কাশ্মীরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। এ ঘটনায় ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থান নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা ‘তথ্যগতভাবে ভুল’। ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিনিধির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড। তাই এর অবস্থান নিয়ে কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্য পাকিস্তান মেনে নেবে না।
শ্রীনগরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য
সম্প্রতি ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর সফরে গিয়ে শ্রীনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। সেখানে তিনি বলেন, ‘এটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

এর আগে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে গোর বলেন, তাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
তবে রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। ইসলামাবাদ দ্রুতই এর প্রতিবাদ জানিয়ে কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিকভাবে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্র কাশ্মীর
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর অঞ্চলটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশ একাধিকবার সংঘাতে জড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম কারণ সিন্ধু নদের পানি বণ্টন চুক্তি থেকে ভারতের সরে আসার সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর নয়াদিল্লি ওই চুক্তিতে নিজেদের অংশগ্রহণ স্থগিত করে।

হামলার পেছনে পাকিস্তানের সমর্থন ছিল বলে ভারত অভিযোগ করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করেছে।
এর পরের মাসে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণের তীব্র সংঘাত শুরু হয়। এতে উভয় দেশের প্রায় ৭০ জন নিহত হন।
নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা
কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্য ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যকার কূটনৈতিক সমীকরণেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। পাকিস্তান স্পষ্ট করে দিয়েছে, কাশ্মীরের বিতর্কিত অবস্থান নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে তারা সরে আসছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















