০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
বিদ্যুৎমন্ত্রী বললেন, লোডশেডিং কমানোর সুযোগ নেই; গ্যাস সংকটে শিল্পে উৎপাদন ক্ষতি ৪০ শতাংশ বই বাছাইয়ে মানুষের রুচিই কেন এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে স্মার্টফোন থেকে গাড়ি—সবখানেই মেমোরি চিপের সংকট ১৫০ বছরেও ম্লান হয়নি বায়রয়থ উৎসবের মোহ, ওয়াগনারের সুরে আজও তীর্থযাত্রা টেনিসের ইতিহাসে রেনে রিচার্ডস: পথ দেখানো এক নারীর উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পকে বাঁচাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিক-সরকারি কর্মকর্তারাই কি ‘অজান্তের ঢাল’? আমেরিকার লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা ছয় বিস্ময়, যেখানে প্রকৃতি এখনো নির্জন ও দুর্দান্ত পুতিনের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপ সফরে জাপানের তীব্র প্রতিবাদ জাতিসংঘের দুই আফগান কর্মীকে আটক করেছে তালেবান খরায় পুড়ছে ব্রিটেনের কৃষিজমি, সামনে ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা

দক্ষিণ লেবাননে আগুন লাগাতে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোন ও গোলাবারুদ ব্যবহার করছে: অগ্নিনির্বাপকদের অভিযোগ

দক্ষিণ লেবাননের বন, জলপাইবাগান ও কৃষিজমিতে ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির অগ্নিনির্বাপক ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরও ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করে এসব এলাকায় বারবার আগুনের সূত্রপাত ঘটানো হচ্ছে।

গত ১৭ জুন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বনভূমি, জলপাইবাগান ও কৃষিজমির বড় অংশ পুড়ে গেছে। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান হুসেইন ফাকিহের হিসাবে, সীমান্তের কাছাকাছি কোনো কোনো এলাকায় আগুনে মোট ভূমির ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ড্রোন ও বিভিন্ন গোলাবারুদ ব্যবহারের অভিযোগ

ফাকিহের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী এসব এলাকায় আগুন লাগানোর কার্যক্রম শুরু করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন থেকে দাহ্য পদার্থ ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে বনভূমিতে সাদা ফসফরাসের গোলা ও আলোক সংকেত দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফ্লেয়ার ছোড়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

Israel deliberately setting southern Lebanon ablaze – firefighters

মঙ্গলবার খিয়ামের বাইরে একটি বনাঞ্চলের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করলে সেখানে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেন ফাকিহ। পরে আগুন নেভাতে যাওয়া অগ্নিনির্বাপকদের কাছাকাছি একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে নিরাপত্তার কারণে দমকলকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে হয়।

যুদ্ধবিরতির পরও ধ্বংসযজ্ঞ

দক্ষিণ লেবাননের ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রও উঠে এসেছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানে বাড়িঘর, বিদ্যালয়, কৃষিজমি, বনাঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি ইসরায়েলি বাহিনী সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে কয়েকটি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরও উল্লেখযোগ্য ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত ছিল। পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের আরও ভেতরে অগ্রসর হয়ে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী বা বাফার অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে।

As new prime minister, Nawaf Salam LL.M. '91 seeks to 'build the state' in  a renewed Lebanon - Harvard Law School | Harvard Law School

জুন নাগাদ ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এই আয়তন লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

ইসরায়েলকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার দাবি

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বারবার দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সেবা ও অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

তবে যুদ্ধবিরতির পরও আগুন, হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগ দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষ করে কৃষিজমি ও জলপাইবাগানে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষের জীবিকা এবং বাস্তুচ্যুতদের ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎমন্ত্রী বললেন, লোডশেডিং কমানোর সুযোগ নেই; গ্যাস সংকটে শিল্পে উৎপাদন ক্ষতি ৪০ শতাংশ

দক্ষিণ লেবাননে আগুন লাগাতে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোন ও গোলাবারুদ ব্যবহার করছে: অগ্নিনির্বাপকদের অভিযোগ

০১:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননের বন, জলপাইবাগান ও কৃষিজমিতে ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির অগ্নিনির্বাপক ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরও ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করে এসব এলাকায় বারবার আগুনের সূত্রপাত ঘটানো হচ্ছে।

গত ১৭ জুন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বনভূমি, জলপাইবাগান ও কৃষিজমির বড় অংশ পুড়ে গেছে। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান হুসেইন ফাকিহের হিসাবে, সীমান্তের কাছাকাছি কোনো কোনো এলাকায় আগুনে মোট ভূমির ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ড্রোন ও বিভিন্ন গোলাবারুদ ব্যবহারের অভিযোগ

ফাকিহের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী এসব এলাকায় আগুন লাগানোর কার্যক্রম শুরু করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন থেকে দাহ্য পদার্থ ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে বনভূমিতে সাদা ফসফরাসের গোলা ও আলোক সংকেত দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফ্লেয়ার ছোড়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

Israel deliberately setting southern Lebanon ablaze – firefighters

মঙ্গলবার খিয়ামের বাইরে একটি বনাঞ্চলের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করলে সেখানে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেন ফাকিহ। পরে আগুন নেভাতে যাওয়া অগ্নিনির্বাপকদের কাছাকাছি একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে নিরাপত্তার কারণে দমকলকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে হয়।

যুদ্ধবিরতির পরও ধ্বংসযজ্ঞ

দক্ষিণ লেবাননের ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রও উঠে এসেছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানে বাড়িঘর, বিদ্যালয়, কৃষিজমি, বনাঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি ইসরায়েলি বাহিনী সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে কয়েকটি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরও উল্লেখযোগ্য ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত ছিল। পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের আরও ভেতরে অগ্রসর হয়ে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী বা বাফার অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে।

As new prime minister, Nawaf Salam LL.M. '91 seeks to 'build the state' in  a renewed Lebanon - Harvard Law School | Harvard Law School

জুন নাগাদ ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এই আয়তন লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

ইসরায়েলকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার দাবি

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বারবার দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সেবা ও অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

তবে যুদ্ধবিরতির পরও আগুন, হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগ দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষ করে কৃষিজমি ও জলপাইবাগানে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষের জীবিকা এবং বাস্তুচ্যুতদের ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।