বয়স তখন কিশোর, যখন বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, ঘোরাঘুরি কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কথা। কিন্তু যুক্তরাজ্যের অনেক কিশোর-কিশোরীর দিন কাটছে পরিবারের অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী সদস্যের দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে। নিজেদের পড়াশোনা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনকে পেছনে ফেলে তারা হয়ে উঠছে পরিবারের অনানুষ্ঠানিক পরিচর্যাকারী।
পরিবারের দায়িত্বে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব
কিশোর পরিচর্যাকারীদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মা, ভাই-বোন বা পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিলেও তাদের দায়িত্বটি সময়মতো শনাক্ত করা হয় না। ফলে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতেও তাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।
যারা সহায়তা পান, তাদের জন্যও পরিস্থিতি সবসময় সহজ হয় না। কোথায় বসবাস করছে তার ওপর নির্ভর করে সহায়তার ধরন ও সুযোগ অনেকটাই বদলে যায়। কোথাও বিশ্রামের সুযোগ, সমবয়সীদের সঙ্গে সহায়তামূলক কার্যক্রম কিংবা পরামর্শসেবা পাওয়া গেলেও এসব ব্যবস্থা সবসময় কিশোরদের ওপর থাকা মূল পরিচর্যার চাপ কমাতে পারে না।
সহায়তার পথও অনেকের জন্য কঠিন

কিশোর পরিচর্যাকারীদের নিয়ে কাজ করা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা অ্যান্ডি ম্যাকগোয়ান বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক পরিচর্যা সহায়তা পাওয়ার শর্ত এতটাই কঠিন যে অনেক পরিবার সেই সহায়তার আওতায়ই আসে না।
তার মতে, পরিবারের সদস্যের দেখাশোনার দায়িত্ব যদি কিশোরদের ওপর থেকেই যায়, তাহলে শুধু তাদের জন্য সাময়িক সহায়তা দিয়ে বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। মূল পরিচর্যার চাপ কমানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।
মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে
দীর্ঘদিনের এই দায়িত্ব কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষাজীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে আগাম সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সামলাতে গিয়ে অনেক কিশোরের কাছে স্কুল ও নিজের স্বাস্থ্য দ্বিতীয় হয়ে পড়ে। ফলে তারা এমন এক দায়িত্বের মধ্যে আটকে যায়, যা তাদের বয়সের তুলনায় অনেক বেশি ভারী।
সরকারের নতুন উদ্যোগ
গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সরকার বিনা পারিশ্রমিকে পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা করা ব্যক্তিদের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে কিশোর পরিচর্যাকারীদের জন্য বিদ্যালয়ে উন্নত সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক পরিচর্যা ও শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে এ বিষয়ে আলাদা উদ্যোগও রয়েছে। স্কটল্যান্ডে কিশোর পরিচর্যাকারীদের জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থাও চালু আছে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু সহায়তার ঘোষণা যথেষ্ট নয়। কিশোরদের কাঁধে থাকা পরিচর্যার চাপ কমিয়ে তাদের পড়াশোনা, স্বাস্থ্য এবং স্বাভাবিক কৈশোরের জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।
কিশোর পরিচর্যাকারীদের জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















