ছুটির পর বৃহস্পতিবার ভারতীয় রুপির দর বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই লেনদেন শুরুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়া এবং রুপির দর ধরে রাখতে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক হস্তক্ষেপ একদিকে যেমন মুদ্রাটিকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা ও ডলারের চাহিদা রুপির ওপর চাপ তৈরি করছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর ৯৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৯৫ টাকা ৪৪ পয়সার মধ্যে থাকতে পারে। মঙ্গলবার লেনদেন শেষে রুপির দর ছিল প্রতি ডলারে ৯৫ টাকা ৪১ পয়সা। বুধবার ভারতীয় বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থবাজার বন্ধ ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে রুপির ওপর চাপ কম
বাজারে ডলার ও রুপির লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদে ৯৫ টাকা থেকে ৯৫ টাকা ৮০ পয়সার একটি সীমা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ডলারের দর ৯৫ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৯৫ টাকা ৮০ পয়সার দিকে উঠলেই ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করছে বলে জানিয়েছেন তারা।
![]()
গত দুই সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। এর ফলে ডলারের দর ৯৬ রুপির দিকে ওঠার সুযোগ সীমিত হয়েছে এবং রুপির বড় ধরনের পতনও ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়াও রুপিকে বাড়তি সহায়তা দেয়। ফলে প্রায় এক মাসের মধ্যে ওই দিন রুপির দর এক দিনে সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল।
কমছে তেলের দাম
এদিকে এশিয়ার বাজারে বৃহস্পতিবারও ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। টানা চতুর্থ দিনের মতো দরপতনের দিকে এগোচ্ছে তেল। নিকটতম মেয়াদের ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৭ ডলার ৩০ সেন্টে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ প্রায় ৯৫ ডলার ৮০ সেন্টের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
তেলের দাম কমে যাওয়াকে ভারতের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ। তেলের দাম কমলে আমদানি ব্যয় কমে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কিছুটা হ্রাস পায়।
একজন মুদ্রা ব্যবসায়ীর মতে, তেলের দাম কমার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দর বৃদ্ধির ওপর সীমা ধরে রাখায় রুপির বাজারে আপাতত সীমিত পরিসরে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে আমদানিকারকদের কাছ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের শক্তিশালী চাহিদা দেখা যাচ্ছে। এই চাহিদা অব্যাহত থাকলে ডলারের দর খুব বেশি নিচে নামার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সুদ বাড়ানোর আশঙ্কায় ডলার শক্তিশালী
রুপির ওপর আরেকটি চাপ তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি। মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা কিছুটা বেড়েছে।
এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার ডলারের সূচক আট দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এখন বাজারের নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কেভিন ওয়ারশের জ্যাকসন হোল বক্তব্যের দিকে। তাঁর বক্তব্য থেকে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কোন দিকে যেতে পারে, সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করবেন।
সব মিলিয়ে তেলের দাম কমে যাওয়া ও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় ভূমিকা রুপিকে স্বস্তি দিলেও যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য সুদ বৃদ্ধি এবং ডলারের আমদানি-চাহিদা মুদ্রাটির বড় ধরনের শক্তিশালী হওয়ার পথে বাধা হয়ে থাকছে। ফলে আপাতত রুপির দর একটি সীমিত পরিসরেই ঘোরাফেরা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















