ইরানকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের পরও তেহরান অবস্থান থেকে সরে না আসায় এবার কৌশল বদলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পথে হাঁটছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনায় ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করা, আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং নৌ অবরোধ জোরদার করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে। লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতিকে এমনভাবে চাপে ফেলা, যাতে দেশটির সরকারের ওপর যুদ্ধ বন্ধ বা অবস্থান পরিবর্তনের চাপ তৈরি হয়।
সামরিক অভিযানের বদলে অর্থনৈতিক চাপ
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার বদলে অর্থনৈতিক চাপকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে যে নীতিকে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, নতুন কৌশল অনেকটা সেই পথেই এগোচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে ইরানের বৈদেশিক আয় কমিয়ে দেওয়া এবং তেল বিক্রির সুযোগ সীমিত করাই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তেল রপ্তানিতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা
ইরানের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তেল। তাই দেশটির তেল রপ্তানি কমিয়ে দিতে পারলে সরকারের রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
এ কারণে ইরানের তেল পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সমুদ্রপথে নজরদারি ও নৌ অবরোধ জোরদারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ছয় মাসের যুদ্ধেও আত্মসমর্পণ নয়
ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা মার্কিন সামরিক অভিযান তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, অস্ত্রের মজুত এবং রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ফলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি এখন অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলই সামনে আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই নীতি ইরানকে কতটা নত করতে পারবে, নাকি উল্টো সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করবে—তা এখনই নিশ্চিত নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















