০৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ইরানের মুদ্রার ঐতিহাসিক পতন, এক ডলারে ২০ লাখ রিয়াল ছাড়াল চীনের মানবসদৃশ রোবট এখনো মানুষের চাকরি নেওয়ার মতো বুদ্ধিমান হয়নি খণ্ডিত ডিজিটাল দুনিয়ায় স্মার্ট বিপণনের চাবিকাঠি হয়ে উঠছে সংযুক্তি বিশ্ববাজারে ফের বাড়ছে সোনার দাম, নজর ফেডপ্রধানের বক্তব্যে ছুটির পর স্থির থাকতে পারে ভারতীয় রুপি, তেলের দাম ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে স্বস্তি বয়স বাড়লেও শক্তি ধরে রাখার সহজ উপায়, নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ওজন কমাতে জিএলপি-১ ওষুধ? পেশি ধরে রাখতে শক্তিবর্ধক ব্যায়াম জরুরি পেটের বাড়তি মেদই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? বয়স্কদের আয়ু নিয়ে নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের নতুন ওষুধে এফডিএর দ্রুত অনুমোদন, আশার আলো দেখছেন রোগীরা নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ১৬২—নিখোঁজ ৮২৬

বাড়িতে বার্ধক্য কাটাতে ৬ সন্তান ও ৩ লাখ ডলারের সঞ্চয়: এক পরিবারের কঠিন বাস্তবতা

বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিজের বাড়িতেই শেষ জীবন কাটানোর সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন এক মার্কিন পরিবারের ছয় ভাইবোন। ইচ্ছেটি পূরণ হলেও এর জন্য তাদের দিতে হয়েছে বিপুল সময়, শ্রম, অর্থ এবং মানসিক শক্তি।

লেখাটির বর্ণনা অনুযায়ী, লেখকের দাদা-দাদি বব ও রুথ ম্যাকমিলান নব্বইয়ের কোঠায় পৌঁছেও নিজেদের বাড়ি ছাড়তে চাননি। ২০২৪ সালে দাদা এবং ২০২৫ সালে দাদি মারা যাওয়া পর্যন্ত তারা বাড়িতেই ছিলেন। তাদের ছয় সন্তান পালা করে বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব ভাগ করে নেন।

প্রতি রোববার বসত পরিবারের বৈঠক

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাদা-দাদির হাঁটার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া এবং স্মৃতিভ্রংশের মতো সমস্যা দেখা দিতে থাকে। তখন তাদের ছয় সন্তান প্রতি রোববার পরিবারের বৈঠকে বসে নতুন সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতেন এবং কে কোন কাজ করবেন তা ভাগ করে নিতেন।

কেউ ব্যক্তিগত পরিচর্যার দায়িত্ব নেন। কেউ ঘর পরিষ্কার করতেন। কেউ প্রায় প্রতিদিন বাজার করতেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কাঠের চুল্লিতে জ্বালানি দেওয়া এবং বাড়ির ভেতর-বাইরের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সামলাতেন।

My Grandparents Aged at Home. It Took 6 Kids and $300K in Savings. -  Business Insider

লেখকের মা পেশায় হিসাবরক্ষক হওয়ায় আর্থিক ও আইনি কাগজপত্রের দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি ওষুধের হিসাব রাখতেন এবং নিয়মিত ওষুধ আনতে ফার্মেসিতে যেতেন।

সপ্তাহে প্রায় ৩০ ঘণ্টা করে পরিচর্যা

দাদার জীবনের শেষ বছরে ছয় সন্তান পালা করে প্রতি সপ্তাহে এক রাত বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকতেন। রাতের খাবার রান্না করা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো—সবকিছুতেই তারা যুক্ত ছিলেন।

চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত যেতে হতো এবং অনেক সময় এক ঘণ্টা দূরের হাসপাতালে যেতে হতো। পরিবারের যে সদস্যটি সময় পেতেন, তিনিই তাদের নিয়ে যেতেন, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিখে রাখতেন।

২০২৪ সালে প্রত্যেক সন্তান সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৩০ ঘণ্টা পরিচর্যা ও সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয় করেছেন।

শেষ পর্যন্ত দরকার হয় ২৪ ঘণ্টার সেবা

পরিবারের এত প্রচেষ্টার পরও একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। দাদার মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে স্পষ্ট হয়ে যায় যে দুজনেরই সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন।

ছয়জনের একটি ঘনিষ্ঠ পরিবারও ২৪ ঘণ্টার সব দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব মনে করেনি। তাই বাড়িতে সহায়তার জন্য পরিচর্যাকারী নিয়োগ করা হয়। তারা চিকিৎসাকর্মী না হলেও খাবার তৈরি, ঘর গোছানো এবং ব্যক্তিগত পরিচর্যার মতো কাজে সহায়তা করতেন।

My Grandparents Aged at Home. It Took 6 Kids and $300K in Savings. -  Business Insider

প্রথম দিকে ঘণ্টায় ৩৯ ডলার করে দিয়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার জন্য তাদের নেওয়া হয়। রাতের দায়িত্ব পরিবার নিজেরাই সামলাত।

দাদার মৃত্যুর পর দাদির স্মৃতিভ্রংশ আরও বেড়ে গেলে ২৪ ঘণ্টার পরিচর্যার জন্য সাপ্তাহিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ডলার। তাদের সঞ্চয় দিয়ে এই ব্যয় প্রায় ১৮ মাস চালানো সম্ভব ছিল।

৩ লাখ ডলারের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে আসছিল

দাদার মাসিক অবসরভাতা, নিয়মিত শেয়ার আয়, দীর্ঘদিনের মিতব্যয়ী জীবনযাপন, কৃষিকাজ এবং অবসরের পর মাঝেমধ্যে করা কিছু কাজ—সব মিলিয়ে দাদা-দাদির হাতে প্রায় ৩ লাখ ডলার নগদ সঞ্চয় ছিল।

এই অর্থ তাদের জীবনের শেষ পর্যায়ের বাড়িভিত্তিক পরিচর্যার ব্যয় বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অর্থ খরচ করলেই পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি।

পরিচর্যাকারী থাকা সত্ত্বেও লেখকের মা ও তার ভাইবোনেরা প্রতি রাতেই দাদির সঙ্গে বাড়িতে থাকতেন। শোকাহত মাকে মানসিকভাবে পাশে থাকার পাশাপাশি এমন কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে সাহায্য করতে হতো, যেখানে দুজন মানুষের প্রয়োজন হতে পারে।

কোনো পরিচর্যাকারী অসুস্থ হয়ে কাজে না এলে পরিবারের কাউকে নিজের দৈনন্দিন পরিকল্পনা বদলে বাড়িতে ছুটে যেতে হতো।

শেষ ইচ্ছা পূরণের মূল্য

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দাদা মারা যান। এরপর ২০২৫ সালের জুনে দাদিও মারা যান। তাদের সঞ্চয় দিয়ে শেষ জীবন পর্যন্ত বাড়িতে থেকে পরিচর্যার খরচ মেটানো সম্ভব হয়েছিল।

পরিবারের ছয় সন্তান তখন শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। তবু তারা সন্তুষ্ট ছিলেন যে বাবা-মায়ের শেষ ইচ্ছাকে সম্মান করতে পেরেছেন।

এই অভিজ্ঞতা দেখায়, বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়িতে রেখে পরিচর্যা করা শুধু অর্থের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সময়, শ্রম, ধৈর্য, পারিবারিক সহযোগিতা এবং মানসিক শক্তি।

ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকায় এই পরিবারের পক্ষে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দুই সন্তান বা একমাত্র সন্তানের পক্ষে একই মাত্রার পরিচর্যা করা অনেক কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের সঞ্চয় ফুরিয়ে আসতে থাকলে তখন ইচ্ছার চেয়ে সামর্থ্যই সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

বাড়িতে থেকে শেষ জীবন কাটানোর জন্য কোনো নির্দিষ্টসংখ্যক সন্তান বা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থই যথেষ্ট—এমন কোনো সহজ সূত্র নেই। তবে এই পরিবার দেখিয়েছে, সঠিক পরিস্থিতিতে তা সম্ভব। আর সেই সম্ভাবনার পেছনে প্রয়োজন হতে পারে একটি বড় পরিবার, দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ এবং বিপুল সঞ্চয়।

বয়স্ক বাবা-মায়ের বাড়িতে পরিচর্যা, পারিবারিক দায়িত্ব ও চিকিৎসা ব্যয়ের বাস্তবতা নিয়ে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের মুদ্রার ঐতিহাসিক পতন, এক ডলারে ২০ লাখ রিয়াল ছাড়াল

বাড়িতে বার্ধক্য কাটাতে ৬ সন্তান ও ৩ লাখ ডলারের সঞ্চয়: এক পরিবারের কঠিন বাস্তবতা

০১:১২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিজের বাড়িতেই শেষ জীবন কাটানোর সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন এক মার্কিন পরিবারের ছয় ভাইবোন। ইচ্ছেটি পূরণ হলেও এর জন্য তাদের দিতে হয়েছে বিপুল সময়, শ্রম, অর্থ এবং মানসিক শক্তি।

লেখাটির বর্ণনা অনুযায়ী, লেখকের দাদা-দাদি বব ও রুথ ম্যাকমিলান নব্বইয়ের কোঠায় পৌঁছেও নিজেদের বাড়ি ছাড়তে চাননি। ২০২৪ সালে দাদা এবং ২০২৫ সালে দাদি মারা যাওয়া পর্যন্ত তারা বাড়িতেই ছিলেন। তাদের ছয় সন্তান পালা করে বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব ভাগ করে নেন।

প্রতি রোববার বসত পরিবারের বৈঠক

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাদা-দাদির হাঁটার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া এবং স্মৃতিভ্রংশের মতো সমস্যা দেখা দিতে থাকে। তখন তাদের ছয় সন্তান প্রতি রোববার পরিবারের বৈঠকে বসে নতুন সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতেন এবং কে কোন কাজ করবেন তা ভাগ করে নিতেন।

কেউ ব্যক্তিগত পরিচর্যার দায়িত্ব নেন। কেউ ঘর পরিষ্কার করতেন। কেউ প্রায় প্রতিদিন বাজার করতেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কাঠের চুল্লিতে জ্বালানি দেওয়া এবং বাড়ির ভেতর-বাইরের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সামলাতেন।

My Grandparents Aged at Home. It Took 6 Kids and $300K in Savings. -  Business Insider

লেখকের মা পেশায় হিসাবরক্ষক হওয়ায় আর্থিক ও আইনি কাগজপত্রের দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি ওষুধের হিসাব রাখতেন এবং নিয়মিত ওষুধ আনতে ফার্মেসিতে যেতেন।

সপ্তাহে প্রায় ৩০ ঘণ্টা করে পরিচর্যা

দাদার জীবনের শেষ বছরে ছয় সন্তান পালা করে প্রতি সপ্তাহে এক রাত বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকতেন। রাতের খাবার রান্না করা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো—সবকিছুতেই তারা যুক্ত ছিলেন।

চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত যেতে হতো এবং অনেক সময় এক ঘণ্টা দূরের হাসপাতালে যেতে হতো। পরিবারের যে সদস্যটি সময় পেতেন, তিনিই তাদের নিয়ে যেতেন, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিখে রাখতেন।

২০২৪ সালে প্রত্যেক সন্তান সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৩০ ঘণ্টা পরিচর্যা ও সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয় করেছেন।

শেষ পর্যন্ত দরকার হয় ২৪ ঘণ্টার সেবা

পরিবারের এত প্রচেষ্টার পরও একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। দাদার মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে স্পষ্ট হয়ে যায় যে দুজনেরই সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন।

ছয়জনের একটি ঘনিষ্ঠ পরিবারও ২৪ ঘণ্টার সব দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব মনে করেনি। তাই বাড়িতে সহায়তার জন্য পরিচর্যাকারী নিয়োগ করা হয়। তারা চিকিৎসাকর্মী না হলেও খাবার তৈরি, ঘর গোছানো এবং ব্যক্তিগত পরিচর্যার মতো কাজে সহায়তা করতেন।

My Grandparents Aged at Home. It Took 6 Kids and $300K in Savings. -  Business Insider

প্রথম দিকে ঘণ্টায় ৩৯ ডলার করে দিয়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার জন্য তাদের নেওয়া হয়। রাতের দায়িত্ব পরিবার নিজেরাই সামলাত।

দাদার মৃত্যুর পর দাদির স্মৃতিভ্রংশ আরও বেড়ে গেলে ২৪ ঘণ্টার পরিচর্যার জন্য সাপ্তাহিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ডলার। তাদের সঞ্চয় দিয়ে এই ব্যয় প্রায় ১৮ মাস চালানো সম্ভব ছিল।

৩ লাখ ডলারের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে আসছিল

দাদার মাসিক অবসরভাতা, নিয়মিত শেয়ার আয়, দীর্ঘদিনের মিতব্যয়ী জীবনযাপন, কৃষিকাজ এবং অবসরের পর মাঝেমধ্যে করা কিছু কাজ—সব মিলিয়ে দাদা-দাদির হাতে প্রায় ৩ লাখ ডলার নগদ সঞ্চয় ছিল।

এই অর্থ তাদের জীবনের শেষ পর্যায়ের বাড়িভিত্তিক পরিচর্যার ব্যয় বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অর্থ খরচ করলেই পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি।

পরিচর্যাকারী থাকা সত্ত্বেও লেখকের মা ও তার ভাইবোনেরা প্রতি রাতেই দাদির সঙ্গে বাড়িতে থাকতেন। শোকাহত মাকে মানসিকভাবে পাশে থাকার পাশাপাশি এমন কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে সাহায্য করতে হতো, যেখানে দুজন মানুষের প্রয়োজন হতে পারে।

কোনো পরিচর্যাকারী অসুস্থ হয়ে কাজে না এলে পরিবারের কাউকে নিজের দৈনন্দিন পরিকল্পনা বদলে বাড়িতে ছুটে যেতে হতো।

শেষ ইচ্ছা পূরণের মূল্য

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দাদা মারা যান। এরপর ২০২৫ সালের জুনে দাদিও মারা যান। তাদের সঞ্চয় দিয়ে শেষ জীবন পর্যন্ত বাড়িতে থেকে পরিচর্যার খরচ মেটানো সম্ভব হয়েছিল।

পরিবারের ছয় সন্তান তখন শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। তবু তারা সন্তুষ্ট ছিলেন যে বাবা-মায়ের শেষ ইচ্ছাকে সম্মান করতে পেরেছেন।

এই অভিজ্ঞতা দেখায়, বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়িতে রেখে পরিচর্যা করা শুধু অর্থের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সময়, শ্রম, ধৈর্য, পারিবারিক সহযোগিতা এবং মানসিক শক্তি।

ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকায় এই পরিবারের পক্ষে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দুই সন্তান বা একমাত্র সন্তানের পক্ষে একই মাত্রার পরিচর্যা করা অনেক কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের সঞ্চয় ফুরিয়ে আসতে থাকলে তখন ইচ্ছার চেয়ে সামর্থ্যই সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

বাড়িতে থেকে শেষ জীবন কাটানোর জন্য কোনো নির্দিষ্টসংখ্যক সন্তান বা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থই যথেষ্ট—এমন কোনো সহজ সূত্র নেই। তবে এই পরিবার দেখিয়েছে, সঠিক পরিস্থিতিতে তা সম্ভব। আর সেই সম্ভাবনার পেছনে প্রয়োজন হতে পারে একটি বড় পরিবার, দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ এবং বিপুল সঞ্চয়।

বয়স্ক বাবা-মায়ের বাড়িতে পরিচর্যা, পারিবারিক দায়িত্ব ও চিকিৎসা ব্যয়ের বাস্তবতা নিয়ে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।