রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার জন্য অভিন্ন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) নির্ধারণ এবং প্রস্তাবিত উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি (বিআরওএ)। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন বিআরওএ নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি বলেন, বিদ্যমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের অস্থিরতার মধ্যেও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। তবে বিদ্যুৎ ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাত গভীর সংকটে পড়লেও প্রস্তাবিত বাজেটে সেই সংকটের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি।
ব্যবসা পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা
ইমরান হাসান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, ব্যবসায়ীরা সর্বত্র হয়রানি ও জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি নবগঠিত সরকারের কাছে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিন্ন ভ্যাটের প্রস্তাব
বিআরওএর অন্যতম প্রধান দাবি হলো রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার জন্য সমান হারে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ। বর্তমানে রেস্তোরাঁগুলো ৫ শতাংশ ভ্যাট দিলেও ক্যাটারিং সেবার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। সংগঠনটির মতে, এই বৈষম্য বাজারে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে।
এছাড়া সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পথের খাবার বিক্রেতাসহ সব ধরনের খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
নিত্যপণ্যে কর প্রত্যাহারের আহ্বান
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে প্রস্তাবিত ০.৫ শতাংশ উৎসে কর এবং ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এসব কর আরোপ করলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
ঋণ সুবিধা ও ভ্যাট ব্যবস্থার দাবি
ঢাকার বাইরে নতুন রেস্তোরাঁর যন্ত্রপাতিতে প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ অবচয় সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় বিআরওএ। একই সঙ্গে খাতটির জন্য স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত তিন মাস অন্তর ভ্যাট পরিশোধ ব্যবস্থার বিরোধিতা করে সংগঠনটি আগের মতো মাসিক ভ্যাট পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানায়।
ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের দাবি
বিআরওএর দাবি, একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি পৃথক অনুমোদন নিতে হয়, যা হয়রানি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সমন্বিত কমপ্লায়েন্স কাঠামোর আওতায় দ্রুত ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি রেস্তোরাঁ শিল্পের জন্য পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং ট্রেড অর্গানাইজেশন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন রেস্তোরাঁ চালুর ক্ষেত্রে বিআরওএর সদস্যপদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিআরওএর সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রেস্তোরাঁ খাতে অভিন্ন ৫ শতাংশ ভ্যাট, নিত্যপণ্যে প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহার এবং হয়রানিমুক্ত ব্যবসা পরিবেশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















