০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব? মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দৌড়েও অবিশ্বাস্য গতি, রেকর্ড ভাঙল একের পর এক স্বাধীন ভারতের প্রথম জাতিভিত্তিক জনগণনায় নেতৃত্ব দেবে লাদাখ বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে? দিল্লির অভিজাতদের স্বপ্নের বাড়ি দেখিয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা! সন্তানদের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষমতা অভিভাবকদের চেয়েও এগিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে বদলে যাচ্ছে প্রেমের হিসাব, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ও কি শ্রেণির পরিচয়? কৃষ্ণসাগরের বন্দর ঘিরে রাশিয়ার নতুন চাপ, শস্য রপ্তানি থমকে গেলে বিশ্বজুড়ে বাড়বে খাদ্যঝুঁকি ‘দ্য অডিসি’তে ওডিসিউসের অপরাধবোধ, যুদ্ধের নৃশংসতা ও সভ্যতার পুনর্জন্ম: ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাখ্যা মাদুরো পতনের পর ওয়াশিংটনের ছায়ায় ভেনেজুয়েলা, ক্ষমতার কেন্দ্রে দেলসি রদ্রিগেজ

ট্রাম্পের প্রচার ও হোয়াইট হাউসের পোস্ট থেকে টেইলর সুইফটের গান সরানো হলো

ওয়াশিংটন, ৯ আগস্ট—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারাভিযান ও হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিও থেকে পপতারকা টেইলর সুইফটের গান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রচারশিবির ও হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন পোস্টে সুইফটের অন্তত দুটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল।

সুইফট ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Taylor Swift সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ও তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিলেন। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও সুইফট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্প একাধিকবার সুইফটের সমালোচনা করেছেন। হ্যারিসকে সমর্থনের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, “আমি টেইলর সুইফটকে ঘৃণা করি!” গত বছরও তিনি সুইফটের জনপ্রিয়তা নিয়ে কটাক্ষ করে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।

সুইফটের গানের রাজনৈতিক ব্যবহার

গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের টিকটক পাতায় সুইফটের দুটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল। এর একটি ভিডিওতে সুইফটের জনপ্রিয় কয়েকটি গানের নাম ও গানের কথার সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য মিলিয়ে ব্যঙ্গাত্মক লেখা ব্যবহার করা হয়।

ভিডিওটিতে ‘রেড’, ‘এভরিথিং হ্যাজ চেঞ্জড’, ‘উই আর নেভার এভার গেটিং ব্যাক টুগেদার’ এবং ‘দ্য লাস্ট টাইম’-এর মতো সুইফটের গানের নামকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। এতে সীমান্তনীতি এবং বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন নিয়েও নানা মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়।

Image

এর আগে জুন মাসেও ট্রাম্পের প্রচারশিবির সুইফটের নতুন ‘টয় স্টোরি ৫’ চলচ্চিত্রের গান ব্যবহার করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে লেখা হয়েছিল, ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকান জনগণকে ভালোবাসে না। ভিডিওতে হোয়াইট হাউসে শিশুদের সঙ্গে ট্রাম্পের সময় কাটানো, একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানে নাচ এবং নির্বাচনী সমাবেশের দৃশ্য দেখানো হয়েছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটিই ছিল তৃতীয়বার, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অথবা তার প্রচারশিবির গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী এই পপতারকার গান ব্যবহার করেছিল।

অন্য শিল্পীরাও প্রতিবাদ করেছেন

শুধু সুইফট নন, আরও কয়েক ডজন শিল্পী ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি তাদের গান ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাবরিনা কার্পেন্টার ও আরিয়ানা গ্রান্ডের মতো জনপ্রিয় শিল্পীরাও রয়েছেন।

এ ধরনের বিরোধের মূল বিষয় হলো শিল্পীদের গান রাজনৈতিক প্রচারণায় তাদের সম্মতি ছাড়া বা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।

গত এপ্রিলেও হোয়াইট হাউস একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল, যেখানে আর্টেমিস-২ অভিযানের নভোচারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের দৃশ্য দেখানো হয়। ওই ভিডিওতে সুইফটের ‘হাই ইনফিডেলিটি’ গান এবং গানের একটি লাইন ব্যবহার করা হয়েছিল।

Image

এর আগে নভেম্বরেও হোয়াইট হাউস সুইফটের ‘দ্য ফেইট অব ওপেলিয়া’ গান ব্যবহার করে একটি টিকটক ভিডিও প্রকাশ করেছিল। ভিডিওটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা, বিভিন্ন স্থাপনা এবং ট্রাম্পের নানা ছবি দেখানো হয়। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ট্রাম্পের গ্রেপ্তারের সময় তোলা ছবিও ছিল।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। পরে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, প্রশাসন জানত যে সংবাদমাধ্যমগুলো ভিডিওটি ব্যাপকভাবে প্রচার করবে।

জনপ্রিয় গান দিয়ে রাজনৈতিক বার্তা

ট্রাম্পের যোগাযোগ দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন সময়ে তারা জনপ্রিয় গানকে রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে যুক্ত করে ভিডিও প্রকাশ করেছে। এসব পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে সুইফটের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধের কারণে তার গান ব্যবহার বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক পোস্টগুলো থেকে গান সরিয়ে নেওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক প্রচারণায় জনপ্রিয় শিল্পীদের গান ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও প্রচারশিবির ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব?

ট্রাম্পের প্রচার ও হোয়াইট হাউসের পোস্ট থেকে টেইলর সুইফটের গান সরানো হলো

০৫:২১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ওয়াশিংটন, ৯ আগস্ট—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারাভিযান ও হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিও থেকে পপতারকা টেইলর সুইফটের গান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রচারশিবির ও হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন পোস্টে সুইফটের অন্তত দুটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল।

সুইফট ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Taylor Swift সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ও তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিলেন। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও সুইফট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্প একাধিকবার সুইফটের সমালোচনা করেছেন। হ্যারিসকে সমর্থনের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, “আমি টেইলর সুইফটকে ঘৃণা করি!” গত বছরও তিনি সুইফটের জনপ্রিয়তা নিয়ে কটাক্ষ করে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।

সুইফটের গানের রাজনৈতিক ব্যবহার

গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের টিকটক পাতায় সুইফটের দুটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল। এর একটি ভিডিওতে সুইফটের জনপ্রিয় কয়েকটি গানের নাম ও গানের কথার সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য মিলিয়ে ব্যঙ্গাত্মক লেখা ব্যবহার করা হয়।

ভিডিওটিতে ‘রেড’, ‘এভরিথিং হ্যাজ চেঞ্জড’, ‘উই আর নেভার এভার গেটিং ব্যাক টুগেদার’ এবং ‘দ্য লাস্ট টাইম’-এর মতো সুইফটের গানের নামকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। এতে সীমান্তনীতি এবং বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন নিয়েও নানা মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়।

Image

এর আগে জুন মাসেও ট্রাম্পের প্রচারশিবির সুইফটের নতুন ‘টয় স্টোরি ৫’ চলচ্চিত্রের গান ব্যবহার করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে লেখা হয়েছিল, ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকান জনগণকে ভালোবাসে না। ভিডিওতে হোয়াইট হাউসে শিশুদের সঙ্গে ট্রাম্পের সময় কাটানো, একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানে নাচ এবং নির্বাচনী সমাবেশের দৃশ্য দেখানো হয়েছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটিই ছিল তৃতীয়বার, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অথবা তার প্রচারশিবির গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী এই পপতারকার গান ব্যবহার করেছিল।

অন্য শিল্পীরাও প্রতিবাদ করেছেন

শুধু সুইফট নন, আরও কয়েক ডজন শিল্পী ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি তাদের গান ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাবরিনা কার্পেন্টার ও আরিয়ানা গ্রান্ডের মতো জনপ্রিয় শিল্পীরাও রয়েছেন।

এ ধরনের বিরোধের মূল বিষয় হলো শিল্পীদের গান রাজনৈতিক প্রচারণায় তাদের সম্মতি ছাড়া বা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।

গত এপ্রিলেও হোয়াইট হাউস একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল, যেখানে আর্টেমিস-২ অভিযানের নভোচারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের দৃশ্য দেখানো হয়। ওই ভিডিওতে সুইফটের ‘হাই ইনফিডেলিটি’ গান এবং গানের একটি লাইন ব্যবহার করা হয়েছিল।

Image

এর আগে নভেম্বরেও হোয়াইট হাউস সুইফটের ‘দ্য ফেইট অব ওপেলিয়া’ গান ব্যবহার করে একটি টিকটক ভিডিও প্রকাশ করেছিল। ভিডিওটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা, বিভিন্ন স্থাপনা এবং ট্রাম্পের নানা ছবি দেখানো হয়। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ট্রাম্পের গ্রেপ্তারের সময় তোলা ছবিও ছিল।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। পরে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, প্রশাসন জানত যে সংবাদমাধ্যমগুলো ভিডিওটি ব্যাপকভাবে প্রচার করবে।

জনপ্রিয় গান দিয়ে রাজনৈতিক বার্তা

ট্রাম্পের যোগাযোগ দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন সময়ে তারা জনপ্রিয় গানকে রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে যুক্ত করে ভিডিও প্রকাশ করেছে। এসব পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে সুইফটের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধের কারণে তার গান ব্যবহার বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক পোস্টগুলো থেকে গান সরিয়ে নেওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক প্রচারণায় জনপ্রিয় শিল্পীদের গান ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও প্রচারশিবির ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করবে।