০৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
ট্রাম্পের গোপন বিমানযাত্রা: ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য কতটা বাড়ছে গ্রিসের দ্বীপভ্রমণের স্বপ্ন, নাকি ‘বমির ধূমকেতু’? উত্তাল সাগরে পর্যটকদের নাজেহাল দশা অ্যাপলের টেক্সাসে নতুন কারখানা: ম্যাক মিনি উৎপাদন ও কর্মীদের প্রশিক্ষণে বড় বিনিয়োগ ট্রাম্প-মাস্কের ভাঙা সম্পর্ক আবার জোড়া লাগল, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ১০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা গ্যাসের সংকটে রূপগঞ্জে থমকে শিল্পের চাকা, বাড়ছে লোকসান ও কর্মসংস্থান নিয়ে শঙ্কা পাম্পে ত্রুটি, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু: এক মাস আগেই নিরাপত্তা লঙ্ঘনে আইনি ব্যবস্থা হয়েছিল জাহাজভাঙা ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে ২৫০ দিনেরও বেশি সমুদ্রে মার্কিন রণতরী, খাবার-পানি ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ মীর রাজা আলী হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, স্মার্টঘড়ির ফরেনসিক নিয়ে পরিবারের আপত্তি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন, ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে সহিংসতা তীব্র

উন্নয়নের দৌড়ে আকাশ ছুঁছে মিয়ামির আকাশরেখা, বাড়ছে ঝুঁকির আশঙ্কাও

মিয়ামির আকাশরেখা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একের পর এক অতি-উচ্চ ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এই শহর প্রবেশ করছে নতুন এক নগরায়ণ যুগে। জমির সংকট, বিলাসবহুল আবাসনের বিপুল চাহিদা এবং সমুদ্রের বাধাহীন দৃশ্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় নির্মাতারা ভবনগুলোকে ক্রমেই আরও উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই উচ্চতার প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রকৌশলী ও ভূতত্ত্ববিদদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

জুলাইয়ে মিয়ামির ব্রিকেল এলাকায় নির্মিত সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেস ৯৫০ ফুট উচ্চতা নিয়ে শহরের সবচেয়ে উঁচু ভবনের মর্যাদা পেয়েছে। এটি নিউইয়র্ক শহরের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবনও। ভবনটি আগের রেকর্ডধারী প্যানোরামা টাওয়ারকে ৮২ ফুট পেছনে ফেলেছে।

তবে সিপ্রিয়ানির এই রেকর্ড বেশিদিন স্থায়ী হবে না। ২০২৮ সালে ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া রেসিডেন্সেস আরও উঁচু হয়ে রেকর্ডটি দখল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ২০৩০ সালের মধ্যে মিয়ামি রিভারব্রিজ, দোলচে অ্যান্ড গাব্বানা এবং ওয়ান বেফ্রন্ট—তিনটি ভবনই প্রায় ১ হাজার ৪৯ ফুট বা ৩২০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছানোর কথা। বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে এই উচ্চতাই সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাঁচ বছরের উন্নয়ন নয়, যেন নগর বিপ্লব

৯৮৪ ফুটের বেশি উচ্চতার ভবনকে সাধারণত অতি-উচ্চ ভবন বলা হয়। আর ১ হাজার ৯৬৮ ফুটের বেশি উচ্চতার ভবনকে বলা হয় অতিমাত্রায় উচ্চ ভবন। এ ধরনের স্থাপনা এখনো বিশ্বের খুব অল্প কয়েকটি অঞ্চলে দেখা যায়। সবচেয়ে উঁচু ভবনগুলোর অবস্থান মূলত এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে।

মিয়ামির এই নতুন উচ্চতার যাত্রাকে তাই শহরের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরের প্রথম অতি-উচ্চ ভবন ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া রেসিডেন্সেসের নির্মাণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পিএমজির ব্যবস্থাপনা অংশীদার রায়ান শিয়ার মনে করেন, মিয়ামি এখন আর সাময়িক কোনো উন্নয়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না; বরং শহরে এক ধরনের নগর বিপ্লব চলছে।

শহরে আরও বেশ কয়েকটি উচ্চ ভবন নির্মাণাধীন। এর মধ্যে ডেলানো রেসিডেন্সেসের উচ্চতা হবে প্রায় ৯৮৫ ফুট, সিটাডেল বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের নতুন সদর দপ্তর ৯৫৮ ফুট, ওকান টাওয়ার ৯০২ ফুট, ১৪২৮ ব্রিকেলের আবাসিক ভবন ৮৬১ ফুট, ৬১৯ ব্রিকেল ৮৮৬ ফুট, বাক্কারাত রেসিডেন্সেস ৮৪৮ ফুট এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ রেসিডেন্সেস ৭৭৩ ফুট উঁচু হবে।

ব্রিকেলে নির্মিত অ্যাস্টন মার্টিন রেসিডেন্সেস ২০২৪ সালে সম্পন্ন হয়েছে। ভবনটির উচ্চতা ৮২১ ফুট। এ ছাড়া মিয়ামি শহরের কেন্দ্রস্থলে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত প্রেসিডেন্ট লাইব্রেরির নকশাতেও আকাশরেখার ওপর প্রভাব ফেলবে এমন একটি উঁচু ভবনের ধারণা দেখানো হয়েছে। তবে এর প্রকৃত উচ্চতা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

জমির সংকটেই উল্লম্ব নির্মাণের চাপ

মিয়ামিতে এত দ্রুত ভবন উঁচু হওয়ার অন্যতম কারণ জমির সংকট। দুই দশক আগে নির্মাতারা একটি প্রকল্পের জন্য বড় আকারের পুরো ব্লক সহজেই কিনে নিতে পারতেন। এখন শহরের উন্নত এলাকায় খালি জমি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

অ্যাস্টন মার্টিন রেসিডেন্সেসের কাঠামোগত প্রকৌশলকাজে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ডেসিমোন কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকৌশলী লুইস রামিরেজের মতে, ছোট হয়ে আসা নির্মাণস্থলে লাভজনকভাবে জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হলে ভবনকে ওপরের দিকে বাড়ানো ছাড়া নির্মাতাদের সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই।

ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলে নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে দ্রুত। রামিরেজের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো কিছু অঞ্চলে যেখানে অনুমোদন পেতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে, সেখানে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় তা কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।

আর উঁচু ভবন নির্মাণের অর্থ শুধু বেশি আবাসন তৈরি নয়। নির্মাতাদের কাছে এটি বিলাসবহুল আবাসনের বাজারে বাড়তি সুবিধা পাওয়ারও সুযোগ। বাক্কারাত রেসিডেন্সেসের সঙ্গে যুক্ত নির্মাতা গিল ডেজারের ভাষায়, ভবন যত উঁচু হবে, একটি ছোট জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার তত বেশি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আশপাশের ভবনের ওপরে উঠে সমুদ্রের বাধাহীন দৃশ্যসহ আরও আকর্ষণীয় আবাসন তৈরি করা যাবে।

আকাশরেখায় নাম লেখানোর আকাঙ্ক্ষা

মিয়ামির নতুন ভবনগুলোর পেছনে অর্থনৈতিক হিসাবের পাশাপাশি নান্দনিকতা ও ব্যক্তিগত গর্বও কাজ করছে।

নির্মাতা ডেজার বলেছেন, টেলিভিশনে মিয়ামির দৃশ্য দেখানোর সময় তাঁর নির্মিত ভবনগুলো পর্দায় ভেসে উঠতে দেখলে তাঁর ভালো লাগে। অন্য নির্মাতারাও শহরের আকাশরেখায় নিজেদের স্থায়ী ছাপ রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেসের নির্মাতা কামিলো মিগেলও ভবনটিকে মিয়ামির আকাশরেখায় দৃশ্যমান প্রভাব তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখেছেন।

অর্থাৎ নতুন ভবনগুলো শুধু আবাসনের চাহিদা মেটাচ্ছে না; তারা শহরের পরিচয়ও নতুন করে তৈরি করছে।

Miami's Skyline Is Getting Super Tall - The New York Times

কিন্তু মাটির নিচে রয়েছে বড় প্রশ্ন

মিয়ামির দ্রুত উচ্চতর হয়ে ওঠা আকাশরেখার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত মাটির নিচে।

দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিস্তীর্ণ এলাকা চুনাপাথর ও বালির ওপর অবস্থিত। মাটির এই বৈশিষ্ট্যের কারণে অত্যন্ত উঁচু ভবনের ভিত্তি স্থাপন করা কঠিন এবং ব্যয়বহুল। সাধারণ ভবনের তুলনায় আকাশচুম্বী ভবনের ভিত্তি অনেক গভীর ও প্রশস্ত করতে হয়।

মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের সাবেক ডিন জ্যাঁ-পিয়ের বার্দে বলেছেন, এ ধরনের ভিত্তি তৈরিতে শক্তিশালী ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি দরকার। প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সক্ষমতা থাকলেও নকশায় ব্যবহৃত অনুমানগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা এবং নির্মাণের মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

২০২৪ সালে মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় সানি আইলস বিচের মতো উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে নির্মিত উঁচু ভবনগুলোর মাটি বসে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার বহু বছর পরও কিছু ভবন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বসে যাচ্ছিল।

গবেষকদের ধারণা, আশপাশে চলা নির্মাণকাজের কম্পন এবং চুনাপাথর ও বালির বিশেষ ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের সম্মিলিত প্রভাবে মাটির বালিকণা পুনর্বিন্যস্ত হয়ে আরও ঘন হয়ে যেতে পারে। ফলে ভবনের নিচের মাটি ধীরে ধীরে বসে যেতে পারে।

মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ ফাল্ক আমেলুং বলেন, ইউরোপে উপগ্রহের মাধ্যমে ভবনের বসে যাওয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি এখনো ততটা প্রচলিত নয়, মূলত অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে।

নির্মাণ চলাকালে প্রকৌশলীরা কিছুটা হলেও মাটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্তু ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর বহু বছর ধরে কী ঘটছে, সে বিষয়ে নজরদারি তুলনামূলকভাবে কম। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, ভবনের বসে যাওয়ার প্রক্রিয়া নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও চলতে পারে।

সান ফ্রান্সিসকোর অভিজ্ঞতা সতর্ক করছে

মিয়ামির প্রকৌশলীদের জন্য সান ফ্রান্সিসকোর মিলেনিয়াম টাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

ওই ভবনটি আশপাশের নির্মাণকাজের প্রভাব এবং ভিত্তি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে নির্মাণের বহু বছর পর অতিরিক্তভাবে বসে যেতে ও একদিকে হেলে পড়তে শুরু করে। পরে ভবনটিকে স্থিতিশীল করার জন্য বড় ধরনের প্রকৌশলকাজ করতে হয়। কয়েক বছর পরও ভবনটির উল্লেখযোগ্য হেলে থাকা পুরোপুরি দূর হয়নি।

মিয়ামির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, কারণ শহরটি শুধু নরম ও পরিবর্তনশীল ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের ওপর দাঁড়িয়ে নেই; এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উষ্ণতর সমুদ্র এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠা ঘূর্ণিঝড়েরও মুখোমুখি।

ঘূর্ণিঝড়ই হতে পারে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

মিয়ামির নতুন প্রজন্মের অতি-উচ্চ ভবনগুলো ঝড়ের ক্ষেত্রে এখনো বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি হয়নি।

ভবনগুলো প্রচলিত নির্মাণ বিধি, উন্নত কাঠামোগত বিশ্লেষণ এবং বায়ুপ্রবাহ পরীক্ষার ভিত্তিতে নকশা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৌশলগত পরীক্ষার ফল আর বাস্তবে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাত—দুটি এক বিষয় নয়।

বার্দের সতর্ক করেছেন, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আঘাত হানা বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ে ঘণ্টায় ১৭৫ মাইলেরও বেশি স্থায়ী বাতাসের গতি হতে পারে। ভবন যত উঁচু হয়, বাতাসের প্রভাবও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মিয়ামিতে ১৯৯২ সালের অ্যান্ড্রু ঘূর্ণিঝড়ের পর কোনো বড় ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আঘাত করেনি। ফলে নতুন প্রজন্মের অতি-উচ্চ ভবনগুলো প্রকৃতির এমন শক্তিশালী পরীক্ষায় কেমন আচরণ করবে, তা এখনো অজানা।

থামছে না উচ্চতার প্রতিযোগিতা

তারপরও মিয়ামির নির্মাণযজ্ঞ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং নির্মাতারা ভবিষ্যৎ আকাশরেখাকে আরও উঁচু করার পরিকল্পনা করছেন।

ব্রিকেলে একাধিক অতি-উচ্চ ভবন নির্মাণের অধিকার পাওয়া উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ওক রো ইকুইটিজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এরিক রাটারের মতে, পাঁচ বছর পর নিউইয়র্কের কোনো রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করলে শহরটিকে অনেকটাই আগের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু মিয়ামিতে পাঁচ বছর পর এমন হবে না। শহরটির চেহারা নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে।

আর এই পরিবর্তনেরও শেষ দেখা যাচ্ছে না।

কাঠামোগত প্রকৌশলী রামিরেজ জানান, তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে মিয়ামিতে আকাশচুম্বী ভবনের উচ্চতার সীমা ছিল ৬৫০ ফুট। পরে নির্মাতারা আরও উঁচু ভবন নির্মাণের দাবি তুলতে থাকেন এবং শহরের এমন এলাকাগুলো খুঁজে বের করার জন্য চাপ দেন যেখানে বেশি উচ্চতার অনুমতি পাওয়া যায়।

তাঁর ধারণা, ভবিষ্যতেও নির্মাতারা সেই সীমা আরও ওপরে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

ফলে মিয়ামির সামনে এখন এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব। একদিকে জমির সংকট ও আবাসনের চাহিদা শহরকে আকাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, বালু ও চুনাপাথরের অনিশ্চিত ভূতত্ত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূমি বসে যাওয়ার আশঙ্কা মনে করিয়ে দিচ্ছে—আকাশ যত উঁচু হচ্ছে, ঝুঁকির হিসাবও তত গভীরভাবে করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের গোপন বিমানযাত্রা: ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য কতটা বাড়ছে

উন্নয়নের দৌড়ে আকাশ ছুঁছে মিয়ামির আকাশরেখা, বাড়ছে ঝুঁকির আশঙ্কাও

০৫:২৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

মিয়ামির আকাশরেখা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একের পর এক অতি-উচ্চ ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এই শহর প্রবেশ করছে নতুন এক নগরায়ণ যুগে। জমির সংকট, বিলাসবহুল আবাসনের বিপুল চাহিদা এবং সমুদ্রের বাধাহীন দৃশ্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় নির্মাতারা ভবনগুলোকে ক্রমেই আরও উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই উচ্চতার প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রকৌশলী ও ভূতত্ত্ববিদদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

জুলাইয়ে মিয়ামির ব্রিকেল এলাকায় নির্মিত সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেস ৯৫০ ফুট উচ্চতা নিয়ে শহরের সবচেয়ে উঁচু ভবনের মর্যাদা পেয়েছে। এটি নিউইয়র্ক শহরের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবনও। ভবনটি আগের রেকর্ডধারী প্যানোরামা টাওয়ারকে ৮২ ফুট পেছনে ফেলেছে।

তবে সিপ্রিয়ানির এই রেকর্ড বেশিদিন স্থায়ী হবে না। ২০২৮ সালে ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া রেসিডেন্সেস আরও উঁচু হয়ে রেকর্ডটি দখল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ২০৩০ সালের মধ্যে মিয়ামি রিভারব্রিজ, দোলচে অ্যান্ড গাব্বানা এবং ওয়ান বেফ্রন্ট—তিনটি ভবনই প্রায় ১ হাজার ৪৯ ফুট বা ৩২০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছানোর কথা। বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে এই উচ্চতাই সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাঁচ বছরের উন্নয়ন নয়, যেন নগর বিপ্লব

৯৮৪ ফুটের বেশি উচ্চতার ভবনকে সাধারণত অতি-উচ্চ ভবন বলা হয়। আর ১ হাজার ৯৬৮ ফুটের বেশি উচ্চতার ভবনকে বলা হয় অতিমাত্রায় উচ্চ ভবন। এ ধরনের স্থাপনা এখনো বিশ্বের খুব অল্প কয়েকটি অঞ্চলে দেখা যায়। সবচেয়ে উঁচু ভবনগুলোর অবস্থান মূলত এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে।

মিয়ামির এই নতুন উচ্চতার যাত্রাকে তাই শহরের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরের প্রথম অতি-উচ্চ ভবন ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া রেসিডেন্সেসের নির্মাণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পিএমজির ব্যবস্থাপনা অংশীদার রায়ান শিয়ার মনে করেন, মিয়ামি এখন আর সাময়িক কোনো উন্নয়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না; বরং শহরে এক ধরনের নগর বিপ্লব চলছে।

শহরে আরও বেশ কয়েকটি উচ্চ ভবন নির্মাণাধীন। এর মধ্যে ডেলানো রেসিডেন্সেসের উচ্চতা হবে প্রায় ৯৮৫ ফুট, সিটাডেল বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের নতুন সদর দপ্তর ৯৫৮ ফুট, ওকান টাওয়ার ৯০২ ফুট, ১৪২৮ ব্রিকেলের আবাসিক ভবন ৮৬১ ফুট, ৬১৯ ব্রিকেল ৮৮৬ ফুট, বাক্কারাত রেসিডেন্সেস ৮৪৮ ফুট এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ রেসিডেন্সেস ৭৭৩ ফুট উঁচু হবে।

ব্রিকেলে নির্মিত অ্যাস্টন মার্টিন রেসিডেন্সেস ২০২৪ সালে সম্পন্ন হয়েছে। ভবনটির উচ্চতা ৮২১ ফুট। এ ছাড়া মিয়ামি শহরের কেন্দ্রস্থলে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত প্রেসিডেন্ট লাইব্রেরির নকশাতেও আকাশরেখার ওপর প্রভাব ফেলবে এমন একটি উঁচু ভবনের ধারণা দেখানো হয়েছে। তবে এর প্রকৃত উচ্চতা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

জমির সংকটেই উল্লম্ব নির্মাণের চাপ

মিয়ামিতে এত দ্রুত ভবন উঁচু হওয়ার অন্যতম কারণ জমির সংকট। দুই দশক আগে নির্মাতারা একটি প্রকল্পের জন্য বড় আকারের পুরো ব্লক সহজেই কিনে নিতে পারতেন। এখন শহরের উন্নত এলাকায় খালি জমি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

অ্যাস্টন মার্টিন রেসিডেন্সেসের কাঠামোগত প্রকৌশলকাজে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ডেসিমোন কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকৌশলী লুইস রামিরেজের মতে, ছোট হয়ে আসা নির্মাণস্থলে লাভজনকভাবে জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হলে ভবনকে ওপরের দিকে বাড়ানো ছাড়া নির্মাতাদের সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই।

ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলে নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে দ্রুত। রামিরেজের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো কিছু অঞ্চলে যেখানে অনুমোদন পেতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে, সেখানে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় তা কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।

আর উঁচু ভবন নির্মাণের অর্থ শুধু বেশি আবাসন তৈরি নয়। নির্মাতাদের কাছে এটি বিলাসবহুল আবাসনের বাজারে বাড়তি সুবিধা পাওয়ারও সুযোগ। বাক্কারাত রেসিডেন্সেসের সঙ্গে যুক্ত নির্মাতা গিল ডেজারের ভাষায়, ভবন যত উঁচু হবে, একটি ছোট জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার তত বেশি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আশপাশের ভবনের ওপরে উঠে সমুদ্রের বাধাহীন দৃশ্যসহ আরও আকর্ষণীয় আবাসন তৈরি করা যাবে।

আকাশরেখায় নাম লেখানোর আকাঙ্ক্ষা

মিয়ামির নতুন ভবনগুলোর পেছনে অর্থনৈতিক হিসাবের পাশাপাশি নান্দনিকতা ও ব্যক্তিগত গর্বও কাজ করছে।

নির্মাতা ডেজার বলেছেন, টেলিভিশনে মিয়ামির দৃশ্য দেখানোর সময় তাঁর নির্মিত ভবনগুলো পর্দায় ভেসে উঠতে দেখলে তাঁর ভালো লাগে। অন্য নির্মাতারাও শহরের আকাশরেখায় নিজেদের স্থায়ী ছাপ রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেসের নির্মাতা কামিলো মিগেলও ভবনটিকে মিয়ামির আকাশরেখায় দৃশ্যমান প্রভাব তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখেছেন।

অর্থাৎ নতুন ভবনগুলো শুধু আবাসনের চাহিদা মেটাচ্ছে না; তারা শহরের পরিচয়ও নতুন করে তৈরি করছে।

Miami's Skyline Is Getting Super Tall - The New York Times

কিন্তু মাটির নিচে রয়েছে বড় প্রশ্ন

মিয়ামির দ্রুত উচ্চতর হয়ে ওঠা আকাশরেখার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত মাটির নিচে।

দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিস্তীর্ণ এলাকা চুনাপাথর ও বালির ওপর অবস্থিত। মাটির এই বৈশিষ্ট্যের কারণে অত্যন্ত উঁচু ভবনের ভিত্তি স্থাপন করা কঠিন এবং ব্যয়বহুল। সাধারণ ভবনের তুলনায় আকাশচুম্বী ভবনের ভিত্তি অনেক গভীর ও প্রশস্ত করতে হয়।

মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের সাবেক ডিন জ্যাঁ-পিয়ের বার্দে বলেছেন, এ ধরনের ভিত্তি তৈরিতে শক্তিশালী ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি দরকার। প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সক্ষমতা থাকলেও নকশায় ব্যবহৃত অনুমানগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা এবং নির্মাণের মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

২০২৪ সালে মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় সানি আইলস বিচের মতো উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে নির্মিত উঁচু ভবনগুলোর মাটি বসে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার বহু বছর পরও কিছু ভবন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বসে যাচ্ছিল।

গবেষকদের ধারণা, আশপাশে চলা নির্মাণকাজের কম্পন এবং চুনাপাথর ও বালির বিশেষ ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের সম্মিলিত প্রভাবে মাটির বালিকণা পুনর্বিন্যস্ত হয়ে আরও ঘন হয়ে যেতে পারে। ফলে ভবনের নিচের মাটি ধীরে ধীরে বসে যেতে পারে।

মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ ফাল্ক আমেলুং বলেন, ইউরোপে উপগ্রহের মাধ্যমে ভবনের বসে যাওয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি এখনো ততটা প্রচলিত নয়, মূলত অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে।

নির্মাণ চলাকালে প্রকৌশলীরা কিছুটা হলেও মাটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্তু ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর বহু বছর ধরে কী ঘটছে, সে বিষয়ে নজরদারি তুলনামূলকভাবে কম। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, ভবনের বসে যাওয়ার প্রক্রিয়া নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও চলতে পারে।

সান ফ্রান্সিসকোর অভিজ্ঞতা সতর্ক করছে

মিয়ামির প্রকৌশলীদের জন্য সান ফ্রান্সিসকোর মিলেনিয়াম টাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

ওই ভবনটি আশপাশের নির্মাণকাজের প্রভাব এবং ভিত্তি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে নির্মাণের বহু বছর পর অতিরিক্তভাবে বসে যেতে ও একদিকে হেলে পড়তে শুরু করে। পরে ভবনটিকে স্থিতিশীল করার জন্য বড় ধরনের প্রকৌশলকাজ করতে হয়। কয়েক বছর পরও ভবনটির উল্লেখযোগ্য হেলে থাকা পুরোপুরি দূর হয়নি।

মিয়ামির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, কারণ শহরটি শুধু নরম ও পরিবর্তনশীল ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের ওপর দাঁড়িয়ে নেই; এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উষ্ণতর সমুদ্র এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠা ঘূর্ণিঝড়েরও মুখোমুখি।

ঘূর্ণিঝড়ই হতে পারে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

মিয়ামির নতুন প্রজন্মের অতি-উচ্চ ভবনগুলো ঝড়ের ক্ষেত্রে এখনো বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি হয়নি।

ভবনগুলো প্রচলিত নির্মাণ বিধি, উন্নত কাঠামোগত বিশ্লেষণ এবং বায়ুপ্রবাহ পরীক্ষার ভিত্তিতে নকশা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৌশলগত পরীক্ষার ফল আর বাস্তবে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাত—দুটি এক বিষয় নয়।

বার্দের সতর্ক করেছেন, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আঘাত হানা বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ে ঘণ্টায় ১৭৫ মাইলেরও বেশি স্থায়ী বাতাসের গতি হতে পারে। ভবন যত উঁচু হয়, বাতাসের প্রভাবও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মিয়ামিতে ১৯৯২ সালের অ্যান্ড্রু ঘূর্ণিঝড়ের পর কোনো বড় ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আঘাত করেনি। ফলে নতুন প্রজন্মের অতি-উচ্চ ভবনগুলো প্রকৃতির এমন শক্তিশালী পরীক্ষায় কেমন আচরণ করবে, তা এখনো অজানা।

থামছে না উচ্চতার প্রতিযোগিতা

তারপরও মিয়ামির নির্মাণযজ্ঞ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং নির্মাতারা ভবিষ্যৎ আকাশরেখাকে আরও উঁচু করার পরিকল্পনা করছেন।

ব্রিকেলে একাধিক অতি-উচ্চ ভবন নির্মাণের অধিকার পাওয়া উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ওক রো ইকুইটিজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এরিক রাটারের মতে, পাঁচ বছর পর নিউইয়র্কের কোনো রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করলে শহরটিকে অনেকটাই আগের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু মিয়ামিতে পাঁচ বছর পর এমন হবে না। শহরটির চেহারা নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে।

আর এই পরিবর্তনেরও শেষ দেখা যাচ্ছে না।

কাঠামোগত প্রকৌশলী রামিরেজ জানান, তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে মিয়ামিতে আকাশচুম্বী ভবনের উচ্চতার সীমা ছিল ৬৫০ ফুট। পরে নির্মাতারা আরও উঁচু ভবন নির্মাণের দাবি তুলতে থাকেন এবং শহরের এমন এলাকাগুলো খুঁজে বের করার জন্য চাপ দেন যেখানে বেশি উচ্চতার অনুমতি পাওয়া যায়।

তাঁর ধারণা, ভবিষ্যতেও নির্মাতারা সেই সীমা আরও ওপরে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

ফলে মিয়ামির সামনে এখন এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব। একদিকে জমির সংকট ও আবাসনের চাহিদা শহরকে আকাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, বালু ও চুনাপাথরের অনিশ্চিত ভূতত্ত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূমি বসে যাওয়ার আশঙ্কা মনে করিয়ে দিচ্ছে—আকাশ যত উঁচু হচ্ছে, ঝুঁকির হিসাবও তত গভীরভাবে করতে হবে।