বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তায় অর্থায়ন কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর। চলতি বছরের শুরু থেকে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় অন্তত ১০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু জরুরি সুরক্ষা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে বহু নারী পরিচালিত সংগঠন টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে, যা সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাড়ছে সংকট, কমছে সহায়তা
বিশ্বজুড়ে সংঘাত, যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, শিক্ষা ও মানসিক সহায়তাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা সীমিত হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। সহায়তা হারানো মানুষের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টিকে থাকার লড়াইয়ে নারী সংগঠন
সংকটপূর্ণ বিভিন্ন দেশে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো সবচেয়ে সামনের সারিতে কাজ করছে। কিন্তু অর্থের অভাবে এসব সংগঠনের অনেকগুলো কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। অনেক সংগঠন আগামী এক বছরের মধ্যে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে সেবা চালিয়ে রাখতে বহু কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক ক্লান্তিও দ্রুত বাড়ছে।

সহিংসতা বাড়ছে, সুরক্ষা কমছে
সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা বাড়লেও ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
এ অবস্থায় সহিংসতার শিকার একজন নারী আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে সেটি বন্ধ দেখতে পারেন। কোনো গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতে পারে। আবার অনেক মা সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তাও নাও পেতে পারেন।
শিক্ষা, দারিদ্র্য ও বাল্যবিয়ের ঝুঁকি
অর্থায়নের সংকট শুধু মানবিক সহায়তাকেই দুর্বল করছে না, এর প্রভাব পড়ছে সমাজের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ওপরও। জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সংগঠন জানিয়েছে, নারী ও কন্যাশিশুদের মধ্যে দারিদ্র্য বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিয়ের ঘটনাও বাড়ছে।
নারীদের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণও কমে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে লিঙ্গসমতা অর্জনের প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
দ্রুত অর্থায়নের আহ্বান
বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও মানবিক সংকটের এই সময়ে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য কাজ করা সংগঠনগুলোর অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানবিক সংকট আরও গভীর হবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব বিশ্বব্যাপী অনুভূত হবে।
বিদেশি সহায়তা কমায় অন্তত ১০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু জরুরি সেবা হারিয়েছে। অর্থসংকটে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















