত্বেও তাকে ব্যবহার না করায় কোচের ম্যাচ চলাকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

হারের পর বাড়ছে চাপ

মেক্সিকোর বিপক্ষে হারের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে এখন পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ফলাফলের পাশাপাশি দল নির্বাচন ও কৌশলগত সিদ্ধান্তও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

ফুটবলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই কোচের। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যদি ম্যাচের গতি এবং ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক। কাস্ত্রপকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত এখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বকাপে মেক্সিকোর কাছে হারের পর জেন্স কাস্ত্রপকে না খেলানো নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের সিদ্ধান্তে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।