লেখাটি গতকাল লেখার ইচ্ছে ছিল। গতকাল লিখলে হয়তো অন্যভাবে শুরু হতো লেখাটা। কাকতালীয়ভাবে ২২ জুন বিকেলে লিখতে বসেই মনে পড়লো আজ বিপ্লবী গণেশ ঘোষের জন্মদিন। গণেশ ঘোষ নামটি আমাদের বালক বয়সেও রক্তে দোলা দিত। তাঁর নাম মনে এলেই সুকান্তর ওই লাইনগুলো ঠোঁটে এসে যেত— “ওরা বীর, ওরা আকাশে জাগাতো ঝড়… ওদের কাহিনী গুলি বন্দুক আর বোমার আগুনে আজও রোমাঞ্চকর”।
এখনও মনে পড়ে বালক বয়সেই বাবার কাছে “চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন” কথাটি বলে ধমক খেয়েছিলাম। যার থেকে বেশি স্নেহ ও কোমল ব্যবহার আজও পৃথিবীতে অন্য কারও কাছে পাইনি, তিনি বেশ শক্ত গলায় বলেছিলেন, “লুণ্ঠন” মানে কি? মাথা নিচু করে বলেছিলাম লুঠ করা? তিনি এবার শান্ত গলায় বলেন, লুঠ কারা করে? মাথা নিচু করে উত্তর দিয়েছিলাম— চোর, ডাকাত বা দস্যু।
সুভাষ বসুর অনুসারী বাবা কপালে একটু হাত ঠেকিয়ে বললেন, মাস্টার দা সূর্য সেন, অনন্ত সিং, গণেশ ঘোষ কে? ওই নত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলেছিলাম, বিপ্লবী। বাবা একটু সংশোধন করে দিয়ে বলেছিলেন, জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামী। তারপরে বাবা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, মাস্টারদার নেতৃত্বে ওনারা চট্টগ্রামে থাকা ভারতবাসীর অর্থে কেনা অস্ত্রাগার করায়ত্ত করে ভারতবর্ষে প্রথম মুক্তাঞ্চল সৃষ্টি করেন বা পুরো চট্টগ্রামকে স্বাধীন করেন।
আজ এই প্রৌঢ়ত্বে এসে বুঝতে পারি এক একটা ন্যারেটিভ কী ভয়ংকর। যে জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ভারতবর্ষ দখল করে থাকা ব্রিটিশের জবরদখলকারী রাজতন্ত্রকে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে নিয়ে এসেছিল— তাদেরকে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামীর থেকেও বেশি সময় বলেছি বিপ্লবী। আর ইংরেজ সমর্থকরা সচেতন বা অবচেতনভাবে আমাদের কণ্ঠে তুলে দিয়েছে, “চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন” নামক শব্দটি। যে শব্দের ভেতর দিয়ে জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামীকে লুণ্ঠনকারী অর্থাৎ দস্যুর কাতারে নামিয়ে এনেছে।
এবং এই একই ন্যারেটিভ আমরা অবচেতনভাবে একাত্তরেও তৈরি করেছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান বাহিনীর দখলকৃত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাঙালির অর্থ জমা ছিল এমন অনেক ব্যাংক থেকে অর্থ করায়ত্ত করে, অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র করায়ত্ত করে— সেগুলো বাংলাদেশ সরকারের কাছে জমা দেন যুদ্ধ ও যুদ্ধকালীন সরকার চালানোর জন্য। অথচ আমরা আজও বলি, “ব্যাংক লুঠ করে নিয়ে গিয়েছিল”, “অস্ত্রাগার লুঠ করে নিয়ে গিয়েছিল”। এবং এগুলোই মূলত একটি ন্যারেটিভ তৈরি করে মুক্তিসংগ্রামের নানান দিককে শুধু দুর্বল করেনি— মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশে যে হেজিমনি গড়ে ওঠা উচিত ছিল— সেই বাঙালি সংস্কৃতি নির্ভর হেজিমনি গড়ে ওঠেনি এদেশে। তার পরিবর্তে ধর্মীয় মৌলবাদী হেজিমনি গড়ে উঠেছে। রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ধর্ম। আর এটা তো সত্য, পৃথিবীর ইতিহাসে জাতীয়তাবাদীরা বিজয়ী হয়ে হত্যার বৈধ অধিকার পেলেও কখনও হত্যা করে না। অপরদিকে পৃথিবীর ইতিহাসে যে কোনো প্লেগ বা মহামারী ও প্রাকৃতিক অন্যান্য বিপর্যয়ের থেকে বেশি নরহত্যা হয়েছে ধর্মের নামে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টিতে যত গণহত্যা বা দাঙ্গার মাধ্যমে নরহত্যা হয়েছে সবই ধর্মের নামে। অথচ আজ এ সত্য প্রমাণিত, এই উপমহাদেশের তিনটি দেশই ধর্মীয় হেজমনির বিপরীতে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদী বা কনসেপচুয়াল জাতীয়তাবাদী হেজিমনি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই— তিনটি রাষ্ট্রের পৃথিবীতে যে ভাবে সম্মান পাবার কথা ছিল তাদের অতীত ঐতিহ্যের কারণে— সেভাবে সম্মানিত নয়।
অন্যদিকে ইউনূস তার মেটিকুলাস ডিজাইনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশে ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান ঘটিয়ে একটা ন্যারেটিভ তৈরির কাজ শুরু করে দিয়ে গেছে। ধর্মীয় মৌলবাদীদের ওই ষড়যন্ত্র, পুলিশ ও মানুষ হত্যার ভেতর দিয়ে একটি সরকারের পতন ঘটানোর কাজকে পুঁজি করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে চ্যালেঞ্জ করার কাজটি করছে প্রতি মুহূর্তে। অথচ যে ঘটনার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। এবং আমেরিকার ষড়যন্ত্রের মত একই স্টাইলে অর্থাৎ যেভাবে ইরাকের জাতীয়তাবাদী নেতা সাদ্দাম হোসেনের ভাস্কর্য হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভেঙে— দড়ি বেঁধে টেনে ফেলা হয়েছিল— সেভাবেই ইউনূসের জুলাই শক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভূপাতিত করেছে। এমনকি স্বাধীনতার স্মারক চিহ্ন বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িটিকে “অশ্লীল ছেলে মেয়েদের” দিয়ে তিনবার ভাঙিয়েছে।
ইতিহাস শতবর্ষ পরে হলেও ঠিকই বলবে ইউনূসের এ কাজ ছিল ইয়াহিয়া খানের ১৯৭১ সালে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার একটা চেষ্টা।
ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইন বাংলাদেশে এখনও চলমান। তবে তারপরেও এ সত্য বলতে হবে, ইয়াহিয়াও যেমন তার কাজ সমাপ্ত করতে না পেরে পরাজিত হয়েছে, ইউনূসের অনুসারী তাই যে যেভাবে ও যে অবস্থানে থাকুক না কেন তারাও পরাজিত হবে।
বাস্তবে পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদী শক্তি সব সময় অপরাজেয়। যদি সে জাতীয়তাবাদ হয়, ভাষা, ভূখণ্ডের সকল ধর্ম বর্ণ গোত্রের মিলনের কনসেপচুয়াল জাতীয়তাবাদ।
গণেশ ঘোষদের সঙ্গে টেগরা-সহ বেশ কয়েক তরুণ ছিলেন যারা পনের, ষোল ও সতের বছর বয়সী। ইংরেজ এই জাতীয়তাবাদীদের হত্যা করতে পেরেছিল, ফাঁসি দিতে পেরেছিল কিন্তু রুখতে পারেনি।
বাস্তবে একটি জাগতিক ও সঠিক আদর্শে বিশ্বাসী সংগ্রামীদের শক্তি অপরিসীম। ব্রিটিশ আমলের স্বাধীনতা সংগ্রামে গণেশ ঘোষদের চট্টগ্রাম অপারেশনের মতই ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের ঢাকায় ‘অপারেশন মোনায়েম খান’ যা সম্পন্ন করেছিলেন ১৬ থেকে ১৭ বছরের এক তরুণ। তাছাড়া অপারেশন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, অপারেশন ব্ল্যাকআউট বা ঢাকাকে বিদ্যুৎশূন্য করা, অপারেশন বায়তুল মোকাররম, অপারেশন ডিআইটি— এ সব অপারেশনে সব মিলে দুই থেকে তিন শত তরুণ ছিলেন। অথচ তারাই দখলদার পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের সহযোগীদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
তাছাড়া এই ভাষা বা কনসেপচুয়াল জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের আরেকটি বড় দিক হলো— এরা সব সময়ই বিজয়ী হয়। কিন্তু বিজয়ের পরে নরহত্যার বৈধ অধিকার পেয়েও তারা নরহত্যা করে না। কারণ জাতীয়তাবাদ বহমান একটি প্রক্রিয়া যা ধীরে ধীরে বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য ঠিক রেখে এক মিলনের সংস্কৃতি দিয়ে এক করতে চায় সকলকে।
এই আদর্শগত শক্তির কারণে এই জাতীয়তাবাদীদের অসীম শক্তি কখনও তাদের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। তাদের বিরুদ্ধ রাষ্ট্রশক্তি পৃথিবীর ইতিহাসে কখনই তা করেনি। আবার জাতীয়তাবাদীরা যদি নিজে আদর্শচ্যুত হয় তখন সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তহীন হয়ে যায়।
বাংলাদেশে বাঙালি জাতীয়তাবাদী বা জাগতিক জাতীয়তাবাদী শক্তি মূলত বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ।
তাদের সমর্থকরা একশ, দুইশ, পাঁচশ— কখনও বা বিশ থেকে পঞ্চাশ জন তরুণ মিলে রাজপথে তাদের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। বিশ কোটি মানুষের দেশে এ খুবই কম একটি সংখ্যা। এমনকি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যে মাপের বড় দল তার যদি এক বা দুই লাখ নেতা-কর্মী কারাগারেও থাকে তাও সংখ্যায় খুবই কম।
যারা কারাগারে আছেন তারা তো সরকারের হেফাজতেই আছেন। তাদের কিছুই করার নেই। তারপরেও যে বিশ পঁচিশ থেকে দুই-চারশ তরুণ মিছিল করছে তাদের কারণে এবং দলটির ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন (এই লেখা যখন প্রকাশ হবে সেদিন) এ জন্য সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে সে সম্পর্কে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকের সংবাদ হচ্ছে,
“Army to remain deployed till June 30 as home ministry cites sabotage, law-and-order risks
Star Online Report
The government has ordered the deployment of army personnel in three metropolitan cities, including Dhaka, and three other districts, citing fears of possible sabotage by leaders and activists of the Awami League, whose activities are currently banned.
According to a letter issued by the Ministry of Home Affairs today, the army will remain deployed in the field until June 30.
The troops have been ordered to be deployed in the Dhaka Metropolitan Police, Chattogram Metropolitan Police, Gazipur Metropolitan Police, Narayanganj, Gopalganj, and Faridpur.
“Various banned organisations have been carrying out unlawful gatherings, processions, and other activities across the country, creating risks of sabotage and deterioration of law and order. As a result, there is a possibility of damage to public life and property in several districts,” the letter reads.
The ministry’s directive was issued today as part of measures aimed at maintaining law and order and preventing any untoward incidents, the official order said.
Earlier, Police Headquarters issued a nationwide alert over fears of possible clashes between Awami League activists and members of other political parties ahead of the party’s founding anniversary on June 23.
In a notification signed by DIG Kamrul Ahasan, the PHQ on Thursday sent instructions to the heads of all units across the country, asking them to remain alert and take necessary precautionary measures.”
(আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নাশকতার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার
স্টার অনলাইন রিপোর্ট
বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা থেকে সরকার ঢাকা-সহ তিনটি মহানগর এবং আরও তিনটি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আজ জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে মোতায়েন থাকবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর এলাকায় সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হবে।
চিঠিতে বলা হয়, “বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি সমাবেশ, মিছিল ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, যা নাশকতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে কয়েকটি জেলায় জনজীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে আজ এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এর আগে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ জুনকে সামনে রেখে দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় সারা দেশে সতর্কতা জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর (পিএইচকিউ)।
ডিআইজি কামরুল আহসানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে গত বৃহস্পতিবার দেশের সব ইউনিটপ্রধানকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।)
সরকারের দিক থেকে সরকার সঠিকই। কারণ জাতীয়তাবাদী শক্তির মূলশক্তি বা কার্যক্রমশক্তিকে কখনই সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করে তাদের বিরুদ্ধে অগ্রিম ব্যবস্থা পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রশক্তি নেয়নি। কারণ তাদের উপস্থিত সংখ্যাটি কখনই তাদের শক্তির মূল পরিমাপ নয়।
এই জাতীয়তাবাদী শক্তির সংগ্রামকে ধারণ করে অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “পথের দাবী” নামক একটি উপন্যাস লেখেন। আজকের অনেক অশ্লীল ভাষা সৃষ্টির উত্তরাধিকারীরা হয়তো সেটা নাও পড়তে পারে। সেখানে এই জাতীয়তাবাদের প্রতীক চরিত্রের নাম “সব্যসাচী”। কাজী আব্দুল ওদুদের ব্যবহারিক শব্দকোষে সব্যসাচী শব্দের অর্থ বলা হয়েছে, উভয় হস্তে শর নিক্ষেপে সমর্থ, এক সঙ্গে একাধিক কর্মসম্পাদনে সক্ষম। কিন্তু সমগ্র উপন্যাসে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতীক যে সব্যসাচীকে পাওয়া যায় তাঁর উভয় হস্ত বলতে— একটি হস্ত তার রক্ত-মাংসের শরীর ও আরেকটি হস্ত তার মনোজাগতিক বিশ্বাস; দুইয়ের নিক্ষেপিত তীর বা সংগ্রামের গতি সমান। অর্থাৎ আদর্শ ও আত্মদানে কোনো ফাটল বা ফাঁক নেই।
আর এই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতীককে উদ্দেশ্য করেই শরৎচন্দ্র লিখেছিলেন, “কোন বিস্মৃত অতীতে তোমারই জন্য তো প্রথম শৃঙ্খল রচিত হইয়াছিল, কারাগার তো শুধু তোমাকে মনে করিয়াই প্রথম নির্ম্মিত হইয়াছিল সেই তো তোমার গৌরব! তোমাকে অবহেলা করিবে সাধ্য কার! এই যে অগণিত প্রহরী, এই যে বিপুল সৈন্যভার, সে তো কেবল তোমারই জন্য!”
লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, সম্পাদক, সারাক্ষণ, The Present World।
স্বদেশ রায় 


















