০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
৯০ কোটি ডলারের রোবট বাজি: ডিপসিক থেকে টেনসেন্ট—চীনের সব বড় শক্তি কেন ইউনিট্রির পাশে? জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপেও থামছে না ইয়েনের পতন, আস্থার সংকটেই কি আসল সমস্যা? থাইল্যান্ড সীমান্ত বন্ধ, জাপানি কোম্পানির ভরসা এখন কম্বোডিয়ার গভীর সমুদ্রবন্দর প্রধানমন্ত্রী: একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় চীনে গ্রীষ্মের ছুটিতে কোচিংয়ের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিক্ষক ‘এক দফা’ কোনো নেতার ঘোষণা নয়, এটি জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন: নুরুল হক নুর ১/১১-তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ আটকে নির্যাতন: চিফ প্রসিকিউটর কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিলোমিটারের বেশি যানজট, দুর্ভোগে যাত্রী-চালক ভারতের পরমাণু সাবমেরিনে নতুন বিপদ: পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে? টাইফুন ডলফিনের তাণ্ডব: জাপানের ওকিনাওয়ায় ৫ আহত, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ১৪ হাজার ভবনে

চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য আদালতের অভিযান জোরদারের দাবি, ভ্রাম্যমান আদালত বাড়ানোর আহ্বান

চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর শাখা। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে চলমান অনিয়ম রোধে নিয়মিত ও বিস্তৃত অভিযানই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

গত ২০ জুন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত নিরাপদ খাদ্য আদালতের ভ্রাম্যমান অভিযানে একাধিক খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ময়মনসিংহ এগ্রোসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

অভিযানে কী পাওয়া গেল

ভ্রাম্যমান আদালতের পরিদর্শনে খাদ্যপণ্য উৎপাদনে পোড়াতেলের ব্যবহার, খাদ্যদ্রব্যে প্লাস্টিকজাত ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি, প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, নির্ধারিত নিয়ম না মেনে মোড়কীকরণ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজনের মতো অভিযোগ উঠে আসে।

এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপস্থিতিতে খাদ্য উৎপাদন, নিম্নমানের খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ এবং খাদ্য স্পর্শক হিসেবে খোলা কাগজ ও সংবাদপত্র ব্যবহারের মতো অনিয়মও চিহ্নিত হয়।

আদালতের নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপদ খাদ্য আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

ক্যাবের প্রতিক্রিয়া

২১ জুন গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাব নেতারা আদালতের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মাঠপর্যায়ে আরও বেশি সংখ্যক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তারা খাদ্যে ভেজাল, নিম্নমান ও প্রতারণার শিকার হলেও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকার পাওয়া যায় না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিরাপদ ও নিম্নমানের খাদ্যের কারণে খাদ্যবাহিত নানা রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রোগীর চাপ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই বলেও মত দেন তারা।

অনুকরণীয় উদ্যোগের স্বীকৃতি

ক্যাব নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালতের প্রচলিত কার্যক্রমের বাইরে সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরিচালিত এই ধরনের অভিযান জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকারসহ নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় আদালতের সক্রিয় ভূমিকা সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকুসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য আদালতের অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরা পড়ার পর ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছে ক্যাব।

জনপ্রিয় সংবাদ

৯০ কোটি ডলারের রোবট বাজি: ডিপসিক থেকে টেনসেন্ট—চীনের সব বড় শক্তি কেন ইউনিট্রির পাশে?

চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য আদালতের অভিযান জোরদারের দাবি, ভ্রাম্যমান আদালত বাড়ানোর আহ্বান

০৪:৩২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর শাখা। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে চলমান অনিয়ম রোধে নিয়মিত ও বিস্তৃত অভিযানই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

গত ২০ জুন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত নিরাপদ খাদ্য আদালতের ভ্রাম্যমান অভিযানে একাধিক খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ময়মনসিংহ এগ্রোসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

অভিযানে কী পাওয়া গেল

ভ্রাম্যমান আদালতের পরিদর্শনে খাদ্যপণ্য উৎপাদনে পোড়াতেলের ব্যবহার, খাদ্যদ্রব্যে প্লাস্টিকজাত ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি, প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, নির্ধারিত নিয়ম না মেনে মোড়কীকরণ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজনের মতো অভিযোগ উঠে আসে।

এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপস্থিতিতে খাদ্য উৎপাদন, নিম্নমানের খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ এবং খাদ্য স্পর্শক হিসেবে খোলা কাগজ ও সংবাদপত্র ব্যবহারের মতো অনিয়মও চিহ্নিত হয়।

আদালতের নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপদ খাদ্য আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

ক্যাবের প্রতিক্রিয়া

২১ জুন গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাব নেতারা আদালতের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মাঠপর্যায়ে আরও বেশি সংখ্যক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তারা খাদ্যে ভেজাল, নিম্নমান ও প্রতারণার শিকার হলেও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকার পাওয়া যায় না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিরাপদ ও নিম্নমানের খাদ্যের কারণে খাদ্যবাহিত নানা রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রোগীর চাপ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই বলেও মত দেন তারা।

অনুকরণীয় উদ্যোগের স্বীকৃতি

ক্যাব নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালতের প্রচলিত কার্যক্রমের বাইরে সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরিচালিত এই ধরনের অভিযান জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকারসহ নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় আদালতের সক্রিয় ভূমিকা সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকুসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য আদালতের অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরা পড়ার পর ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছে ক্যাব।