০৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
ভারতে হিন্দুত্ববাদের উত্থানের জন্য নেহরুভিয়ান এলিটরা দায়ী নয় ভারতের বন্যা ও অতি বৃষ্টির পেছনে মানুষের হাত, নতুন গবেষণায় মিলল স্পষ্ট প্রমাণ জি-৭: বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির প্রভাবশালী মঞ্চের পাঁচ দশকের যাত্রা খরাপ্রবণ রায়দুর্গমে ফিরছে প্রাণ, পানি সংরক্ষণে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি ও কৃষির চিত্র চীনের উত্থানের নতুন ভাষা: যুদ্ধজাহাজ নয়, প্রভাবের কূটনীতি নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর নয়, জোটের পরিণত রূপ: দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা ভারতে তীব্র গরমে দিনমজুরের সুরক্ষা, তাপমাত্রা বাড়লেই মিলছে আর্থিক সহায়তা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ফের উত্তাল যন্তর মন্তর, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আসামে ভ্রমণে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক আস্থার নতুন বার্তা লেবাননের সমুদ্র কচ্ছপের অভিভাবক মোনা খলিল আর নেই, হামলায় আহত হয়ে মৃত্যু

সিলেট-উত্তরে বন্যার শঙ্কা, ৭২ ঘণ্টার সতর্কবার্তা

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট বিভাগ এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা জাফলং ও সাদা পাথরেও পানি প্রবেশ করেছে।

নদীর পানি বাড়ছে দ্রুত

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশসহ বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও পঞ্চগড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর প্রভাবে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে আশপাশের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও বাড়ছে উদ্বেগ

দেশের উত্তরাঞ্চলেও তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার কিছু এলাকায় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে বা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হাওর এলাকায় পানি প্রবেশ

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। এতে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক এবং জনজীবনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলে নতুন করে ভারী বর্ষণ হলে তিস্তা অববাহিকার এলাকাগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন

বর্তমানে দেশের প্রধান নদীগুলোর বেশিরভাগই বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কয়েকটি নদীর পানি সতর্কতা স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি নদী ও নিম্নাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে আগামী কয়েক দিনে বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে হিন্দুত্ববাদের উত্থানের জন্য নেহরুভিয়ান এলিটরা দায়ী নয়

সিলেট-উত্তরে বন্যার শঙ্কা, ৭২ ঘণ্টার সতর্কবার্তা

০৬:৫৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট বিভাগ এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা জাফলং ও সাদা পাথরেও পানি প্রবেশ করেছে।

নদীর পানি বাড়ছে দ্রুত

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশসহ বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও পঞ্চগড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর প্রভাবে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে আশপাশের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও বাড়ছে উদ্বেগ

দেশের উত্তরাঞ্চলেও তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার কিছু এলাকায় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে বা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হাওর এলাকায় পানি প্রবেশ

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। এতে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক এবং জনজীবনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলে নতুন করে ভারী বর্ষণ হলে তিস্তা অববাহিকার এলাকাগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন

বর্তমানে দেশের প্রধান নদীগুলোর বেশিরভাগই বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কয়েকটি নদীর পানি সতর্কতা স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি নদী ও নিম্নাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে আগামী কয়েক দিনে বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা।