১০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুদ্ধ: মানবতার সামনে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা নিখোঁজের ছয় দিন পর ঝোপ থেকে স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদে সহপাঠী চীনের তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ, হরমুজ খুললেও মধ্যপ্রাচ্যের তেলে দ্রুত ফিরছে না বেইজিং স্কুলে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পিটিএ জরুরি, বলছেন শিক্ষাবিদরা কাজাখস্তানে সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন: কম অপচয়ে বাড়ছে ফলন, বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র ২০২৬ সালে বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে নতুন ঝুঁকি: দাম বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা নতুন দুই মৃত্যু, ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে ৯; আক্রান্ত প্রায় ৫ হাজার নামাজরত অবস্থায় মসজিদে ভাইকে কুপিয়ে হত্যা, জমি বিরোধে বরিশালে চাঞ্চল্য গাইবান্ধায় স্কুল পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিবির নেতা নিহত তিস্তা-ধরলা-দুধকুমারে পানি বৃদ্ধি, রংপুরে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

স্কুলে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পিটিএ জরুরি, বলছেন শিক্ষাবিদরা

বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া কমাতে অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি (পিটিএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তাদের মতে, স্কুল, পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা ছাড়া শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

রোববার ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত “পিটিএ শক্তিশালীকরণ ও এফএলএন ক্যাচ-আপ উদ্যোগের সূচনা: একসঙ্গে শেখা” শীর্ষক জ্ঞান বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সরকারি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।

ঝরে পড়া রোধে পিটিএর গুরুত্ব

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার আগেই ঝরে পড়ে। এর একটি কারণ শ্রেণিকক্ষে পাঠ ঠিকমতো বুঝতে না পারা। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ডায়াগনস্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শুধু কেন্দ্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর করলে হবে না। অভিভাবকদের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে নতুন সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, পিটিএ শিক্ষা খাতের অন্যতম কম ব্যবহৃত সম্পদ। কার্যকরভাবে সক্রিয় করা গেলে এটি শিক্ষক জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্র্যাকের গবেষণায় যা উঠে এসেছে

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির প্রোগ্রাম হেড (ডেভেলপমেন্ট) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি দূর করার জন্য ক্যাচ-আপ লার্নিং কর্মসূচির পরিচয় দেন।

ব্র্যাকের বাস্তবায়নাধীন পিটিএ শক্তিশালীকরণ প্রকল্প বর্তমানে রংপুর জেলার সদর, বদরগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলার ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো পিটিএর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ জোরদারের মাধ্যমে সামাজিক জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা।

এ প্রকল্পের প্রভাব, সম্ভাবনা ও শিক্ষণীয় দিক মূল্যায়নে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কার্যকর পিটিএ থাকা বিদ্যালয়গুলোতে শিশুশ্রমের হার তুলনামূলকভাবে কম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি এবং মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পরিচালিত হয়।

শেখার ঘাটতি পূরণে ক্যাচ-আপ কর্মসূচি

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি মোকাবিলায় ব্র্যাক ‘অ্যাকসেলারেটেড ক্যাচ-আপ লার্নিং প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। তিন বছর মেয়াদি এ কর্মসূচি দেশের ছয়টি উপজেলায় ৭৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়িত হবে।

কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরুদ্ধারমূলক এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিরোধমূলক সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পাঠ, লেখা ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতায় দ্রুত উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হবে।

সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর জোর

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা প্রফুল্ল চন্দ্র বর্মন বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও শিক্ষকের যৌথ অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সন্তানদের শিক্ষায় অভিভাবকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা শিক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যকর পিটিএ গড়ে তোলা এবং শেখার ঘাটতি পূরণে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুদ্ধ: মানবতার সামনে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা

স্কুলে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পিটিএ জরুরি, বলছেন শিক্ষাবিদরা

০৯:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া কমাতে অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি (পিটিএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তাদের মতে, স্কুল, পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা ছাড়া শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

রোববার ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত “পিটিএ শক্তিশালীকরণ ও এফএলএন ক্যাচ-আপ উদ্যোগের সূচনা: একসঙ্গে শেখা” শীর্ষক জ্ঞান বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সরকারি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।

ঝরে পড়া রোধে পিটিএর গুরুত্ব

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার আগেই ঝরে পড়ে। এর একটি কারণ শ্রেণিকক্ষে পাঠ ঠিকমতো বুঝতে না পারা। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ডায়াগনস্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শুধু কেন্দ্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর করলে হবে না। অভিভাবকদের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে নতুন সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, পিটিএ শিক্ষা খাতের অন্যতম কম ব্যবহৃত সম্পদ। কার্যকরভাবে সক্রিয় করা গেলে এটি শিক্ষক জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্র্যাকের গবেষণায় যা উঠে এসেছে

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির প্রোগ্রাম হেড (ডেভেলপমেন্ট) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি দূর করার জন্য ক্যাচ-আপ লার্নিং কর্মসূচির পরিচয় দেন।

ব্র্যাকের বাস্তবায়নাধীন পিটিএ শক্তিশালীকরণ প্রকল্প বর্তমানে রংপুর জেলার সদর, বদরগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলার ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো পিটিএর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ জোরদারের মাধ্যমে সামাজিক জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা।

এ প্রকল্পের প্রভাব, সম্ভাবনা ও শিক্ষণীয় দিক মূল্যায়নে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কার্যকর পিটিএ থাকা বিদ্যালয়গুলোতে শিশুশ্রমের হার তুলনামূলকভাবে কম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি এবং মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পরিচালিত হয়।

শেখার ঘাটতি পূরণে ক্যাচ-আপ কর্মসূচি

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি মোকাবিলায় ব্র্যাক ‘অ্যাকসেলারেটেড ক্যাচ-আপ লার্নিং প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। তিন বছর মেয়াদি এ কর্মসূচি দেশের ছয়টি উপজেলায় ৭৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়িত হবে।

কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরুদ্ধারমূলক এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিরোধমূলক সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পাঠ, লেখা ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতায় দ্রুত উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হবে।

সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর জোর

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা প্রফুল্ল চন্দ্র বর্মন বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও শিক্ষকের যৌথ অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সন্তানদের শিক্ষায় অভিভাবকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা শিক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যকর পিটিএ গড়ে তোলা এবং শেখার ঘাটতি পূরণে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।