একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, গবেষক ও সম্পাদক আল মুজাহিদী আর নেই। শুক্রবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
কবির ছেলে শাবিব আল মুজাহিদী তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বুধবার আল মুজাহিদীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দুইবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। শুক্রবার দুপুরে আবারও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে তাঁকে শক থেরাপি দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। পরে দুপুর দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের অবসান
আল মুজাহিদী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। সাহিত্যচর্চা ও সম্পাদনার মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
১৯৪৩ সালের ১৯ জুন টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন আল মুজাহিদী। সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে তাঁর পথচলা ছিল দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ। তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন যায়যায় দিন পত্রিকায়।
সম্পাদনা ও সাহিত্যকর্মে অবদান
জীবনের শেষ পর্যায়ে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো ষান্মাষিক সাহিত্যপত্র ‘নতুন এক মাত্রা’। কবিতা ছিল তাঁর সৃষ্টিশীলতার প্রধান ক্ষেত্র হলেও তিনি উপন্যাস, ছোটগল্প এবং শিশুসাহিত্যেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। এর মধ্যে ২০টির বেশি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। বহুমাত্রিক সাহিত্যসাধনার মাধ্যমে তিনি পাঠকমহলে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৩ সালে আল মুজাহিদীকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার। এছাড়া তিনি ‘জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার’, ‘কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার’, ‘মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার’, ‘শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার’ এবং ‘জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার’সহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলা সাহিত্য ও সম্পাদনা জগতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে সাহিত্যাঙ্গনে শোক। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় তিনি সাহিত্য সম্পাদনা ও সৃজনশীল লেখালেখিতে অবদান রেখেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















