১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট নেপালের নতুন রাজনৈতিক তারকার আলো কেন ম্লান হয়ে আসছে সেন্ট্রাল পার্কে শেক্সপিয়রের ‘শীতের কাহিনি’, পুরোনো আবহে নতুন মুগ্ধতা

অঢেল অর্থের মানুষের অসম্ভব ইচ্ছা পূরণ করাই অলিভিয়া ফার্নির কাজ

কখনো প্যারিস থেকে মিয়ামির এক ধনকুবেরের মেয়ের জন্য শহরের সবচেয়ে বড় ক্রসাঁ আনিয়ে দেওয়া, কখনো আবার কয়েক লাখ ডলার খরচ করে লাস ভেগাসে এমন পার্টির আয়োজন করা—যার উদ্দেশ্য শুধু অতিথিদের চমকে দেওয়া নয়, বিশ্ব রেকর্ড গড়া। অতি ধনীদের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই, আর সেই অসম্ভব ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়ন করাই ২৫ বছর বয়সী অলিভিয়া ফার্নির পেশা।

কানাডার অন্টারিওর এক সাধারণ পরিবারে স্কুলশিক্ষক বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে বড় হয়েছেন ফার্নি। ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ, প্রতিদিন ২৫ হাজার ডলারের বিলাসবহুল কাবানা কিংবা কোটি ডলারের ভ্রমণ—এসব ছিল তাঁর পরিচিত জীবনের সম্পূর্ণ বাইরে। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে তিনি এমন এক পেশায় ঢুকে পড়েন, যেখানে অতি ধনীদের খেয়াল-খুশিই হয়ে ওঠে কাজের কেন্দ্রবিন্দু।

ফার্নি এখন ‘টপ টিয়ার ট্রাভেল’ নামের বিলাসবহুল ভ্রমণ সংস্থার অংশীদার। তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগী ও বাগদত্তা ট্রয় আর্নল্ডের সঙ্গে মিলে তিনি বিশ্বের অতি ধনী গ্রাহকদের জন্য ভ্রমণ, বিনোদন, পার্টি এবং নানা ধরনের বিশেষ আয়োজন করেন।

তাঁদের গ্রাহকদের জন্য বার্ষিক সদস্যপদের ফি ১ লাখ ডলার। পাশাপাশি বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলারের ভ্রমণ বুক করার অঙ্গীকারও করতে হয়। অর্থাৎ এই সেবা সাধারণ বিলাসিতা নয়; এটি কেবল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষের জন্য তৈরি এক বিশেষ ব্যবস্থা।

লাস ভেগাসে ২ লাখ ২৬ হাজার ডলারের শ্যাম্পেন-কাণ্ড

সম্প্রতি লাস ভেগাসে এক ধনকুবের প্রযুক্তি উদ্যোক্তার জন্য ফার্নি এমন একটি আয়োজন করেন, যা তাঁর কাজের ধরনকে সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে।

ওই ব্যবসায়ী ১৫ কোটি ডলারের একটি ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পন্ন করতে লাস ভেগাসে গিয়েছিলেন। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি এমন একটি উদযাপন চেয়েছিলেন, যা হবে একেবারে ‘অসাধারণ’। ফার্নি তখন সিদ্ধান্ত নেন, কেননা আয়োজনটি বিশ্ব রেকর্ডের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একজন কর্মকর্তাকেও সেখানে উপস্থিত করেন। লক্ষ্য ছিল ‘সবচেয়ে বড় শ্যাম্পেন প্রদর্শন’-এর রেকর্ড তৈরি করা।

লাস ভেগাসের এনকোর বিচ ক্লাবে আয়োজন করা হয় সেই রাতের অনুষ্ঠান। শহরের তাপমাত্রা দিনের বেলায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। তারপরও ২ হাজার ৮০০ মানুষ সেখানে জড়ো হন। একটি টেবিলের জন্য অতিথিদের কেউ ১ হাজার ৫০০ ডলার, আবার কেউ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দিয়েছেন।

রাত দেড়টার দিকে শুরু হয় মূল প্রদর্শনী। ৬৯ জন পরিবেশনকারী লাল পোশাক পরে মঞ্চে আসেন। কেউ স্পিডবোটের আদলে তৈরি ভাসমান প্ল্যাটফর্মে, কেউ ফায়ার ট্রাকের আকৃতির প্ল্যাটফর্মে, আবার কেউ বিশাল হাঙরের আকৃতির কাঠামোর ওপর ছিলেন।

তাঁদের হাতে ছিল দামি শ্যাম্পেনের বোতল। সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক বোতলের ছিপি খোলা হয়। এরপর শ্যাম্পেন ছিটিয়ে দেওয়া হয় নৃত্যশিল্পী ও দর্শকদের ওপর।

পুরো আয়োজনের পানীয়ের পেছনেই খরচ হয় প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার ডলার। এর মধ্যে ছিল ১২৫ বোতল পেরিয়ের জুয়ে গ্রাঁ ব্রু, ৫০ বোতল দম পেরিয়ন ব্রু লুমিনাস এবং পাঁচ বোতল ডস হামব্রেস ব্লাঙ্কো টেকিলা।

ফার্নির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর গ্রাহক আরও বেশি অর্থ খরচ করতে রাজি ছিলেন। তবে আগের রাতে ক্যাসিনোতে বড় অঙ্কের অর্থ হারানোয় খরচ কিছুটা কমাতে হয়েছিল।

‘আমাদের কাজ হলো আয়োজন করা, বিচার করা নয়’

ফার্নির কাজের একটি মূলনীতি হলো—গ্রাহক কী চাইছেন, সেটি বাস্তবায়ন করা; তাঁর ইচ্ছাকে বিচার না করা।

এই নীতির কারণও স্পষ্ট। তাঁর গ্রাহকদের কেউ ফরাসি রিভিয়েরায় এক সপ্তাহের জন্য একটি বিলাসবহুল ইয়ট ভাড়া নিতে ২২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেছেন।

একজন গ্রাহকের অসুস্থ বোনকে পরিবারের ছুটিতে যোগ দেওয়াতে হঠাৎ একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। অন্য একজনের জন্য কানাডার একটি বেকারির বিখ্যাত বাটার টার্টের পুরো দিনের উৎপাদন কিনে নেওয়া হয়েছিল।

আর মিয়ামির এক ধনকুবেরের মেয়ের জন্য ফার্নি নিজেই প্যারিসে গিয়ে শহরের বিশাল আকৃতির একটি ক্রসাঁ সংগ্রহ করেছিলেন।

তাঁর প্রতিষ্ঠান এমন ধনী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধাও নিশ্চিত করে, যাঁরা সাধারণ বিলাসবহুল ব্যবস্থাতেও সন্তুষ্ট নন। নামী রেস্তোরাঁয় শেষ মুহূর্তের আসন, ফর্মুলা ওয়ান প্রতিযোগিতার বিশেষ প্রবেশাধিকার কিংবা ব্যক্তিগত বোম্বার্ডিয়ার উড়োজাহাজ—সবই তাঁদের সেবার অংশ।

She Makes the Impossible Happen for Her Ultrarich Clients - The New York  Times

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অতিরিক্ত বিলাসিতা’

ফার্নির জীবনযাপন এখন আর শুধু তাঁর গ্রাহকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। ধনীদের অদ্ভুত আবদার পূরণের নানা ভিডিও নিয়মিত প্রকাশ করেন তিনি।

এই ভিডিওগুলোই তাঁকে বৃহত্তর পরিচিতি এনে দিয়েছে। ২০২৬ সালে টাইম ম্যাগাজিনের শীর্ষ ১০০ ডিজিটাল প্রভাবকের তালিকাতেও তাঁর নাম এসেছে।

এদিকে ‘সেভারেন্স’ ও ‘কিলিং ইভ’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফিফথ সিজন ফার্নি ও আর্নল্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। তাঁদের প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একটি চিত্রনাট্যভিত্তিক ধারাবাহিক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

ফার্নির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে এই বৈপরীত্য। সাধারণ মানুষ যখন জ্বালানির উচ্চ দাম, যুদ্ধ কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন তাঁর ভিডিওতে দেখা যায় এমন এক পৃথিবী, যেখানে কয়েক লাখ ডলার খরচ করে একটি পার্টিতে শ্যাম্পেন ছিটানোও সম্ভব।

ফার্নি ধনীদের আবদার সামলান ধৈর্য, হাস্যরস এবং খানিকটা ব্যঙ্গের সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, কোনো কাজই খুব বড় বা খুব ছোট নয়।

সাধারণ জীবন থেকে বিলাসিতার জগতে

ফার্নি নিজেই স্বীকার করেন, এই জীবন তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। কানাডার ছোট্ট লগ কেবিনের জীবন থেকে তিনি এখন এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছুটে বেড়ান।

ট্রয়ের সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন। শুরুতে এর একটি কারণ ছিল ভিসাসংক্রান্ত প্রয়োজন। কিন্তু ধীরে ধীরে এই পেশাই তাঁর জীবনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

এখন তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই। বিলাসবহুল হোটেলই অনেকটা তাঁদের বাড়ি। একটানা ভ্রমণ, অভিজাত গ্রাহক এবং অস্বাভাবিক সব চাহিদাই তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

আগে ‘টপ টিয়ার ট্রাভেল’ মূলত পরিচিতদের মাধ্যমে ব্যবসা করত এবং গ্রাহকদের পরিচয় ও কাজকর্মের ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখত। ফার্নির পরামর্শেই প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়।

প্রথমে তথ্যভিত্তিক ভিডিও খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি। পরে তাঁরা গ্রাহকদের ফোনালাপ ও নানা পরিস্থিতির পুনর্নির্মাণ করে ভিডিও বানাতে শুরু করেন। সেগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে যায়।

আর্নল্ডের ভাষায়, তাঁরা এমন এক জীবনযাপনকে সাধারণ দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন, যা আসলে সাধারণ মানুষের কাছে ‘অস্বাভাবিক’।

অতি ধনীদের নিয়ে ফার্নির উপলব্ধি

এতদিন অতি ধনীদের সঙ্গে কাজ করার পর ফার্নির উপলব্ধি, তাঁদের নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণাই সত্য। তবে একটি ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন।

অনেকে মনে করেন, অতি ধনী মানুষ সুখী নন। ফার্নির অভিজ্ঞতা অবশ্য ভিন্ন। তাঁর মতে, বিপুল সম্পদের অধিকারী মানুষকে বাইরে থেকে যতটা অসুখী মনে হয়, বাস্তবে তাঁরা ততটা নন।

অর্থের বিনিময়ে পৃথিবীর প্রায় যেকোনো অভিজ্ঞতা কেনা সম্ভব—আর ফার্নির কাজ হলো সেই চাহিদাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। তাঁর কাছে অসম্ভব কোনো শব্দ নয়; বরং অসম্ভবকে সম্ভব করাই তাঁর ব্যবসার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও

অঢেল অর্থের মানুষের অসম্ভব ইচ্ছা পূরণ করাই অলিভিয়া ফার্নির কাজ

০৬:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

কখনো প্যারিস থেকে মিয়ামির এক ধনকুবেরের মেয়ের জন্য শহরের সবচেয়ে বড় ক্রসাঁ আনিয়ে দেওয়া, কখনো আবার কয়েক লাখ ডলার খরচ করে লাস ভেগাসে এমন পার্টির আয়োজন করা—যার উদ্দেশ্য শুধু অতিথিদের চমকে দেওয়া নয়, বিশ্ব রেকর্ড গড়া। অতি ধনীদের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই, আর সেই অসম্ভব ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়ন করাই ২৫ বছর বয়সী অলিভিয়া ফার্নির পেশা।

কানাডার অন্টারিওর এক সাধারণ পরিবারে স্কুলশিক্ষক বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে বড় হয়েছেন ফার্নি। ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ, প্রতিদিন ২৫ হাজার ডলারের বিলাসবহুল কাবানা কিংবা কোটি ডলারের ভ্রমণ—এসব ছিল তাঁর পরিচিত জীবনের সম্পূর্ণ বাইরে। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে তিনি এমন এক পেশায় ঢুকে পড়েন, যেখানে অতি ধনীদের খেয়াল-খুশিই হয়ে ওঠে কাজের কেন্দ্রবিন্দু।

ফার্নি এখন ‘টপ টিয়ার ট্রাভেল’ নামের বিলাসবহুল ভ্রমণ সংস্থার অংশীদার। তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগী ও বাগদত্তা ট্রয় আর্নল্ডের সঙ্গে মিলে তিনি বিশ্বের অতি ধনী গ্রাহকদের জন্য ভ্রমণ, বিনোদন, পার্টি এবং নানা ধরনের বিশেষ আয়োজন করেন।

তাঁদের গ্রাহকদের জন্য বার্ষিক সদস্যপদের ফি ১ লাখ ডলার। পাশাপাশি বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলারের ভ্রমণ বুক করার অঙ্গীকারও করতে হয়। অর্থাৎ এই সেবা সাধারণ বিলাসিতা নয়; এটি কেবল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষের জন্য তৈরি এক বিশেষ ব্যবস্থা।

লাস ভেগাসে ২ লাখ ২৬ হাজার ডলারের শ্যাম্পেন-কাণ্ড

সম্প্রতি লাস ভেগাসে এক ধনকুবের প্রযুক্তি উদ্যোক্তার জন্য ফার্নি এমন একটি আয়োজন করেন, যা তাঁর কাজের ধরনকে সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে।

ওই ব্যবসায়ী ১৫ কোটি ডলারের একটি ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পন্ন করতে লাস ভেগাসে গিয়েছিলেন। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি এমন একটি উদযাপন চেয়েছিলেন, যা হবে একেবারে ‘অসাধারণ’। ফার্নি তখন সিদ্ধান্ত নেন, কেননা আয়োজনটি বিশ্ব রেকর্ডের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একজন কর্মকর্তাকেও সেখানে উপস্থিত করেন। লক্ষ্য ছিল ‘সবচেয়ে বড় শ্যাম্পেন প্রদর্শন’-এর রেকর্ড তৈরি করা।

লাস ভেগাসের এনকোর বিচ ক্লাবে আয়োজন করা হয় সেই রাতের অনুষ্ঠান। শহরের তাপমাত্রা দিনের বেলায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। তারপরও ২ হাজার ৮০০ মানুষ সেখানে জড়ো হন। একটি টেবিলের জন্য অতিথিদের কেউ ১ হাজার ৫০০ ডলার, আবার কেউ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দিয়েছেন।

রাত দেড়টার দিকে শুরু হয় মূল প্রদর্শনী। ৬৯ জন পরিবেশনকারী লাল পোশাক পরে মঞ্চে আসেন। কেউ স্পিডবোটের আদলে তৈরি ভাসমান প্ল্যাটফর্মে, কেউ ফায়ার ট্রাকের আকৃতির প্ল্যাটফর্মে, আবার কেউ বিশাল হাঙরের আকৃতির কাঠামোর ওপর ছিলেন।

তাঁদের হাতে ছিল দামি শ্যাম্পেনের বোতল। সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক বোতলের ছিপি খোলা হয়। এরপর শ্যাম্পেন ছিটিয়ে দেওয়া হয় নৃত্যশিল্পী ও দর্শকদের ওপর।

পুরো আয়োজনের পানীয়ের পেছনেই খরচ হয় প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার ডলার। এর মধ্যে ছিল ১২৫ বোতল পেরিয়ের জুয়ে গ্রাঁ ব্রু, ৫০ বোতল দম পেরিয়ন ব্রু লুমিনাস এবং পাঁচ বোতল ডস হামব্রেস ব্লাঙ্কো টেকিলা।

ফার্নির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর গ্রাহক আরও বেশি অর্থ খরচ করতে রাজি ছিলেন। তবে আগের রাতে ক্যাসিনোতে বড় অঙ্কের অর্থ হারানোয় খরচ কিছুটা কমাতে হয়েছিল।

‘আমাদের কাজ হলো আয়োজন করা, বিচার করা নয়’

ফার্নির কাজের একটি মূলনীতি হলো—গ্রাহক কী চাইছেন, সেটি বাস্তবায়ন করা; তাঁর ইচ্ছাকে বিচার না করা।

এই নীতির কারণও স্পষ্ট। তাঁর গ্রাহকদের কেউ ফরাসি রিভিয়েরায় এক সপ্তাহের জন্য একটি বিলাসবহুল ইয়ট ভাড়া নিতে ২২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেছেন।

একজন গ্রাহকের অসুস্থ বোনকে পরিবারের ছুটিতে যোগ দেওয়াতে হঠাৎ একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। অন্য একজনের জন্য কানাডার একটি বেকারির বিখ্যাত বাটার টার্টের পুরো দিনের উৎপাদন কিনে নেওয়া হয়েছিল।

আর মিয়ামির এক ধনকুবেরের মেয়ের জন্য ফার্নি নিজেই প্যারিসে গিয়ে শহরের বিশাল আকৃতির একটি ক্রসাঁ সংগ্রহ করেছিলেন।

তাঁর প্রতিষ্ঠান এমন ধনী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধাও নিশ্চিত করে, যাঁরা সাধারণ বিলাসবহুল ব্যবস্থাতেও সন্তুষ্ট নন। নামী রেস্তোরাঁয় শেষ মুহূর্তের আসন, ফর্মুলা ওয়ান প্রতিযোগিতার বিশেষ প্রবেশাধিকার কিংবা ব্যক্তিগত বোম্বার্ডিয়ার উড়োজাহাজ—সবই তাঁদের সেবার অংশ।

She Makes the Impossible Happen for Her Ultrarich Clients - The New York  Times

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অতিরিক্ত বিলাসিতা’

ফার্নির জীবনযাপন এখন আর শুধু তাঁর গ্রাহকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। ধনীদের অদ্ভুত আবদার পূরণের নানা ভিডিও নিয়মিত প্রকাশ করেন তিনি।

এই ভিডিওগুলোই তাঁকে বৃহত্তর পরিচিতি এনে দিয়েছে। ২০২৬ সালে টাইম ম্যাগাজিনের শীর্ষ ১০০ ডিজিটাল প্রভাবকের তালিকাতেও তাঁর নাম এসেছে।

এদিকে ‘সেভারেন্স’ ও ‘কিলিং ইভ’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফিফথ সিজন ফার্নি ও আর্নল্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। তাঁদের প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একটি চিত্রনাট্যভিত্তিক ধারাবাহিক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

ফার্নির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে এই বৈপরীত্য। সাধারণ মানুষ যখন জ্বালানির উচ্চ দাম, যুদ্ধ কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন তাঁর ভিডিওতে দেখা যায় এমন এক পৃথিবী, যেখানে কয়েক লাখ ডলার খরচ করে একটি পার্টিতে শ্যাম্পেন ছিটানোও সম্ভব।

ফার্নি ধনীদের আবদার সামলান ধৈর্য, হাস্যরস এবং খানিকটা ব্যঙ্গের সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, কোনো কাজই খুব বড় বা খুব ছোট নয়।

সাধারণ জীবন থেকে বিলাসিতার জগতে

ফার্নি নিজেই স্বীকার করেন, এই জীবন তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। কানাডার ছোট্ট লগ কেবিনের জীবন থেকে তিনি এখন এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছুটে বেড়ান।

ট্রয়ের সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন। শুরুতে এর একটি কারণ ছিল ভিসাসংক্রান্ত প্রয়োজন। কিন্তু ধীরে ধীরে এই পেশাই তাঁর জীবনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

এখন তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই। বিলাসবহুল হোটেলই অনেকটা তাঁদের বাড়ি। একটানা ভ্রমণ, অভিজাত গ্রাহক এবং অস্বাভাবিক সব চাহিদাই তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

আগে ‘টপ টিয়ার ট্রাভেল’ মূলত পরিচিতদের মাধ্যমে ব্যবসা করত এবং গ্রাহকদের পরিচয় ও কাজকর্মের ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখত। ফার্নির পরামর্শেই প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়।

প্রথমে তথ্যভিত্তিক ভিডিও খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি। পরে তাঁরা গ্রাহকদের ফোনালাপ ও নানা পরিস্থিতির পুনর্নির্মাণ করে ভিডিও বানাতে শুরু করেন। সেগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে যায়।

আর্নল্ডের ভাষায়, তাঁরা এমন এক জীবনযাপনকে সাধারণ দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন, যা আসলে সাধারণ মানুষের কাছে ‘অস্বাভাবিক’।

অতি ধনীদের নিয়ে ফার্নির উপলব্ধি

এতদিন অতি ধনীদের সঙ্গে কাজ করার পর ফার্নির উপলব্ধি, তাঁদের নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণাই সত্য। তবে একটি ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন।

অনেকে মনে করেন, অতি ধনী মানুষ সুখী নন। ফার্নির অভিজ্ঞতা অবশ্য ভিন্ন। তাঁর মতে, বিপুল সম্পদের অধিকারী মানুষকে বাইরে থেকে যতটা অসুখী মনে হয়, বাস্তবে তাঁরা ততটা নন।

অর্থের বিনিময়ে পৃথিবীর প্রায় যেকোনো অভিজ্ঞতা কেনা সম্ভব—আর ফার্নির কাজ হলো সেই চাহিদাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। তাঁর কাছে অসম্ভব কোনো শব্দ নয়; বরং অসম্ভবকে সম্ভব করাই তাঁর ব্যবসার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।