০৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজের ঘরেও পরবাসী: ‘কারা আমাদের মানুষ’—এই প্রশ্নের রাজনীতি ট্রাম্প-শির নৈশভোজে জাঁকজমক, আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের গভীর টানাপোড়েন ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর শিল্পের পুরোনো শক্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, ইতালিতে শুরু ‘শিল্প পুনর্জাগরণ’ এআইকে মানুষ যতটা ভাবছে, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও বড় ব্যক্তিত্বের গড়নে জিনের প্রভাব কতটা? ১০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য থেকে মিলল নতুন উত্তর ঘুম আসছে না? বিছানায় পড়ে না থেকে উঠে পড়ুন, বলছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমারে ১০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্ত অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী

তরুণ অ্যান্থনি বুরডেইনের জীবন বদলে দেওয়া এক গ্রীষ্ম: ‘টনি’ চলচ্চিত্রের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা

খ্যাতনামা শেফ, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক অ্যান্থনি বুরডেইনের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে কেন্দ্র করে নির্মিত নতুন চলচ্চিত্র ‘টনি’ ইতোমধ্যেই সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ছবিটি বুরডেইনের খ্যাতির শীর্ষে ওঠার গল্প নয়; বরং ১৯৭৫ সালের এক গ্রীষ্মে তাঁর ব্যক্তিত্ব, জীবনদর্শন ও কর্মনৈতিকতার ভিত্তি কীভাবে গড়ে উঠেছিল, সেই যাত্রাকেই তুলে ধরেছে।

চলচ্চিত্রে তরুণ অ্যান্থনি বুরডেইনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডমিনিক সেসা। গল্পের শুরুতেই বুরডেইনের নিজের পরবর্তী জীবনের আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্য দর্শককে জানিয়ে দেয়, কৈশোরে তিনি ছিলেন আত্মকেন্দ্রিক, উদ্ধত এবং অপরিণত। সেই অপরিণত তরুণ কীভাবে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও সততার মূল্য বুঝতে শেখে, সেটিই ছবির মূল সুর।

প্রেমের টান থেকে রান্নাঘরের কঠিন বাস্তবতা

গল্পে দেখা যায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃত্তি না পেয়ে হতাশ তরুণ টনি এক সহপাঠিনীর পিছু নিয়ে গ্রীষ্ম কাটাতে চলে যায় ম্যাসাচুসেটসের কেপ কডে। অর্থহীন, আশ্রয়হীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তিনি একটি সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁয় বাসন ধোয়ার কাজ নেন।

সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় রহস্যময় কিন্তু কঠোর এক প্রধান রাঁধুনির সঙ্গে। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আন্তোনিও বান্দেরাস। রেস্তোরাঁর সেই কঠিন পরিবেশই ধীরে ধীরে টনিকে শেখায় দায়িত্ববোধ, নিষ্ঠা এবং নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করার শিক্ষা।

রান্নার মধ্যেই জীবনের শিক্ষা

চলচ্চিত্রটির অন্যতম শক্তি হলো, এটি রান্নাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, এক ধরনের শিল্প ও জীবনদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। প্রধান রাঁধুনির চরিত্রটি নিজ হাতে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ তৈরি করেন, নিজেই কেচাপ বানিয়ে পরিচিত ব্র্যান্ডের বোতলে ভরে ব্যবহার করেন—নিজের কৃতিত্বের প্রচার নয়, বরং নিখুঁত কাজই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।

এই নীরব অথচ শক্তিশালী মুহূর্তগুলো তরুণ টনির জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বুঝতে শেখেন, প্রকৃত দক্ষতা আসে অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং নিরলস অনুশীলনের মাধ্যমে।

Tony' is Bigger Than an Anthony Bourdain Biopic - The Atlantic

শুধু জীবনী নয়, বেড়ে ওঠার গল্প

‘টনি’ কেবল একজন বিখ্যাত শেফের জীবনীচিত্র নয়। এটি এক তরুণের আত্মগঠন, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং পরিণত মানুষ হয়ে ওঠার গল্প। কৈশোরের প্রেম, বন্ধুত্ব, বিভ্রান্তি, আত্মবিশ্বাস ও আত্মপ্রতারণা—সবকিছুই ছবিতে স্বাভাবিক ও বাস্তবভাবে ফুটে উঠেছে।

সত্তরের দশকের পরিবেশ, সমুদ্রতীরের জীবন এবং সাধারণ মানুষের কর্মজীবনও চলচ্চিত্রে অত্যন্ত জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এটি একই সঙ্গে নস্টালজিক, মানবিক এবং অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।

অভিনয়ে মুগ্ধতা

ডমিনিক সেসা তরুণ অ্যান্থনি বুরডেইনের আত্মবিশ্বাস, অহংকার ও ধীরে ধীরে বদলে যাওয়া মানসিকতাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে আন্তোনিও বান্দেরাস সংযত অথচ শক্তিশালী অভিনয়ে ছবির অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছেন। কঠোর কিন্তু নীরব শিক্ষক হিসেবে তাঁর উপস্থিতি পুরো চলচ্চিত্রকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সমালোচকদের মতে, ‘টনি’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যা শুধু একজন বিখ্যাত ব্যক্তির অতীত জানায় না; বরং মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে নয়, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের ঘরেও পরবাসী: ‘কারা আমাদের মানুষ’—এই প্রশ্নের রাজনীতি

তরুণ অ্যান্থনি বুরডেইনের জীবন বদলে দেওয়া এক গ্রীষ্ম: ‘টনি’ চলচ্চিত্রের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা

০৮:১৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

খ্যাতনামা শেফ, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক অ্যান্থনি বুরডেইনের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে কেন্দ্র করে নির্মিত নতুন চলচ্চিত্র ‘টনি’ ইতোমধ্যেই সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ছবিটি বুরডেইনের খ্যাতির শীর্ষে ওঠার গল্প নয়; বরং ১৯৭৫ সালের এক গ্রীষ্মে তাঁর ব্যক্তিত্ব, জীবনদর্শন ও কর্মনৈতিকতার ভিত্তি কীভাবে গড়ে উঠেছিল, সেই যাত্রাকেই তুলে ধরেছে।

চলচ্চিত্রে তরুণ অ্যান্থনি বুরডেইনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডমিনিক সেসা। গল্পের শুরুতেই বুরডেইনের নিজের পরবর্তী জীবনের আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্য দর্শককে জানিয়ে দেয়, কৈশোরে তিনি ছিলেন আত্মকেন্দ্রিক, উদ্ধত এবং অপরিণত। সেই অপরিণত তরুণ কীভাবে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও সততার মূল্য বুঝতে শেখে, সেটিই ছবির মূল সুর।

প্রেমের টান থেকে রান্নাঘরের কঠিন বাস্তবতা

গল্পে দেখা যায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃত্তি না পেয়ে হতাশ তরুণ টনি এক সহপাঠিনীর পিছু নিয়ে গ্রীষ্ম কাটাতে চলে যায় ম্যাসাচুসেটসের কেপ কডে। অর্থহীন, আশ্রয়হীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তিনি একটি সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁয় বাসন ধোয়ার কাজ নেন।

সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় রহস্যময় কিন্তু কঠোর এক প্রধান রাঁধুনির সঙ্গে। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আন্তোনিও বান্দেরাস। রেস্তোরাঁর সেই কঠিন পরিবেশই ধীরে ধীরে টনিকে শেখায় দায়িত্ববোধ, নিষ্ঠা এবং নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করার শিক্ষা।

রান্নার মধ্যেই জীবনের শিক্ষা

চলচ্চিত্রটির অন্যতম শক্তি হলো, এটি রান্নাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, এক ধরনের শিল্প ও জীবনদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। প্রধান রাঁধুনির চরিত্রটি নিজ হাতে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ তৈরি করেন, নিজেই কেচাপ বানিয়ে পরিচিত ব্র্যান্ডের বোতলে ভরে ব্যবহার করেন—নিজের কৃতিত্বের প্রচার নয়, বরং নিখুঁত কাজই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।

এই নীরব অথচ শক্তিশালী মুহূর্তগুলো তরুণ টনির জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বুঝতে শেখেন, প্রকৃত দক্ষতা আসে অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং নিরলস অনুশীলনের মাধ্যমে।

Tony' is Bigger Than an Anthony Bourdain Biopic - The Atlantic

শুধু জীবনী নয়, বেড়ে ওঠার গল্প

‘টনি’ কেবল একজন বিখ্যাত শেফের জীবনীচিত্র নয়। এটি এক তরুণের আত্মগঠন, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং পরিণত মানুষ হয়ে ওঠার গল্প। কৈশোরের প্রেম, বন্ধুত্ব, বিভ্রান্তি, আত্মবিশ্বাস ও আত্মপ্রতারণা—সবকিছুই ছবিতে স্বাভাবিক ও বাস্তবভাবে ফুটে উঠেছে।

সত্তরের দশকের পরিবেশ, সমুদ্রতীরের জীবন এবং সাধারণ মানুষের কর্মজীবনও চলচ্চিত্রে অত্যন্ত জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এটি একই সঙ্গে নস্টালজিক, মানবিক এবং অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।

অভিনয়ে মুগ্ধতা

ডমিনিক সেসা তরুণ অ্যান্থনি বুরডেইনের আত্মবিশ্বাস, অহংকার ও ধীরে ধীরে বদলে যাওয়া মানসিকতাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে আন্তোনিও বান্দেরাস সংযত অথচ শক্তিশালী অভিনয়ে ছবির অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছেন। কঠোর কিন্তু নীরব শিক্ষক হিসেবে তাঁর উপস্থিতি পুরো চলচ্চিত্রকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সমালোচকদের মতে, ‘টনি’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যা শুধু একজন বিখ্যাত ব্যক্তির অতীত জানায় না; বরং মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে নয়, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই পাওয়া যায়।