চীনগামী দীর্ঘ বিমানযাত্রায় যখন মন্ত্রিসভার সদস্য, ব্যবসায়ী নির্বাহী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যরা বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে উঠছিলেন, তখন তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন ইলন মাস্ক। প্রায় এক বছর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু গত মে মাসে বেইজিংয়ের পথে সেই একই বিমানে দুজনকে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থায় দেখা যায়।
বিমানটিতে থাকা কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান মাস্ক ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। ট্রাম্প তাঁকে একটি মহাকাশ উৎক্ষেপণের ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা শোনান এবং মাস্কের এক ছোট ছেলের খোঁজ নেন। মাস্কও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত থাকার সময় কতটা আনন্দ পেয়েছিলেন, সেই স্মৃতিচারণ করেন।
এরপর মাস্ক ট্রাম্পের দলের জন্য বহু মাস ধরে অপেক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর দেন। তিনি জানান, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকানদের সহায়তা করতে চান। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, রিপাবলিকান দলকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তার জন্য ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার উদ্যোগে মাস্ক অন্তত ১০ কোটি ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করছেন।
এ ঘটনাটি ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রায় এক বছরব্যাপী প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক জোট হিসেবে দেখা হয়েছিল তাঁদের সম্পর্ককে। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর আবার দুজনকে কাছাকাছি আনতে গোপন ফোনালাপ, পারস্পরিক বন্ধুদের উদ্যোগ, মার-আ-লাগোয় আমন্ত্রণ এবং হোয়াইট হাউসে আয়োজন—সবই ভূমিকা রেখেছে।
চার্লি কার্কের মৃত্যুও হয়ে ওঠে সম্পর্ক জোড়ার এক মোড়
ট্রাম্প ও মাস্কের পুনর্মিলনের প্রক্রিয়ায় একটি মর্মান্তিক ঘটনাও ভূমিকা রাখে। রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ক মৃত্যুর আগের কয়েক মাস ধরে দুজনের সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কার্ককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
কার্কের স্মরণসভায় অ্যারিজোনার একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে ট্রাম্প ও মাস্ক দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। দুজনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশ্য বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠার সময়ও কার্ক মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিলেন।
ট্রাম্পের প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও মাস্কের ঘনিষ্ঠ ডেভিড স্যাকস হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মকর্তা সুসি ওয়াইলসকে দুজনকে একসঙ্গে বসানোর উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করেন। এরপর মাস্ক স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে ট্রাম্পের কাছে গিয়ে অল্প সময় কথা বলেন। মাস্ক চলে যাওয়ার সময় ট্রাম্প তাঁর কনুইয়ে হাত রেখে বিদায় জানান।
পরে বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে ট্রাম্প ওই সাক্ষাৎ নিয়ে কথা বলেন। তিনি ঘটনাটিকে আকর্ষণীয় বলে বর্ণনা করেন এবং উপস্থিত অন্যদের কাছে তাঁদের কী মনে হয়েছে, তা জানতে চান। সেদিন রাতে মাস্ক ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের একটি ছবি প্রকাশ করে লেখেন, ‘চার্লির জন্য।’
একসময় ছিলেন ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প ও মাস্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হন। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মাস্ক হোয়াইট হাউস চত্বরে থাকা শুরু করেন এবং কখনো কখনো সেখানেই রাত কাটাতেন। সরকারের আকার কমানোর উদ্যোগ তদারকিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
তবে মাস্কের অপ্রচলিত কাজের ধরন দ্রুত নেতিবাচক সংবাদ তৈরি করতে থাকে। ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, নিজেদের অধীন সংস্থাগুলোর ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত তাঁদের; কিন্তু মাস্কের কর্মকাণ্ড সেই কর্তৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলছিল।
ট্রাম্পের কয়েকজন সহযোগী মাস্ককে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জোর দিয়ে বলে আসছিলেন যে তাঁদের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী।
কিন্তু ২০২৫ সালের জুনে সবকিছু ভেঙে পড়ে।
প্রকাশ্য সংঘাতে বিস্ফোরিত হয় সম্পর্ক
পর্দার আড়ালের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়। সেই সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে মাস্ক তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে লেখেন, ‘সময় এসেছে সত্যিকারের বড় বোমাটি ফেলার।’
এরপর তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের নাম জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে রয়েছে এবং সেটিই নথিগুলো প্রকাশ না করার ‘আসল কারণ’।
ট্রাম্পও পাল্টা জবাব দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তিনি মাস্কের সরকারি চুক্তি বাতিলের হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য থাকা প্রণোদনা বাতিল হওয়ায় মাস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ কর ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত বিলের বিরোধিতা করছেন।
মাস্ক ওই আইনপ্রস্তাবকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে দেবে।
ট্রাম্পকে পুনর্নির্বাচিত করতে প্রায় ৩০ কোটি ডলার ব্যয় করা মাস্ক তখন লেখেন, তাঁকে ছাড়া ট্রাম্প নির্বাচনে জিততে পারতেন না। এরপর তিনি ট্রাম্পের ‘কৃতজ্ঞতাহীনতা’ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে মাস্কের আক্রমণকে একটি ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা’ হিসেবে গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পর্দার আড়ালে প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দ্রুত সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ নেন।
ভাঙনের পরদিনই শুরু হয় যোগাযোগ
প্রকাশ্য বিবাদের মাত্র এক দিন পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মকর্তা সুসি ওয়াইলস মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা কমানো। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, তাঁরা মনে করেছিলেন পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে চেষ্টা করে হারানোর মতো আর তেমন কিছু নেই।
আলোচনা ভালোভাবেই এগোয়। এরপর পরের সপ্তাহের শুরুতে মাস্ক নিজেই ট্রাম্পকে ফোন করেন। দুজনের মধ্যে ইতিবাচক কথোপকথন হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। ফোনালাপের পর মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কিছু মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
তবে সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও অনেক মাস লেগে যায়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে জানান, মাস্ককে তখনও তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত নন।
ভ্যান্সের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ
ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্ক পুনর্গঠনে জে ডি ভ্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি মাস্ক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখেন।
গত গ্রীষ্মের শেষ দিকে মাস্ক নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, ট্রাম্পের কয়েকজন উপদেষ্টা এটিকে শান্তির প্রস্তাব হিসেবে দেখেছিলেন। মাস্কের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভ্যান্সের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছাও কাজ করেছিল বলে তাঁরা জানান।
ভ্যান্সকে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ভ্যান্স মনে করতেন মাস্ক এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, যাঁকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর স্থায়ী বিচ্ছেদ হলে তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারত। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্পেসএক্সের সরকারি চুক্তির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
স্পেসএক্সের চুক্তিও হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
২০২৫ সালের জুনের সংঘাতের পর ট্রাম্প প্রশাসন স্পেসএক্সের সঙ্গে সরকারের চুক্তিগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। সেই পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ চুক্তিই প্রতিরক্ষা দপ্তর ও নাসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিচালনার ব্যবস্থার সঙ্গে স্পেসএক্স আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মাস্কের স্থায়ী বিরোধ শুধু রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয় ছিল না; এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমও জড়িয়ে পড়েছিল।
দুই কর্মীর পরিবর্তনেও কমে উত্তেজনা
হোয়াইট হাউসে মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সহযোগী সার্জিও গোরেরও বারবার সংঘাত হচ্ছিল।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে একটি বৈঠকে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মাস্কের নেতৃত্বাধীন সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচিতে যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে না। মাস্ক এ জন্য গোরকে দায়ী করেন। প্রশাসনে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা গোরকে নিয়ে মাস্কের অভিযোগের পর ট্রাম্প তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একজন জানান।
এরপর গত আগস্টে ট্রাম্প গোরকে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে নভেম্বরে। ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে মাস্কের ঘনিষ্ঠ জ্যারেড আইজ্যাকম্যানকে নাসার প্রধান হিসেবে পুনর্নিয়োগ করেন। সম্পর্কের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, মাস্ক এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন।
নাসার শীর্ষ পদটি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়েছিল। ট্রাম্প জুনে মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার সময় আইজ্যাকম্যানকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর জায়গায় পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইজ্যাকম্যানই আবার ওই পদে ফিরে আসেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় অঙ্কের অর্থ ঢালবেন মাস্ক
আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য মাস্ক আমেরিকা পিএসিতে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থী প্রচেষ্টায় অর্থ জোগানোর জন্য তিনি এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একজনের মতে, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার বিশেষ উদ্যোগে মাস্ক অন্তত ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছেন।
অর্থাৎ, একসময় যে সম্পর্ক প্রকাশ্য অভিযোগ, পাল্টা হুমকি এবং রাজনৈতিক সংঘাতে প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, সেটিই এখন আবার নির্বাচনী সহযোগিতায় ফিরে এসেছে।
পুনর্মিলনে দুজনেরই স্বার্থ
ট্রাম্প ও মাস্কের এই নতুন করে ঘনিষ্ঠ হওয়া শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের পুনরুদ্ধার নয়; এর পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থও রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, তাহলে ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি তারা নিয়ে রেখেছে। সরকারি চুক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল মাস্কও তখন রাজনৈতিক তদন্ত বা চাপের মুখে পড়তে পারেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের জন্য মাস্কের বিপুল অর্থ, প্রযুক্তিগত প্রভাব এবং ভোটারদের সংগঠিত করার সক্ষমতা অত্যন্ত মূল্যবান। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাস্ক প্রায় ৩০ কোটি ডলার ব্যয় করে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনে সহায়তা করেছিলেন। এবারও তিনি রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত।
তবে ট্রাম্পের সহযোগীদের মতে, সম্পর্ক আর আগের জায়গায় ফিরে যায়নি। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, তিনি ও মাস্ক আর কখনো আগের মতো ঘনিষ্ঠ হবেন না। তবু দুজন এখন আবার কথা বলছেন—প্রায় মাসে একবার।
একসময়কার বিস্ফোরক রাজনৈতিক বিচ্ছেদের পর এই যোগাযোগই হয়তো সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব আগের জায়গায় না ফিরলেও রাজনৈতিক প্রয়োজন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প ও মাস্ককে আবার একই পাশে দাঁড় করিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















