গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের প্রথম দুই বছরে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সঙ্গে ভবিষ্যতে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিলেছে নতুন এক গবেষণায়।
গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ৬৪ হাজারের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাঁরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ও পরে জন্মেছিলেন, যখন ১৯৫৩ সালে যুদ্ধকালীন চিনি-রেশনিং শেষ হয়। গবেষকেরা এই ঐতিহাসিক পরিস্থিতিকে শৈশবের চিনি গ্রহণের মাত্রার একটি পরোক্ষ নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করেন।
কম চিনি গ্রহণে কম ঝুঁকির ইঙ্গিত
গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থা থেকে জীবনের প্রথম বছর পর্যন্ত তুলনামূলক কম চিনি পাওয়ার সঙ্গে পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২১ শতাংশ কম থাকার সম্পর্ক রয়েছে। আর দুই বছর বয়স পর্যন্ত চিনি গ্রহণ সীমিত থাকার ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম ছিল ২৩ শতাংশ।
কম চিনি গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ডিমেনশিয়া গড়ে প্রায় ২ দশমিক ৬ বছর পরে দেখা গেছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক জিয়াঝেন ঝেং বলেন, জীবনের একেবারে শুরুর পর্যায়ে চিনি গ্রহণ সীমিত রাখার দীর্ঘমেয়াদি সুফল মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর থাকতে পারে।

গবেষণার ফল নিয়ে সতর্কতার পরামর্শ
তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই গবেষণা কম চিনি খাওয়াকে সরাসরি ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের কারণ হিসেবে প্রমাণ করে না। এখানে মূলত একটি সম্পর্ক বা যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
তাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক দারিউশ মোজাফফারিয়ানও গবেষণার ফলকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া মানুষের খাদ্যাভ্যাস, মোট ক্যালরি গ্রহণ এবং পুষ্টির মতো আরও অনেক বিষয়ে পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে শুধু চিনি কম খাওয়াকেই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন।

গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য পুষ্টিকর ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফল, শাকসবজি, ডাল, বাদাম, বীজ, পূর্ণ শস্য, গাঁজন করা দুগ্ধজাত খাবার ও মাছের মতো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও পরিশোধিত শর্করাযুক্ত অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, গবেষকেরা প্রত্যেক ব্যক্তির প্রকৃত চিনি গ্রহণের পরিমাণ সরাসরি মাপতে পারেননি। বরং ঐতিহাসিক চিনি-রেশনিং ব্যবস্থাকে চিনি গ্রহণের একটি পরোক্ষ সূচক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই প্রাথমিক জীবনে কম চিনি গ্রহণ এবং পরবর্তী জীবনে কম ডিমেনশিয়ার মধ্যে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা এখনো সম্ভব হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















