দেশের বড় সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পে বিদেশি পরামর্শকের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগ করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস বাংলাদেশ (আইএমসিবি)।
রোববার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশের অনেক দক্ষ পরামর্শক ইতোমধ্যে বিদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। এটি প্রমাণ করে যে স্থানীয় পেশাজীবীরা আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা অর্জন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইএমসিবির সভাপতি নাদিম এ. চৌধুরী, চেয়ারম্যান এম জাকির হোসেন এবং উপদেষ্টা কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুর রব। তারা আসন্ন বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সংগঠনের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
স্থানীয় ও বিদেশি পরামর্শকদের পারিশ্রমিক বৈষম্য
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইএমসিবি নেতারা বলেন, একই ধরনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি পরামর্শকদের স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এই প্রবণতাকে তারা অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।
তাদের মতে, দেশীয় মানবসম্পদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যয় বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের নিয়োগদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সক্ষমতা
আইএমসিবির সভাপতি নাদিম এ. চৌধুরী জানান, ১৯৯৭ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি বর্তমানে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ইনস্টিটিউটস (আইসিএমসিআই)-এর স্থায়ী সদস্য।
এই সদস্যপদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ‘সার্টিফায়েড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট (সিএমসি)’ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এর ফলে দেশীয় পরামর্শকরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত দক্ষতা, নৈতিক মানদণ্ড ও সক্ষমতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হন।

পেশাগত মানোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ
আইএমসিবির চেয়ারম্যান এম জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যবস্থাপনা পরামর্শক খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও বাজারটি অনেকাংশে বিচ্ছিন্ন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে অনেক সময় গ্রাহকদের জন্য দক্ষ ও প্রত্যয়নপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি তাদের গঠনতন্ত্র হালনাগাদ করছে এবং পেশাগত আচরণবিধি বাস্তবায়ন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও স্বাধীন পেশাগত মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।
বার্ষিক সম্মেলনে নতুন লক্ষ্য
আইএমসিবি জানিয়েছে, আসন্ন বার্ষিক সম্মেলনকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। সেখানে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং (পিজিডিএমসি) এবং সিএমসি স্বীকৃতি সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে জ্বালানি, অবকাঠামো, অর্থনীতি ও নিয়ন্ত্রক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পেশাদার পরামর্শক সেবার বিস্তার ঘটানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
দেশীয় ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়
দেশীয় বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগালে বড় প্রকল্পে ব্যয় কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পেশাজীবীদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে আইএমসিবি।
দেশীয় পরামর্শকদের অগ্রাধিকার দিলে বড় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মত দিয়েছে সংগঠনটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















