জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আঘাতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪ হাজার ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে ঝড়টির চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কায় দেশটি বন্দর ও ফেরি চলাচল বন্ধসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
ওকিনাওয়ায় প্রবল বাতাস ও ক্ষয়ক্ষতি
জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে টাইফুন ডলফিন ওকিনাওয়ার কুমে দ্বীপের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছিল ঝড়টি।
ওকিনাওয়া প্রিফেকচারাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজন বয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রবল বাতাসের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে আহত হন। তবে কারও আঘাতই প্রাণঘাতী নয়।
টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার, আর ঝোড়ো বাতাসের সর্বোচ্চ গতি উঠেছে ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত। ওকিনাওয়া ও কাগোশিমা প্রিফেকচারের আমামি দ্বীপপুঞ্জকে জাপানের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঝড়ের কারণে জাপানের দুটি বড় অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা এএনএ ও জাপান এয়ারলাইনস অঞ্চলটিতে বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে।
চীনের উপকূলে সর্বোচ্চ সতর্কতা
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, টাইফুন ডলফিন রোববার গভীর রাত থেকে সোমবারের প্রথমভাগের মধ্যে দেশটির পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঝড়টির সম্ভাব্য আঘাতস্থল হিসেবে ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝোউশান শহর থেকে ফুজিয়ান প্রদেশের ফুদিং শহরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতি সেকেন্ডে ৩৮ থেকে ৪৫ মিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। পূর্ব চীনে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের প্রভাব থাকতে পারে। ঝেজিয়াংয়ের পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকি মোকাবিলায় ঝেজিয়াং উপকূলীয় টাইফুন সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। বন্ধ করা হয়েছে বন্দর কার্যক্রম এবং ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি রুট স্থগিত করা হয়েছে। নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং রোববারের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

এদিকে সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দরে শুক্রবার রাতের মধ্যেই জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়। ঝড়ের কারণে ইয়াংজি নদী অববাহিকার ডেল্টা অঞ্চলে রোববার থেকে কিছু রেলসেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানেও ফ্লাইট বাতিল, বাড়ছে উত্তেজনা
টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানে ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো এলাকায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি।
টাইফুন ডলফিনের কারণে তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে চীনের আরোপিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। তাইওয়ান এ সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল সীমিত করার অধিকার বেইজিংয়ের নেই।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইওয়ান প্রণালির ওপরও দাবি জানায়। তবে তাইপে ও ওয়াশিংটন উভয়েই চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















