০২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
সময়ের দূরত্বে পিতাকে নতুন করে আবিষ্কার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়, দরকার পেশাগত ন্যায়বিচারের কাঠামো একটি জাতির ভবিষ্যৎ শুধু নীতিতে নয়, সন্তান পালনের গল্পেও নির্ধারিত হয় এত বিপুল সংখ্যক শিশুমৃত্যু বাংলাদেশ আগে কখনও দেখেনি কেপ ভার্দের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, উরুগুয়ের বিপক্ষেও চমক দেখাতে প্রস্তুত ব্লু শার্কস বাবার নীরব ভালোবাসা: স্মৃতি, ত্যাগ আর অটুট বন্ধনের গল্প চালকের উদ্বেগ কমিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে ঝড় তুলেছে প্রোটন বাবার অসমান পায়ের পথচলার ঋণ শোধে জীবন উৎসর্গ মেয়ের বাবার ভালোবাসা সব সময় বলা হয় না, কখনও কখনও তা শুধু ত্যাগেই লেখা থাকে বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুটবল ফেডারেশন

আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ব্রিটিশ বার থেকে সাময়িক বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে আইন পেশা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তার বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ব্যারিস্টারদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (বিএসবি) শুক্রবার জানিয়েছে, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত করিম খানের আইনচর্চার অনুমতি স্থগিত থাকবে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর কয়েক দিন আগে আইসিসির তদারকি সংস্থা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, তিনি ‘গুরুতর অসদাচরণ’ এবং ‘দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘন’-এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

৫৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খানকে গত সপ্তাহে আইসিসিতে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালতের পরিচালন কাঠামোর নির্বাহী কমিটি ব্যুরোর সুপারিশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আগামী মাসে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে, তাকে স্থায়ীভাবে পদ থেকে অপসারণ করা হবে কি না।

অভিযোগ অস্বীকার

করিম খান শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবী দল জানিয়েছে, বিএসবির সিদ্ধান্ত আইসিসির তদারকি সংস্থার অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, করিম খান কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত ছিলেন না এবং ব্যুরোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হবে।

যৌন অসদাচরণের অভিযোগ

এই বিতর্কের সূত্রপাত এক নারী কর্মীর সঙ্গে অনুপযুক্ত সম্পর্ক এবং যৌন অসদাচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, করিম খান ওই নারীকে অন্য একটি বিভাগ থেকে নিজের কার্যালয়ে স্থানান্তর করেছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর ২০২৫ সালে জাতিসংঘের তদন্ত চলাকালে তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, করিম খান তার সহকারীর সঙ্গে একাধিক স্থানে, যার মধ্যে তার কার্যালয়, ব্যক্তিগত বাসভবন এবং একটি সরকারি সফরও ছিল, সম্মতি ছাড়া যৌন যোগাযোগে জড়িয়েছিলেন—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে পরে তিন বিচারকের একটি পৃথক পর্যালোচনা প্যানেল মত দেয় যে, উপস্থাপিত প্রমাণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।

ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো

আইসিসির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে এখন সিদ্ধান্ত নেবে ১২৫ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ। এ বিষয়ে ২৪ জুলাই নিউইয়র্কে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে করিম খানকে স্থায়ীভাবে অপসারণের প্রস্তাব পাস করতে অন্তত ৬৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপও রয়েছে

অভ্যন্তরীণ বিতর্কের পাশাপাশি করিম খান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কারণ, আদালত ইসরায়েল ও মার্কিন নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট কিছু তদন্ত পরিচালনা করছে।

২০২৪ সালে আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগ ছিল, গাজায় সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিছু দেশের ধারণা, করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আইসিসির ইসরায়েল-সংক্রান্ত তদন্তকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

গত এক বছর ধরে আইসিসির দুই উপপ্রধান কৌঁসুলি করিম খানের দায়িত্ব পালন করছেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করলে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে সাময়িকভাবে আইনচর্চা থেকে বিরত রেখেছে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আগামী মাসে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোট দেবে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

সময়ের দূরত্বে পিতাকে নতুন করে আবিষ্কার

আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ব্রিটিশ বার থেকে সাময়িক বরখাস্ত

০৯:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে আইন পেশা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তার বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ব্যারিস্টারদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (বিএসবি) শুক্রবার জানিয়েছে, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত করিম খানের আইনচর্চার অনুমতি স্থগিত থাকবে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর কয়েক দিন আগে আইসিসির তদারকি সংস্থা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, তিনি ‘গুরুতর অসদাচরণ’ এবং ‘দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘন’-এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

৫৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খানকে গত সপ্তাহে আইসিসিতে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালতের পরিচালন কাঠামোর নির্বাহী কমিটি ব্যুরোর সুপারিশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আগামী মাসে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে, তাকে স্থায়ীভাবে পদ থেকে অপসারণ করা হবে কি না।

অভিযোগ অস্বীকার

করিম খান শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবী দল জানিয়েছে, বিএসবির সিদ্ধান্ত আইসিসির তদারকি সংস্থার অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, করিম খান কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত ছিলেন না এবং ব্যুরোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হবে।

যৌন অসদাচরণের অভিযোগ

এই বিতর্কের সূত্রপাত এক নারী কর্মীর সঙ্গে অনুপযুক্ত সম্পর্ক এবং যৌন অসদাচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, করিম খান ওই নারীকে অন্য একটি বিভাগ থেকে নিজের কার্যালয়ে স্থানান্তর করেছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর ২০২৫ সালে জাতিসংঘের তদন্ত চলাকালে তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, করিম খান তার সহকারীর সঙ্গে একাধিক স্থানে, যার মধ্যে তার কার্যালয়, ব্যক্তিগত বাসভবন এবং একটি সরকারি সফরও ছিল, সম্মতি ছাড়া যৌন যোগাযোগে জড়িয়েছিলেন—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে পরে তিন বিচারকের একটি পৃথক পর্যালোচনা প্যানেল মত দেয় যে, উপস্থাপিত প্রমাণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।

ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো

আইসিসির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে এখন সিদ্ধান্ত নেবে ১২৫ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ। এ বিষয়ে ২৪ জুলাই নিউইয়র্কে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে করিম খানকে স্থায়ীভাবে অপসারণের প্রস্তাব পাস করতে অন্তত ৬৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপও রয়েছে

অভ্যন্তরীণ বিতর্কের পাশাপাশি করিম খান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কারণ, আদালত ইসরায়েল ও মার্কিন নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট কিছু তদন্ত পরিচালনা করছে।

২০২৪ সালে আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগ ছিল, গাজায় সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিছু দেশের ধারণা, করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আইসিসির ইসরায়েল-সংক্রান্ত তদন্তকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

গত এক বছর ধরে আইসিসির দুই উপপ্রধান কৌঁসুলি করিম খানের দায়িত্ব পালন করছেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করলে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে সাময়িকভাবে আইনচর্চা থেকে বিরত রেখেছে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আগামী মাসে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোট দেবে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো।