০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আইনি সহায়তায় ব্রিটেনের কর্মসংস্থান আদালতে মামলার জোয়ার কারখানায় কর্মীদের নড়াচড়া নজরদারিতে নিসানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপত্তায় সাশ্রয় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার আফ্রিকার জন্য ছোট, সাশ্রয়ী ও স্থানীয় ভাষাভিত্তিক এআইয়ের নতুন বিপ্লব ট্রাম্পের প্রচার ও হোয়াইট হাউসের পোস্ট থেকে টেইলর সুইফটের গান সরানো হলো বাংলাদেশে ভোটার সংখ্যা বেড়ে ১২ কোটি ৮৬ লাখ, স্থানীয় নির্বাচনের আগে নতুন হালনাগাদ শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টের ষড়যন্ত্র রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভাসমান পেয়ারা বাজারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নৌকায় ঘুরে খেলেন দেশি পেয়ারা চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা ঠেকাল বিজিবি, দুই নারীসহ ৩ জন ফেরত যশোরে ঘরের ভেতর মা-ছেলের মরদেহ, ঘটনাটি ‘সন্দেহজনক’ বলছে পুলিশ মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, পালিয়ে বাঁচল অন্যরা

খরাপ্রবণ রায়দুর্গমে ফিরছে প্রাণ, পানি সংরক্ষণে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি ও কৃষির চিত্র

একসময় পানির তীব্র সংকটের জন্য পরিচিত ছিল ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের অনন্তপুর জেলার রায়দুর্গম অঞ্চল। বছরের পর বছর কম বৃষ্টিপাত, লাল বেলে মাটি এবং দীর্ঘ খরার কারণে এলাকাটি অনেকের কাছে মরুভূমিসদৃশ বলে পরিচিত ছিল। তবে স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, পানি সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ফলে এখন বদলে যেতে শুরু করেছে এই জনপদের চেহারা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিচালিত একটি বৃহৎ পানি সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় চার শতাধিক গ্রামবাসী বন বিভাগের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল শুকিয়ে যাওয়া জলাধার পুনরুদ্ধার, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব এখন শুধু বনাঞ্চলেই নয়, আশপাশের কৃষিজমিতেও দৃশ্যমান।

পানি ধরে রাখার বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ

প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাধার ও পুকুরগুলো থেকে পলি অপসারণ করা হয়েছে। এতে পানি ধারণক্ষমতা বেড়েছে এবং বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ জলাধার পুনরায় পূরণ করতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার দেশীয় গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে, যা সবুজায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটির ক্ষয়ও কমিয়েছে।

একসময় অনুর্বর ও শুকনো ভূমি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে এখন দেখা যাচ্ছে সবুজ গাছপালা এবং ছোট-বড় জলাধারের উপস্থিতি। আকাশ থেকে তাকালে লাল মাটির মধ্যে নীল জলাধার ও সবুজ বনভূমির দৃশ্য নতুন আশার বার্তা দেয়।

কৃষি ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন

রায়দুর্গমে বছরে গড়ে মাত্র ৪৫০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ফলে পানি সংরক্ষণ এখানকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুনরুদ্ধার হওয়া জলাধারগুলো এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কৃষিজমিতে পানির প্রাপ্যতা বাড়ায় চাষাবাদের সম্ভাবনাও উন্নত হচ্ছে।

Bringing life back to a thirsty land | The Hindu (Kozhikode) | PressReader

বনাঞ্চলের ভেতর নতুন ছোট জলাশয় তৈরি করায় বন্যপ্রাণীরাও উপকৃত হচ্ছে। চিতা, ভালুক, বুনো শূকরসহ বিভিন্ন প্রাণী এখন শুষ্ক মৌসুমেও পানির উৎস খুঁজে পাচ্ছে। এতে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ফিরছে প্রকৃতির রঙ

পানি ও সবুজায়ন বৃদ্ধির ফলে এলাকায় মৌমাছি, প্রজাপতি এবং নানা প্রজাতির পাখির সংখ্যা বেড়েছে। দেশীয় ফুলের সমারোহও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। পরিবেশবিদদের মতে, এটি জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

একসময় যে জমি আবর্জনা ফেলা ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হতো, সেটি এখন সুরক্ষিত সবুজ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বনাঞ্চল ঘিরে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করায় দখল ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও কমেছে।

এখনও রয়েছে চ্যালেঞ্জ

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও রায়দুর্গমের সব এলাকায় পানি সংকট পুরোপুরি দূর হয়নি। কিছু অঞ্চলে এখনও পানির অভাব রয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবু রায়দুর্গমের চলমান পরিবর্তন প্রমাণ করছে, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং প্রকৃতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে খরাপীড়িত অঞ্চলও নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে।

খরাপ্রবণ রায়দুর্গমে পানি সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগে ফিরছে সবুজ প্রকৃতি, বাড়ছে জীববৈচিত্র্য ও কৃষির সম্ভাবনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আইনি সহায়তায় ব্রিটেনের কর্মসংস্থান আদালতে মামলার জোয়ার

খরাপ্রবণ রায়দুর্গমে ফিরছে প্রাণ, পানি সংরক্ষণে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি ও কৃষির চিত্র

০৭:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

একসময় পানির তীব্র সংকটের জন্য পরিচিত ছিল ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের অনন্তপুর জেলার রায়দুর্গম অঞ্চল। বছরের পর বছর কম বৃষ্টিপাত, লাল বেলে মাটি এবং দীর্ঘ খরার কারণে এলাকাটি অনেকের কাছে মরুভূমিসদৃশ বলে পরিচিত ছিল। তবে স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, পানি সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ফলে এখন বদলে যেতে শুরু করেছে এই জনপদের চেহারা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিচালিত একটি বৃহৎ পানি সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় চার শতাধিক গ্রামবাসী বন বিভাগের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল শুকিয়ে যাওয়া জলাধার পুনরুদ্ধার, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব এখন শুধু বনাঞ্চলেই নয়, আশপাশের কৃষিজমিতেও দৃশ্যমান।

পানি ধরে রাখার বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ

প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাধার ও পুকুরগুলো থেকে পলি অপসারণ করা হয়েছে। এতে পানি ধারণক্ষমতা বেড়েছে এবং বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ জলাধার পুনরায় পূরণ করতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার দেশীয় গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে, যা সবুজায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটির ক্ষয়ও কমিয়েছে।

একসময় অনুর্বর ও শুকনো ভূমি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে এখন দেখা যাচ্ছে সবুজ গাছপালা এবং ছোট-বড় জলাধারের উপস্থিতি। আকাশ থেকে তাকালে লাল মাটির মধ্যে নীল জলাধার ও সবুজ বনভূমির দৃশ্য নতুন আশার বার্তা দেয়।

কৃষি ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন

রায়দুর্গমে বছরে গড়ে মাত্র ৪৫০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ফলে পানি সংরক্ষণ এখানকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুনরুদ্ধার হওয়া জলাধারগুলো এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কৃষিজমিতে পানির প্রাপ্যতা বাড়ায় চাষাবাদের সম্ভাবনাও উন্নত হচ্ছে।

Bringing life back to a thirsty land | The Hindu (Kozhikode) | PressReader

বনাঞ্চলের ভেতর নতুন ছোট জলাশয় তৈরি করায় বন্যপ্রাণীরাও উপকৃত হচ্ছে। চিতা, ভালুক, বুনো শূকরসহ বিভিন্ন প্রাণী এখন শুষ্ক মৌসুমেও পানির উৎস খুঁজে পাচ্ছে। এতে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ফিরছে প্রকৃতির রঙ

পানি ও সবুজায়ন বৃদ্ধির ফলে এলাকায় মৌমাছি, প্রজাপতি এবং নানা প্রজাতির পাখির সংখ্যা বেড়েছে। দেশীয় ফুলের সমারোহও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। পরিবেশবিদদের মতে, এটি জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

একসময় যে জমি আবর্জনা ফেলা ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হতো, সেটি এখন সুরক্ষিত সবুজ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বনাঞ্চল ঘিরে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করায় দখল ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও কমেছে।

এখনও রয়েছে চ্যালেঞ্জ

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও রায়দুর্গমের সব এলাকায় পানি সংকট পুরোপুরি দূর হয়নি। কিছু অঞ্চলে এখনও পানির অভাব রয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবু রায়দুর্গমের চলমান পরিবর্তন প্রমাণ করছে, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং প্রকৃতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে খরাপীড়িত অঞ্চলও নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে।

খরাপ্রবণ রায়দুর্গমে পানি সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগে ফিরছে সবুজ প্রকৃতি, বাড়ছে জীববৈচিত্র্য ও কৃষির সম্ভাবনা।