বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরির মামলার এক আসামির হেফাজতে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।
৪৩ জনের নাম উল্লেখ, অজ্ঞাত আরও দুই শতাধিক
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
গুজব ছড়ানোর পর থানায় উত্তেজনা
গত ৯ জুলাই চুরির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া রিয়াজ ফকির পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে আগৈলঝাড়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রিয়াজের স্বজন এবং শত শত স্থানীয় বাসিন্দা থানার সামনে জড়ো হন।
একপর্যায়ে থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

পুলিশ যা বলছে
পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রিয়াজ লকআপের ভেতরে বারবার লোহার গ্রিলে মাথা আঘাত করেন। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ
অন্যদিকে, রিয়াজের মা নাসরিন বেগম অভিযোগ করেছেন, কোনো কারণ ছাড়াই তার ছেলেকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাকে মারধর করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















