১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
স্বরাষ্ট্রে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন: মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল বাঙালি জাতির শোক দিবস ও ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ তরুণদের ক্ষোভে বদলাচ্ছে মোদির বিজেপির রাজনীতি বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা? ২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক

তরুণদের ক্ষোভে বদলাচ্ছে মোদির বিজেপির রাজনীতি

ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপির ভাষা ও কৌশলে সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যে তরুণ আন্দোলনকারীদের কয়েক সপ্তাহ আগেও দেশবিরোধী কিংবা বিভাজনকামী শক্তির সঙ্গে যুক্ত করে আক্রমণ করা হচ্ছিল, এখন তাদের কাছেই পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বিজেপি ও তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনগুলো। এই পরিবর্তন কেবল রাজনৈতিক সৌজন্যের প্রকাশ নয়; এর পেছনে রয়েছে একটি কঠিন নির্বাচনী বাস্তবতা—ভারতের বিপুল তরুণ ভোটারকে দীর্ঘমেয়াদে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি।

আগস্টের শুরুতে মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, প্রতিবাদী ছাত্র ও তরুণদের ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। বক্তব্যটি আসে জুলাইয়ে তরুণদের নেতৃত্বে বড় আকারের বিক্ষোভের অল্প সময়ের মধ্যেই। ফলে তাঁর মন্তব্যকে বিজেপি ও তার সহযোগীদের অবস্থান নরম করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কারণ, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে তরুণদের অসন্তোষ যখন রাস্তায় প্রকাশ পাচ্ছিল, তখন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রতিবাদী সংগঠনকে সন্ত্রাসীদের ‘বি টিম’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনও আন্দোলনকারীদের দেশ ভাগ করার উদ্দেশ্যে কাজ করা একটি গ্যাং হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। দিল্লিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহার করে।

কিন্তু রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মূল্য অনেক সময় ভোটের বাক্সে দিতে হয়। বিজেপি সেটিই এখন বুঝতে চাইছে।

তরুণ ভোটারই বড় রাজনৈতিক শক্তি

ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে তরুণদের গুরুত্ব কোনো নতুন বিষয় নয়। কিন্তু জনসংখ্যার কাঠামো এবং ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের কারণে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। দেশটির প্রায় এক বিলিয়ন ভোটারের ৪০ শতাংশেরও বেশি ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন—যা এই বয়সী ভোটারদের মধ্যে কোনো একটি দলের জন্য সর্বোচ্চ অংশ ছিল।

দিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমারের বিশ্লেষণটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পেছনে তরুণদের ভূমিকা ছিল এবং দলটি সেই সমর্থন হারাতে চায় না। ফলে জুলাইয়ের আন্দোলনের পর দ্রুত সংলাপ ও যোগাযোগের পথে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে নির্বাচনী হিসাবের অংশ হিসেবেও দেখা যায়।

ভারতে তরুণদের ভোটদানের হার ঐতিহাসিকভাবে মোট ভোটারদের গড় অংশগ্রহণের তুলনায় কিছুটা কম হলেও, তরুণদের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংগঠিতকরণ ক্ষমতাসীন সরকারকে বিপাকে ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনগুলোতেও এর আভাস মিলেছে।

তামিলনাড়ুর ২০২৬ সালের নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তুলনামূলক নতুন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে পেছনে ফেলে সরকার গঠন করেছে। আগস্টের একটি উপনির্বাচনেও বিজেপি বিহারের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হারিয়েছে, যেটি দীর্ঘ সময় দলটির সভাপতি নীতিন নবীনের প্রতিনিধিত্ব করা আসন ছিল। নতুন রাজনৈতিক দল জন সুরাজের প্রশান্ত কিশোরের জয়কে বিশ্লেষকেরা তরুণদের অসন্তোষের সঙ্গেও যুক্ত করছেন।

অর্থাৎ তরুণদের ক্ষোভ এখন শুধু সামাজিক প্রতিবাদ নয়; তা নির্বাচনী রাজনীতির গতিপথও বদলে দিতে পারে।

আন্দোলন থামেনি, ছড়িয়ে পড়ছে

জুলাইয়ের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি এখনই রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা করছে না। তারা আপাতত একটি চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবেই থাকতে চায়। কিন্তু তাদের আন্দোলনের প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।

কোথাও শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি তুলছে, কোথাও রাস্তা ও অবকাঠামো নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। এই আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—সব তরুণই প্রচলিত রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য নয়। অনেকেই হয়তো দীর্ঘদিন ধরে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু চাকরির অনিশ্চয়তা, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তাদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করে তুলছে।

এই ক্ষোভকে বিরোধী দলগুলোও নিজেদের রাজনৈতিক পরিসর বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ৮ আগস্ট উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে তরুণদের জন্য বড় আকারের একটি কর্মসূচি করেন। সেখানে তিনি কর্মসংস্থানের সংকোচন নিয়ে কথা বলেন এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগকে রাজনৈতিক বক্তব্যের কেন্দ্রে আনেন।

বিজেপির সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে আন্দোলনের মূল অসন্তোষ—চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ—সমাধান করতে হবে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের এমনভাবে মোকাবিলা করতে হবে, যাতে তাদের ক্ষোভ আরও বড় রাজনৈতিক বিদ্রোহে পরিণত না হয়।

উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি ইতোমধ্যে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। রাজ্য সরকার তরুণ আমলাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা এবং ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়ার কাজে যুক্ত করছে। এটি নিছক প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়; এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট—তরুণদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে হবে।

Our real friend. Our PM': Modi's BJP tries to mend fences with youth | The Straits Times - newspaper - Read this story on Magzter.com

ইনস্টাগ্রামে নতুন বিজেপি

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান জায়গা সম্ভবত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রতিক সময়ে ইনস্টাগ্রামে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বক্তৃতার বদলে সেখানে দেখা যাচ্ছে ছোট ভিডিও, সেলফি-ধাঁচের উপস্থাপনা, জনপ্রিয় সংস্কৃতির উল্লেখ, রসিকতা এবং অপেক্ষাকৃত অনানুষ্ঠানিক ভাষা।

জুলাইয়ের আন্দোলনে তাঁকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করা শিক্ষার্থীদেরও ক্ষমা করে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মোদি। এই ধরনের বক্তব্যের লক্ষ্য স্পষ্ট—সংঘাতের স্মৃতি মুছে তরুণদের কাছে আবার গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা।

এর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতাও কাজ করছে। ভারতে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ কোটির বেশি। তাদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীরা মোট ব্যবহারকারীর তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বিজেপি-বিরোধী ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এমন তরুণদেরও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে, যারা সাধারণত রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী নন।

এই জায়গাটিই বিজেপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পুরনো রাজনৈতিক প্রচারণার ভাষা এখানে খুব সহজে কাজ করে না। দীর্ঘ বক্তৃতা, সাজানো ছবি কিংবা দলীয় প্রচারণার বদলে ইনস্টাগ্রামের দর্শক বেশি গুরুত্ব দেয় দ্রুত, ব্যক্তিগত এবং স্বতঃস্ফূর্ত কনটেন্টকে।

বিজেপি ইতোমধ্যে নিজেদের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীদের মধ্যে তরুণদের কাছে পৌঁছাতে নতুন ধরনের ভিডিও প্রকাশ করছে। কোথাও মোদিকে ‘আমাদের সত্যিকারের বন্ধু’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, কোথাও দলের নেতাদের সংসদে তরুণদের ব্যবহৃত স্ল্যাং বলতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি মোদির ছবি জনপ্রিয় মার্কিন র‍্যাপ সংগীতের সঙ্গে মিলিয়েও প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে। মোদি তাঁর মন্ত্রী ও সরকারি দপ্তরগুলোকেও আরও বেশি ভিডিওভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ৬ আগস্ট স্ন্যাপচ্যাটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেছে।

তবে এই ডিজিটাল অভিযানের মধ্যেই একটি বড় বৈপরীত্য রয়েছে।

যে প্ল্যাটফর্মে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে, সেখানেই সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পোস্ট সরিয়ে নেওয়া নিয়ে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ উঠছে। ফলে বিজেপির জন্য প্রশ্নটি শুধু কীভাবে তরুণদের কাছে পৌঁছানো যায় তা নয়; বরং তাদের বক্তব্য প্রকাশের জায়গাটি কতটা উন্মুক্ত রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ডিজিটাল রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট

ইনস্টাগ্রামভিত্তিক রাজনৈতিক প্রচারণা প্রচলিত দলগুলোর জন্য আরও একটি সমস্যা তৈরি করছে—এখানে কৃত্রিম জনপ্রিয়তা তৈরি করা কঠিন।

এক্স কিংবা ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে পরিচয় আড়াল করে সংগঠিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্যকে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। কিন্তু ভিডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারী প্রায়ই নিজের মুখ, কণ্ঠ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সামনে নিয়ে আসে। ফলে রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতার সম্পর্ক তৈরি হয়।

জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির শরদচন্দ্র পাওয়ার গোষ্ঠীর মুখপাত্র অনিশ গাওয়ান্ডের মতে, ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীর নিজের পরিচয় সামনে আসার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো, স্বতঃস্ফূর্ততার জায়গাটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কঠিন।

এটি বিজেপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের জন্য বিশেষ সমস্যা। কারণ প্রতিষ্ঠিত দলগুলো সাধারণত নিজেদের নেতাদের  নিয়ন্ত্রিত ইমেজ তুলে ধরতে অভ্যস্ত। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এমন বার্তায় সহজেই সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ে, যেখানে অতিরিক্ত পরিকল্পনা বা প্রচারণার ছাপ স্পষ্ট।

তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন শুধু তরুণদের জন্য কনটেন্ট বানালেই হবে না। তাদের তরুণদের নিজেদের কণ্ঠও রাজনৈতিক যোগাযোগের অংশ করতে হবে। এর অর্থ দলীয় প্রচারণার কাঠামোতেই প্রজন্মগত পরিবর্তন আনা।

বিজেপির সামনে সময়ও খুব বেশি নেই। জাতীয় নির্বাচন এখনও প্রায় তিন বছর দূরে। কিন্তু ২০২৭ সালেই উত্তর প্রদেশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন হবে। তার আগেই তরুণদের ক্ষোভ কোন দিকে যায়, সেটি অনেকটাই নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে।

জুলাইয়ের আন্দোলন বিজেপিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে: তরুণদের রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করা যায়, কিন্তু দীর্ঘদিন তাদের অসন্তোষকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা যায় না। তাদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ ছবি প্রকাশ করেও সেই ক্ষোভ দূর করা সম্ভব নয়।

চাকরি, শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তব উদ্বেগের সমাধান না হলে ইনস্টাগ্রামের ভাষা বদলালেও রাজনৈতিক সম্পর্ক বদলাবে না। তরুণরা হয়তো নতুন ভিডিও দেখবে, নতুন স্ল্যাং শুনবে, এমনকি মোদির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রচারণাও দেখবে—কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী দেখছে তার ওপর।

বিজেপি এখন যে সংলাপের দরজা খুলতে চাইছে, সেটিই তাই আসল পরীক্ষা। এটি যদি কেবল নির্বাচনের আগে তরুণদের মন জয়ের কৌশল হয়, তাহলে ক্ষোভ আবারও ফিরে আসতে পারে। আর যদি এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে বাস্তব নীতি পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়, তবে জুলাইয়ের সংঘাত ভারতীয় রাজনীতিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

তরুণদের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক এখন আর কেবল ভোটের সময়ের সমীকরণ নয়। তারা নিজেদের দাবি সংগঠিত করতে পারে, মুহূর্তে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসতে পারে এবং প্রচলিত দলগুলোর বাইরেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। ভারতের আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে এই বাস্তবতাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় নতুন শক্তি হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্রে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন: মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল

তরুণদের ক্ষোভে বদলাচ্ছে মোদির বিজেপির রাজনীতি

১০:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপির ভাষা ও কৌশলে সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যে তরুণ আন্দোলনকারীদের কয়েক সপ্তাহ আগেও দেশবিরোধী কিংবা বিভাজনকামী শক্তির সঙ্গে যুক্ত করে আক্রমণ করা হচ্ছিল, এখন তাদের কাছেই পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বিজেপি ও তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনগুলো। এই পরিবর্তন কেবল রাজনৈতিক সৌজন্যের প্রকাশ নয়; এর পেছনে রয়েছে একটি কঠিন নির্বাচনী বাস্তবতা—ভারতের বিপুল তরুণ ভোটারকে দীর্ঘমেয়াদে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি।

আগস্টের শুরুতে মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, প্রতিবাদী ছাত্র ও তরুণদের ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। বক্তব্যটি আসে জুলাইয়ে তরুণদের নেতৃত্বে বড় আকারের বিক্ষোভের অল্প সময়ের মধ্যেই। ফলে তাঁর মন্তব্যকে বিজেপি ও তার সহযোগীদের অবস্থান নরম করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কারণ, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে তরুণদের অসন্তোষ যখন রাস্তায় প্রকাশ পাচ্ছিল, তখন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রতিবাদী সংগঠনকে সন্ত্রাসীদের ‘বি টিম’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনও আন্দোলনকারীদের দেশ ভাগ করার উদ্দেশ্যে কাজ করা একটি গ্যাং হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। দিল্লিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহার করে।

কিন্তু রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মূল্য অনেক সময় ভোটের বাক্সে দিতে হয়। বিজেপি সেটিই এখন বুঝতে চাইছে।

তরুণ ভোটারই বড় রাজনৈতিক শক্তি

ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে তরুণদের গুরুত্ব কোনো নতুন বিষয় নয়। কিন্তু জনসংখ্যার কাঠামো এবং ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের কারণে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। দেশটির প্রায় এক বিলিয়ন ভোটারের ৪০ শতাংশেরও বেশি ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন—যা এই বয়সী ভোটারদের মধ্যে কোনো একটি দলের জন্য সর্বোচ্চ অংশ ছিল।

দিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমারের বিশ্লেষণটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পেছনে তরুণদের ভূমিকা ছিল এবং দলটি সেই সমর্থন হারাতে চায় না। ফলে জুলাইয়ের আন্দোলনের পর দ্রুত সংলাপ ও যোগাযোগের পথে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে নির্বাচনী হিসাবের অংশ হিসেবেও দেখা যায়।

ভারতে তরুণদের ভোটদানের হার ঐতিহাসিকভাবে মোট ভোটারদের গড় অংশগ্রহণের তুলনায় কিছুটা কম হলেও, তরুণদের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংগঠিতকরণ ক্ষমতাসীন সরকারকে বিপাকে ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনগুলোতেও এর আভাস মিলেছে।

তামিলনাড়ুর ২০২৬ সালের নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তুলনামূলক নতুন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে পেছনে ফেলে সরকার গঠন করেছে। আগস্টের একটি উপনির্বাচনেও বিজেপি বিহারের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হারিয়েছে, যেটি দীর্ঘ সময় দলটির সভাপতি নীতিন নবীনের প্রতিনিধিত্ব করা আসন ছিল। নতুন রাজনৈতিক দল জন সুরাজের প্রশান্ত কিশোরের জয়কে বিশ্লেষকেরা তরুণদের অসন্তোষের সঙ্গেও যুক্ত করছেন।

অর্থাৎ তরুণদের ক্ষোভ এখন শুধু সামাজিক প্রতিবাদ নয়; তা নির্বাচনী রাজনীতির গতিপথও বদলে দিতে পারে।

আন্দোলন থামেনি, ছড়িয়ে পড়ছে

জুলাইয়ের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি এখনই রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা করছে না। তারা আপাতত একটি চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবেই থাকতে চায়। কিন্তু তাদের আন্দোলনের প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।

কোথাও শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি তুলছে, কোথাও রাস্তা ও অবকাঠামো নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। এই আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—সব তরুণই প্রচলিত রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য নয়। অনেকেই হয়তো দীর্ঘদিন ধরে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু চাকরির অনিশ্চয়তা, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তাদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করে তুলছে।

এই ক্ষোভকে বিরোধী দলগুলোও নিজেদের রাজনৈতিক পরিসর বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ৮ আগস্ট উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে তরুণদের জন্য বড় আকারের একটি কর্মসূচি করেন। সেখানে তিনি কর্মসংস্থানের সংকোচন নিয়ে কথা বলেন এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগকে রাজনৈতিক বক্তব্যের কেন্দ্রে আনেন।

বিজেপির সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে আন্দোলনের মূল অসন্তোষ—চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ—সমাধান করতে হবে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের এমনভাবে মোকাবিলা করতে হবে, যাতে তাদের ক্ষোভ আরও বড় রাজনৈতিক বিদ্রোহে পরিণত না হয়।

উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি ইতোমধ্যে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। রাজ্য সরকার তরুণ আমলাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা এবং ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়ার কাজে যুক্ত করছে। এটি নিছক প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়; এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট—তরুণদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে হবে।

Our real friend. Our PM': Modi's BJP tries to mend fences with youth | The Straits Times - newspaper - Read this story on Magzter.com

ইনস্টাগ্রামে নতুন বিজেপি

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান জায়গা সম্ভবত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রতিক সময়ে ইনস্টাগ্রামে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বক্তৃতার বদলে সেখানে দেখা যাচ্ছে ছোট ভিডিও, সেলফি-ধাঁচের উপস্থাপনা, জনপ্রিয় সংস্কৃতির উল্লেখ, রসিকতা এবং অপেক্ষাকৃত অনানুষ্ঠানিক ভাষা।

জুলাইয়ের আন্দোলনে তাঁকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করা শিক্ষার্থীদেরও ক্ষমা করে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মোদি। এই ধরনের বক্তব্যের লক্ষ্য স্পষ্ট—সংঘাতের স্মৃতি মুছে তরুণদের কাছে আবার গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা।

এর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতাও কাজ করছে। ভারতে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ কোটির বেশি। তাদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীরা মোট ব্যবহারকারীর তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বিজেপি-বিরোধী ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এমন তরুণদেরও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে, যারা সাধারণত রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী নন।

এই জায়গাটিই বিজেপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পুরনো রাজনৈতিক প্রচারণার ভাষা এখানে খুব সহজে কাজ করে না। দীর্ঘ বক্তৃতা, সাজানো ছবি কিংবা দলীয় প্রচারণার বদলে ইনস্টাগ্রামের দর্শক বেশি গুরুত্ব দেয় দ্রুত, ব্যক্তিগত এবং স্বতঃস্ফূর্ত কনটেন্টকে।

বিজেপি ইতোমধ্যে নিজেদের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীদের মধ্যে তরুণদের কাছে পৌঁছাতে নতুন ধরনের ভিডিও প্রকাশ করছে। কোথাও মোদিকে ‘আমাদের সত্যিকারের বন্ধু’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, কোথাও দলের নেতাদের সংসদে তরুণদের ব্যবহৃত স্ল্যাং বলতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি মোদির ছবি জনপ্রিয় মার্কিন র‍্যাপ সংগীতের সঙ্গে মিলিয়েও প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে। মোদি তাঁর মন্ত্রী ও সরকারি দপ্তরগুলোকেও আরও বেশি ভিডিওভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ৬ আগস্ট স্ন্যাপচ্যাটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেছে।

তবে এই ডিজিটাল অভিযানের মধ্যেই একটি বড় বৈপরীত্য রয়েছে।

যে প্ল্যাটফর্মে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে, সেখানেই সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পোস্ট সরিয়ে নেওয়া নিয়ে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ উঠছে। ফলে বিজেপির জন্য প্রশ্নটি শুধু কীভাবে তরুণদের কাছে পৌঁছানো যায় তা নয়; বরং তাদের বক্তব্য প্রকাশের জায়গাটি কতটা উন্মুক্ত রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ডিজিটাল রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট

ইনস্টাগ্রামভিত্তিক রাজনৈতিক প্রচারণা প্রচলিত দলগুলোর জন্য আরও একটি সমস্যা তৈরি করছে—এখানে কৃত্রিম জনপ্রিয়তা তৈরি করা কঠিন।

এক্স কিংবা ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে পরিচয় আড়াল করে সংগঠিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্যকে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। কিন্তু ভিডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারী প্রায়ই নিজের মুখ, কণ্ঠ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সামনে নিয়ে আসে। ফলে রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতার সম্পর্ক তৈরি হয়।

জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির শরদচন্দ্র পাওয়ার গোষ্ঠীর মুখপাত্র অনিশ গাওয়ান্ডের মতে, ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীর নিজের পরিচয় সামনে আসার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো, স্বতঃস্ফূর্ততার জায়গাটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কঠিন।

এটি বিজেপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের জন্য বিশেষ সমস্যা। কারণ প্রতিষ্ঠিত দলগুলো সাধারণত নিজেদের নেতাদের  নিয়ন্ত্রিত ইমেজ তুলে ধরতে অভ্যস্ত। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এমন বার্তায় সহজেই সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ে, যেখানে অতিরিক্ত পরিকল্পনা বা প্রচারণার ছাপ স্পষ্ট।

তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন শুধু তরুণদের জন্য কনটেন্ট বানালেই হবে না। তাদের তরুণদের নিজেদের কণ্ঠও রাজনৈতিক যোগাযোগের অংশ করতে হবে। এর অর্থ দলীয় প্রচারণার কাঠামোতেই প্রজন্মগত পরিবর্তন আনা।

বিজেপির সামনে সময়ও খুব বেশি নেই। জাতীয় নির্বাচন এখনও প্রায় তিন বছর দূরে। কিন্তু ২০২৭ সালেই উত্তর প্রদেশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন হবে। তার আগেই তরুণদের ক্ষোভ কোন দিকে যায়, সেটি অনেকটাই নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে।

জুলাইয়ের আন্দোলন বিজেপিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে: তরুণদের রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করা যায়, কিন্তু দীর্ঘদিন তাদের অসন্তোষকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা যায় না। তাদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ ছবি প্রকাশ করেও সেই ক্ষোভ দূর করা সম্ভব নয়।

চাকরি, শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তব উদ্বেগের সমাধান না হলে ইনস্টাগ্রামের ভাষা বদলালেও রাজনৈতিক সম্পর্ক বদলাবে না। তরুণরা হয়তো নতুন ভিডিও দেখবে, নতুন স্ল্যাং শুনবে, এমনকি মোদির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রচারণাও দেখবে—কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী দেখছে তার ওপর।

বিজেপি এখন যে সংলাপের দরজা খুলতে চাইছে, সেটিই তাই আসল পরীক্ষা। এটি যদি কেবল নির্বাচনের আগে তরুণদের মন জয়ের কৌশল হয়, তাহলে ক্ষোভ আবারও ফিরে আসতে পারে। আর যদি এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে বাস্তব নীতি পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়, তবে জুলাইয়ের সংঘাত ভারতীয় রাজনীতিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

তরুণদের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক এখন আর কেবল ভোটের সময়ের সমীকরণ নয়। তারা নিজেদের দাবি সংগঠিত করতে পারে, মুহূর্তে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসতে পারে এবং প্রচলিত দলগুলোর বাইরেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। ভারতের আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে এই বাস্তবতাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় নতুন শক্তি হয়ে উঠছে।