কাতারের একটি গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১২ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কাতারের আমির। এ ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক টেলিফোন আলাপে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। আলোচনায় তিনি কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীর বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করেন। ওই বিস্ফোরণে মোট ১৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাগরিক।
বিস্ফোরণে বহু হতাহত
রোববার সন্ধ্যায় স্থাপনাটি পুনরায় চালুর প্রস্তুতির সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি অন্তত ৬৬ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের শ্রমিকও রয়েছেন।

কাতারের আমির বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে তাঁর দেশ। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
কাতারকে ধন্যবাদ মোদির
টেলিফোন আলাপে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহত ভারতীয়দের দ্রুত চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়ার জন্য কাতার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই কাতার কর্তৃপক্ষ যেভাবে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।
দুই নেতা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ভবিষ্যতে প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা
দুই নেতার আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পায়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন মোদি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান শান্তি উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে।

এ সময় উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার
আলোচনার শেষাংশে ভারত ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমিক কল্যাণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তারা একমত হন।
গ্যাস স্থাপনার বিস্ফোরণে প্রাণহানির এই ঘটনা দুই দেশের জন্যই গভীর শোকের কারণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শিল্প স্থাপনায় সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















