চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দারুণ লড়াই করেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে ১৮৯ রান তুললেও শেষ পর্যন্ত ৭ রানের ব্যবধানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। এর ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অগ্রগতি নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে সফরকারীরা।
রোমাঞ্চকর শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন হার্ডি দুইটি ওয়াইড দেওয়ার পাশাপাশি একটি ছক্কা ও একটি চারও হজম করেন। তবে শেষ বলে বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়কে ফিরিয়ে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। হৃদয় ৩৫ রান করে ধীরগতির বলে শট খেলতে গিয়ে টিম ডেভিডের হাতে ক্যাচ দেন।
বাংলাদেশের শক্তিশালী সূচনা
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লেতেই ১ উইকেটে ৭২ রান তোলে দলটি। তানজিদ হাসান ১৫ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। পরে সাইফ হাসান ইনিংসের হাল ধরে ৩৩ বলে ৪২ রান করেন।
সৌম্য সরকার দ্রুত ১৫ রান যোগ করেন। অন্যদিকে পারভেজ হোসেন ইমন ২২ বলে ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ১৩তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৩০, যা দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু ইমন ও সাইফ দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর রান তোলার গতি কমে যায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়ার দিকে চলে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস চার ওভারে ২৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের রানপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। হার্ডি নেন ২ উইকেট। এছাড়া অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস একটি করে উইকেট শিকার করেন।

রেনশ ও ডেভিডের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানো
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দলটির স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৪৪ রান। বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন।
বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে জশ ইংলিস ও নিখিল চৌধুরীকে ফেরান। নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমানও একটি করে উইকেট তুলে নেন। তাদের শিকারে ফেরেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ।
তবে এরপর ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রান করেন, যেখানে ছিল চারটি ছক্কা। পরে তিনি আবদুল গাফফার সাকলাইনের শিকার হন। সাকলাইন চার ওভারে ৫৩ রান দেন।
অন্যদিকে রেনশ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫২ বলে ৮৯ রান করে। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চার। এই ইনিংসই অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেও ৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপা নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজ
বাংলাদেশের লড়াই সত্ত্বেও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানের জয় পেয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















