দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াল স্ট্রিটের অন্যতম রহস্যময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত জেন স্ট্রিট। নিজেদের অর্থ দিয়ে লেনদেন, গোপন অ্যালগরিদমভিত্তিক ট্রেডিং এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকার সংস্কৃতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে খুব কম তথ্যই জনসমক্ষে এসেছে। তবে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বড় বিনিয়োগকারী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে সামনে আসছে।
একসময় হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা জেন স্ট্রিটে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কর্মী কাজ করছেন। চলতি বছর আরও ৫০০ জনের বেশি নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য শুধু ট্রেডিং ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়, বরং এআই প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা এবং উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা।
এআইকে ঘিরে নতুন কৌশল
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপনীয় ছিল না; বরং প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি এমন ছিল যেখানে প্রকৌশলী, গণিতবিদ এবং গবেষকেরা প্রচারের চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু এআই খাতে বড় ভূমিকা রাখতে হলে এখন জনসমক্ষে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
এআই বিপ্লব শুরু হওয়ার পর থেকে জেন স্ট্রিট প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। বর্তমানে তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য এআই প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
বড় অঙ্কের বিনিয়োগ
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি এআই কম্পিউটিং কোম্পানিতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি তাদের ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহারে ৬০০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। এই পদক্ষেপকে এআই খাতে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেন স্ট্রিট আরও কয়েকটি এআইভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে এবং সফটওয়্যার উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা বলছেন, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অসাধারণ মুনাফার গল্প
জেন স্ট্রিটের সাফল্যের বড় কারণ তাদের বাজার বিশ্লেষণ সক্ষমতা। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন শেয়ার, বন্ড, পণ্য এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদের মূল্যগত পার্থক্য শনাক্ত করে দ্রুত লেনদেনের মাধ্যমে লাভ করে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ১৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ট্রেডিং আয়ের বিপরীতে ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে বলে জানা গেছে। এই মুনাফা ওয়াল স্ট্রিটের অনেক বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে।
সংস্কৃতিতে এখনও ভিন্নতা
অফিসের পরিবেশেও জেন স্ট্রিট অন্যদের থেকে আলাদা। কর্মীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির হিসাব প্রকাশ্যে প্রদর্শনের বদলে দলগত কাজকে উৎসাহ দেওয়া হয়। প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশ এবং গবেষণাভিত্তিক চিন্তাভাবনাই প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়ের মূল অংশ।
তবে প্রতিষ্ঠানটির সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আইনি বিতর্ক এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেন স্ট্রিট।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রেই রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তাই ট্রেডিং ব্যবসাকে আরও উন্নত করতে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্যোগে অংশ নিতে জেন স্ট্রিট আগামী বছরগুলোতে এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে। একসময়ের নীরব ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান এখন নিজেকে একটি প্রভাবশালী এআই শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
জেন স্ট্রিটের এআই বিনিয়োগ ও ট্রেডিং সাফল্য নিয়ে নতুন কৌশল। রহস্যময় প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রযুক্তি খাতে বড় ভূমিকা নিতে চায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















