০১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
মেধাবী বিজ্ঞানীদের টানতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের লড়াই, বদলে যাচ্ছে আকর্ষণের কেন্দ্র কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, বাংলাদেশিসহ নিহত ৯ ফুরিয়ে আসছে এলএনজি মজুত, ২০ আগস্টের কার্গোর অপেক্ষায় মহেশখালী যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম জলাধারগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, গভীর সংকটে কলোরাডো নদী কেমব্রিজে নিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন, জেসন আরডের মৃত্যুর পর বাড়ছে তদন্তের দাবি তুরস্কের কুর্দি সমঝোতার পরীক্ষা: বন্দুকের বদলে কি রাজনীতিই হতে পারে সমাধান? স্যাটেলাইটের চোখে রুশ সেনা, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের কৌশল ক্রিপ্টো সম্পদের জন্য নতুন বিধিমালার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, সহজ হবে অর্থ সংগ্রহ সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস, চট্টগ্রাম-সিলেটে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো সম্পদের জন্য নতুন বিধিমালার প্রস্তাব, সহজ হবে মূলধন সংগ্রহ

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো সম্পদের জন্য নতুন বিধিমালার প্রস্তাব, সহজ হবে মূলধন সংগ্রহ

যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিপ্টো সম্পদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বিধিমালার প্রস্তাব করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্রিপ্টো শিল্পকে লক্ষ্য করে এটি সংস্থাটির নেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে নির্দিষ্ট কিছু ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ও টোকেন বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান পুঁজিবাজার আইন থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহ ও নতুন টোকেন বাজারে আনা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

মূলধন সংগ্রহে নতুন সুযোগ

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান চার বছরের সময়ে একবার সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলারের টোকেন বাজারে ছাড়ার সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতি ১২ মাসে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ কোটি ডলারের টোকেন বিক্রির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে এই সুবিধা পেলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক বিবরণী প্রকাশ এবং নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার মতো কিছু বাধ্যবাধকতা পালন করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের শর্তও বহাল থাকবে।

US securities regulator reveals long-awaited crypto rules

প্রস্তাবে আরও একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে কোনো ক্রিপ্টো সম্পদকে বিনিয়োগ চুক্তি হিসেবে গণ্য না করার সুযোগ থাকবে। এর ফলে কোন ধরনের ক্রিপ্টো সম্পদের ওপর পুঁজিবাজারের নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কিছুটা কমতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টো নীতিতে পরিবর্তন

ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিপ্টো শিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রক চাপ অনেকটাই কমেছে। এর আগে ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে ক্রিপ্টো সম্পদের জন্য আলাদা ও বাস্তবসম্মত নিয়ম তৈরির দাবি জোরালো হয়েছে।

ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, অনেক টোকেন প্রচলিত শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটির চেয়ে পণ্যের কাছাকাছি। তাই সেগুলোর ওপর একই ধরনের কঠোর পুঁজিবাজার আইন প্রয়োগ করা উচিত নয়। নতুন প্রস্তাবে সেই অবস্থানের কিছুটা প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

আইন প্রণয়নের উদ্যোগ থমকে যাওয়ায় গুরুত্ব বাড়ল

Crypto bills set to advance this week take industry closer to mainstream |  Reuters

ক্রিপ্টো শিল্পকে আইনি ভিত্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আলাদা আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছিল। তবে সিনেটে সেই উদ্যোগ বর্তমানে অচলাবস্থায় পড়েছে। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন প্রস্তাবটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, এই প্রস্তাব স্বল্পমেয়াদে ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে আরও স্থিতিশীল আইনি পরিবেশ দিতে পারে। তবে স্থায়ী আইন না হলে ভবিষ্যৎ কোনো প্রশাসন চাইলে নিয়মগুলো পরিবর্তন বা আরও কঠোর করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

৬০ দিনের মতামত গ্রহণ

নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রস্তাবটি সরকারি নথিতে প্রকাশের পর ৬০ দিনের জন্য জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হবে। এরপর মতামত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগোবে।

নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো সম্পদের বাজারে মূলধন সংগ্রহ, টোকেন ইস্যু এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো—তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মেধাবী বিজ্ঞানীদের টানতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের লড়াই, বদলে যাচ্ছে আকর্ষণের কেন্দ্র

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো সম্পদের জন্য নতুন বিধিমালার প্রস্তাব, সহজ হবে মূলধন সংগ্রহ

১২:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিপ্টো সম্পদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বিধিমালার প্রস্তাব করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্রিপ্টো শিল্পকে লক্ষ্য করে এটি সংস্থাটির নেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে নির্দিষ্ট কিছু ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ও টোকেন বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান পুঁজিবাজার আইন থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহ ও নতুন টোকেন বাজারে আনা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

মূলধন সংগ্রহে নতুন সুযোগ

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান চার বছরের সময়ে একবার সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলারের টোকেন বাজারে ছাড়ার সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতি ১২ মাসে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ কোটি ডলারের টোকেন বিক্রির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে এই সুবিধা পেলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক বিবরণী প্রকাশ এবং নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার মতো কিছু বাধ্যবাধকতা পালন করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের শর্তও বহাল থাকবে।

US securities regulator reveals long-awaited crypto rules

প্রস্তাবে আরও একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে কোনো ক্রিপ্টো সম্পদকে বিনিয়োগ চুক্তি হিসেবে গণ্য না করার সুযোগ থাকবে। এর ফলে কোন ধরনের ক্রিপ্টো সম্পদের ওপর পুঁজিবাজারের নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কিছুটা কমতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টো নীতিতে পরিবর্তন

ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিপ্টো শিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রক চাপ অনেকটাই কমেছে। এর আগে ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে ক্রিপ্টো সম্পদের জন্য আলাদা ও বাস্তবসম্মত নিয়ম তৈরির দাবি জোরালো হয়েছে।

ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, অনেক টোকেন প্রচলিত শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটির চেয়ে পণ্যের কাছাকাছি। তাই সেগুলোর ওপর একই ধরনের কঠোর পুঁজিবাজার আইন প্রয়োগ করা উচিত নয়। নতুন প্রস্তাবে সেই অবস্থানের কিছুটা প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

আইন প্রণয়নের উদ্যোগ থমকে যাওয়ায় গুরুত্ব বাড়ল

Crypto bills set to advance this week take industry closer to mainstream |  Reuters

ক্রিপ্টো শিল্পকে আইনি ভিত্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আলাদা আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছিল। তবে সিনেটে সেই উদ্যোগ বর্তমানে অচলাবস্থায় পড়েছে। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন প্রস্তাবটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, এই প্রস্তাব স্বল্পমেয়াদে ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে আরও স্থিতিশীল আইনি পরিবেশ দিতে পারে। তবে স্থায়ী আইন না হলে ভবিষ্যৎ কোনো প্রশাসন চাইলে নিয়মগুলো পরিবর্তন বা আরও কঠোর করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

৬০ দিনের মতামত গ্রহণ

নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রস্তাবটি সরকারি নথিতে প্রকাশের পর ৬০ দিনের জন্য জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হবে। এরপর মতামত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগোবে।

নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো সম্পদের বাজারে মূলধন সংগ্রহ, টোকেন ইস্যু এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো—তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।