ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পরিচালিত অধিকাংশ কোচিং সেন্টার এখনও বৈধ অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছাড়াই চলছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই তথ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু কোচিং প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা সনদ সংগ্রহ করলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এখনও সেই অনুমোদন পায়নি। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন এমন ভবনে পড়াশোনা করছে, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অগ্নিনিরাপত্তা সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কোচিং সেন্টারগুলোকে নির্দিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ভবনের নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে। এরপর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে ফায়ার সার্ভিস পরিদর্শন চালায়।
পরিদর্শনের সময় সব ধরনের নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ হলে প্রতিষ্ঠানকে অগ্নিনিরাপত্তা সনদ দেওয়া হয়। তবে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি পাওয়া গেলে তা লিখিতভাবে জানিয়ে সংশোধনের জন্য সময় দেওয়া হয়।

অনেক প্রতিষ্ঠানে ধরা পড়ছে ত্রুটি
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিল্লির বেশ কয়েকটি কোচিং প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা সনদ পেয়েছে। তবে আরও বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
বিশেষ করে জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ভবনের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নানা ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিভাবকদের প্রতি সতর্কবার্তা
সম্প্রতি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একাধিক শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তাদের মতে, সন্তানকে কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি করার আগে প্রতিষ্ঠানটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বৈধ সনদ রয়েছে কি না তা যাচাই করা উচিত। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার চাপ তৈরি হবে।
নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিল্লির কোচিং সেন্টারগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা সনদ না থাকার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















