বিশ্ববাজারে সোনার দাম বৃহস্পতিবার কিছুটা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার অবমূল্যায়নের আশঙ্কা এবং দেশটির বড় বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মূল্যবান ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কেভিন ওয়ার্শের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে আছে বাজার।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬১৮ দশমিক ৯৩ ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সোনার চুক্তির দামও শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৭৩ দশমিক ৬০ ডলারে।
ডলারের অবমূল্যায়নের আশঙ্কা
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল বাজেট ঘাটতি এবং ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা মধ্যমেয়াদে সোনার দামকে সমর্থন করছে। গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় পুরোনো দীর্ঘমেয়াদি ঋণপত্র পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দিলে ডলারের ভবিষ্যৎ মূল্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পর সোনার দাম এক সপ্তাহে ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
![]()
বৃহস্পতিবার ডলারের দাম মোটামুটি স্থির ছিল। তবে ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা ক্রেতাদের কাছে ডলারে নির্ধারিত সোনা তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে যায়।
ওয়ার্শের বক্তব্যে সুদের হারের দিকনির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া জ্যাকসন হোলের বার্ষিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজারের প্রত্যাশা, ওয়ার্শ অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দিতে পারেন। তবে তাঁর বক্তব্যে সুদের হারের ভবিষ্যৎ পথ সম্পর্কে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশ না থাকলে বাজারে বিদ্যমান মূল্যায়নে বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
বাজারের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশ বলে ধরা হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ
বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় স্থির ছিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।
সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের সময় মূল্যস্ফীতিতে যে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছিল, সেটি কমার পরিবর্তে হঠাৎ থেমে যাওয়ায় সুদের হার বাড়ানো হবে, নাকি বর্তমান অবস্থায় রাখা হবে—এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরের বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।
সুদের হার বাড়লে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে। কারণ সোনা থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। তবে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝোঁকেন।
৪ হাজার ৭০০ ডলার গুরুত্বপূর্ণ সীমা
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি আউন্স সোনার জন্য ৪ হাজার ৭০০ ডলার এখন স্বল্পমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ বাধা। নতুন করে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি শুরুর আগে সোনার দাম ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ ডলারের মধ্যে কিছু সময় স্থির থাকতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৮৮ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৪৪ দশমিক ৭৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩১ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















