০৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু, বাংলা সাহিত্য ও চিন্তাজগতে শূন্যতা তাইওয়ানের পূর্বে চীনা কোস্টগার্ডের দ্বিতীয় টহল, তাইপের প্রতিবাদ কক্সবাজারের দুই সার্ফার প্রথমবার এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধি থাই কম্বোডিয়া সীমান্তে ১৩ সদস্যের আসিয়ান পর্যবেক্ষক দল কেরালায় ‘বিপরীত রেমিট্যান্স’ মন্তব্যে অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে বিতর্ক সপ্তাহের প্রথম দিনে পুঁজিবাজারে উত্থান, ডিএসইতে লেনদেন ১,৫৩০ কোটি টাকা তুরাগ নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু, নদীপাড়ে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন নারায়ণগঞ্জে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আইন হাতে তুলে নেওয়ার ভয়াবহতা জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ মৃত্যু, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বড় উদ্বেগ ছয় বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, ঢাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা

রুট ৬৬: শতবর্ষ পেরিয়েও কেন আমেরিকার প্রাণের পথ হয়ে আছে ‘মাদার রোড’

আমেরিকার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে রুট ৬৬। একসময় পশ্চিমে নতুন জীবনের খোঁজে যাত্রা করা মানুষের প্রধান পথ ছিল এই সড়ক। শত বছর পূর্ণ করা এই ঐতিহাসিক মহাসড়ক আজ আর দেশের প্রধান পরিবহনপথ নয়, কিন্তু এর আবেদন এতটুকুও কমেনি। বরং আমেরিকাকে নতুনভাবে জানার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে এটি।

শিকাগো থেকে সান্তা মনিকা পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৮৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ শুধু একটি সড়ক নয়, বরং আমেরিকার সামাজিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক বিকাশ এবং মানুষের স্বপ্নের গল্প বহন করে চলেছে। আজও অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক এই পথ ধরে যাত্রা করেন ‘বাস্তব আমেরিকা’কে কাছ থেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায়।

উন্নয়নের সঙ্গে বদলে যাওয়া পথ

রুট ৬৬ চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে এটি পশ্চিমমুখী মানুষের প্রধান যোগাযোগপথে পরিণত হয়। কৃষি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিল্পাঞ্চলে কাজের সন্ধানে ছুটে যাওয়া শ্রমিক এবং ছুটির ভ্রমণে বের হওয়া পরিবার—সবাই কোনো না কোনো সময় এই পথ ব্যবহার করেছে।

গাড়ির ব্যবহার বাড়তে থাকায় পথের ধারে গড়ে ওঠে জ্বালানি স্টেশন, মোটেল, খাবারের দোকান এবং ছোট ছোট ব্যবসা। ফলে বহু ছোট শহর অর্থনৈতিকভাবে প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দ্রুতগতির বহু লেনের মহাসড়ক নির্মিত হওয়ায় রুট ৬৬ ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায়। শেষ পর্যন্ত এটি সরকারি মহাসড়কের তালিকা থেকেও বাদ পড়ে।

মানুষের উদ্যোগেই ফিরে এসেছে প্রাণ

সরকারি স্বীকৃতি হারানোর পরও রুট ৬৬ হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে গড়ে ওঠে সংরক্ষণ সংগঠন। স্বেচ্ছাসেবকেরা পুরোনো জাদুঘর, ঐতিহাসিক ভবন, মোটেল এবং সড়কপারের আকর্ষণীয় স্থানগুলো সংরক্ষণে কাজ শুরু করেন।

এই উদ্যোগের ফলে বহু ছোট শহরে আবার পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে। স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন করে গতি পেয়েছে। অনেক এলাকায় অল্প জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও বছরে হাজার হাজার মানুষ শুধু রুট ৬৬-এর অভিজ্ঞতা নিতে সেখানে যান।

সৃজনশীলতার এক জীবন্ত প্রদর্শনী

রুট ৬৬-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং পথজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিচিত্র সব দর্শনীয় স্থান। বিশাল আকৃতির ভাস্কর্য, পুরোনো মোটেল, মোটরসাইকেল জাদুঘর, পশ্চিমা ঐতিহ্যভিত্তিক উন্মুক্ত জাদুঘর এবং অভিনব খাবারের দোকান ভ্রমণকারীদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।

এসবই দেখায়, মানুষের কল্পনা ও সৃজনশীলতা কীভাবে সাধারণ ব্যবসাকেও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। ছোট উদ্যোগও সঠিক ভাবনায় পর্যটনের বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।

Route 66: How a century-old highway helps explain America

চলাচলের স্বাধীনতাই ছিল শক্তি

রুট ৬৬ আমেরিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। নতুন সুযোগের সন্ধানে এক শহর থেকে অন্য শহরে চলে যাওয়া এবং নতুন জীবন শুরু করার মানসিকতা দীর্ঘদিন দেশটির অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের স্থানান্তর কমেছে। একই সঙ্গে নতুন মানুষকে গ্রহণ করার প্রশ্নেও রাজনৈতিক বিভাজন বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় রুট ৬৬ অতীতের সেই উন্মুক্ত ও সম্ভাবনাময় আমেরিকার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

আজও কেন এত জনপ্রিয়

আধুনিক মহাসড়কে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হলেও রুট ৬৬-এর আকর্ষণ অন্য জায়গায়। এখানে ভ্রমণের মূল আনন্দ গন্তব্য নয়, বরং পুরো পথের অভিজ্ঞতা। পাহাড়, মরুভূমি, সমতল ভূমি, ছোট শহর এবং পথের ধারের মানুষ—সব মিলিয়ে এটি এক ভিন্ন আমেরিকার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

অনেক বিদেশি পর্যটকের কাছে এই পথ এখনও আমেরিকাকে বোঝার সবচেয়ে আন্তরিক উপায়। ধীরগতির এই যাত্রাই তাদের কাছে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। তাই শতবর্ষ পার হলেও রুট ৬৬ কেবল একটি পুরোনো সড়ক নয়, বরং আমেরিকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং মানুষের অদম্য স্বপ্নের জীবন্ত প্রতীক হিসেবেই টিকে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু, বাংলা সাহিত্য ও চিন্তাজগতে শূন্যতা

রুট ৬৬: শতবর্ষ পেরিয়েও কেন আমেরিকার প্রাণের পথ হয়ে আছে ‘মাদার রোড’

০৬:০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আমেরিকার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে রুট ৬৬। একসময় পশ্চিমে নতুন জীবনের খোঁজে যাত্রা করা মানুষের প্রধান পথ ছিল এই সড়ক। শত বছর পূর্ণ করা এই ঐতিহাসিক মহাসড়ক আজ আর দেশের প্রধান পরিবহনপথ নয়, কিন্তু এর আবেদন এতটুকুও কমেনি। বরং আমেরিকাকে নতুনভাবে জানার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে এটি।

শিকাগো থেকে সান্তা মনিকা পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৮৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ শুধু একটি সড়ক নয়, বরং আমেরিকার সামাজিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক বিকাশ এবং মানুষের স্বপ্নের গল্প বহন করে চলেছে। আজও অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক এই পথ ধরে যাত্রা করেন ‘বাস্তব আমেরিকা’কে কাছ থেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায়।

উন্নয়নের সঙ্গে বদলে যাওয়া পথ

রুট ৬৬ চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে এটি পশ্চিমমুখী মানুষের প্রধান যোগাযোগপথে পরিণত হয়। কৃষি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিল্পাঞ্চলে কাজের সন্ধানে ছুটে যাওয়া শ্রমিক এবং ছুটির ভ্রমণে বের হওয়া পরিবার—সবাই কোনো না কোনো সময় এই পথ ব্যবহার করেছে।

গাড়ির ব্যবহার বাড়তে থাকায় পথের ধারে গড়ে ওঠে জ্বালানি স্টেশন, মোটেল, খাবারের দোকান এবং ছোট ছোট ব্যবসা। ফলে বহু ছোট শহর অর্থনৈতিকভাবে প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দ্রুতগতির বহু লেনের মহাসড়ক নির্মিত হওয়ায় রুট ৬৬ ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায়। শেষ পর্যন্ত এটি সরকারি মহাসড়কের তালিকা থেকেও বাদ পড়ে।

মানুষের উদ্যোগেই ফিরে এসেছে প্রাণ

সরকারি স্বীকৃতি হারানোর পরও রুট ৬৬ হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে গড়ে ওঠে সংরক্ষণ সংগঠন। স্বেচ্ছাসেবকেরা পুরোনো জাদুঘর, ঐতিহাসিক ভবন, মোটেল এবং সড়কপারের আকর্ষণীয় স্থানগুলো সংরক্ষণে কাজ শুরু করেন।

এই উদ্যোগের ফলে বহু ছোট শহরে আবার পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে। স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন করে গতি পেয়েছে। অনেক এলাকায় অল্প জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও বছরে হাজার হাজার মানুষ শুধু রুট ৬৬-এর অভিজ্ঞতা নিতে সেখানে যান।

সৃজনশীলতার এক জীবন্ত প্রদর্শনী

রুট ৬৬-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং পথজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিচিত্র সব দর্শনীয় স্থান। বিশাল আকৃতির ভাস্কর্য, পুরোনো মোটেল, মোটরসাইকেল জাদুঘর, পশ্চিমা ঐতিহ্যভিত্তিক উন্মুক্ত জাদুঘর এবং অভিনব খাবারের দোকান ভ্রমণকারীদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।

এসবই দেখায়, মানুষের কল্পনা ও সৃজনশীলতা কীভাবে সাধারণ ব্যবসাকেও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। ছোট উদ্যোগও সঠিক ভাবনায় পর্যটনের বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।

Route 66: How a century-old highway helps explain America

চলাচলের স্বাধীনতাই ছিল শক্তি

রুট ৬৬ আমেরিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। নতুন সুযোগের সন্ধানে এক শহর থেকে অন্য শহরে চলে যাওয়া এবং নতুন জীবন শুরু করার মানসিকতা দীর্ঘদিন দেশটির অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের স্থানান্তর কমেছে। একই সঙ্গে নতুন মানুষকে গ্রহণ করার প্রশ্নেও রাজনৈতিক বিভাজন বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় রুট ৬৬ অতীতের সেই উন্মুক্ত ও সম্ভাবনাময় আমেরিকার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

আজও কেন এত জনপ্রিয়

আধুনিক মহাসড়কে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হলেও রুট ৬৬-এর আকর্ষণ অন্য জায়গায়। এখানে ভ্রমণের মূল আনন্দ গন্তব্য নয়, বরং পুরো পথের অভিজ্ঞতা। পাহাড়, মরুভূমি, সমতল ভূমি, ছোট শহর এবং পথের ধারের মানুষ—সব মিলিয়ে এটি এক ভিন্ন আমেরিকার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

অনেক বিদেশি পর্যটকের কাছে এই পথ এখনও আমেরিকাকে বোঝার সবচেয়ে আন্তরিক উপায়। ধীরগতির এই যাত্রাই তাদের কাছে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। তাই শতবর্ষ পার হলেও রুট ৬৬ কেবল একটি পুরোনো সড়ক নয়, বরং আমেরিকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং মানুষের অদম্য স্বপ্নের জীবন্ত প্রতীক হিসেবেই টিকে আছে।