যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা তল্লাশি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন। নতুন পরিকল্পনায় বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুততর তল্লাশি ব্যবস্থা ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
‘হরাইজন ২৫’ পরিকল্পনায় নতুন দিশা
সংস্থাটির ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে সোমবার ‘হরাইজন ২৫’ নামে নতুন কৌশল ঘোষণা করা হয়েছে। এর আওতায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে আগের ‘টিএসএ গোল্ড প্লাস’ কর্মসূচি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশিতে বেসরকারি ঠিকাদারদের আরও বেশি যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিমান চলাচল ব্যবস্থার কিছু অংশ বেসরকারি খাতে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার যুক্তি, সরকারি তত্ত্বাবধান বজায় রেখেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করলে ব্যয় কমানো, কার্যকারিতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা উন্নত করা সম্ভব।

বেসরকারিকরণ নিয়ে কর্মীদের উদ্বেগ
তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ইউনিয়নের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ কর্মসংস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং বিমানযাত্রীদের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
‘টিএসএ গোল্ড প্লাস’ বাতিল হলেও বেসরকারিকরণের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন। সংস্থাটি বরং আরও বেশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে।
২০ বিমানবন্দরে ইতিমধ্যে বেসরকারি নিরাপত্তা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি বিমানবন্দর যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশির কাজে বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহার করছে। এর মধ্যে সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সবচেয়ে বড়।
২০২৫ সালের অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের মার্চে সরকারি অর্থায়নে সংকট তৈরি হলে বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পার্থক্য যাত্রীদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সে সময় পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের অনেক কর্মী কাজে না আসায় বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশিতে দীর্ঘ সারি ও ব্যাপক বিলম্ব দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা বিমানবন্দরগুলো তুলনামূলকভাবে এই সংকট থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
চাকরি হারানোর আশঙ্কা

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়া হলে হাজার হাজার সরকারি নিরাপত্তাকর্মী চাকরি হারাতে পারেন—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সরকারি কর্মীদের তুলনায় কম কর্মসংস্থান সুরক্ষা পেতে পারেন বলে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর ফলে বিমান চলাচল ব্যবস্থা আরও নিরাপদ, সুরক্ষিত ও দক্ষ হবে।
দ্রুত তল্লাশি ব্যবস্থায় পরিবর্তন
নতুন পরিকল্পনায় যাত্রীদের জন্য দ্রুততর নিরাপত্তা তল্লাশি ব্যবস্থাও আরও উন্নত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে আগে থেকেই যাচাই করা যাত্রীদের জন্য বিশেষ দ্রুত তল্লাশি সুবিধা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ রয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ ছাড়া নতুন নিরাপত্তা প্রযুক্তি দ্রুত সংগ্রহ ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চালকবিহীন উড়োজাহাজ বা ড্রোনের মতো আকাশপথের নতুন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরকারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে। এতে একদিকে নিরাপত্তা তল্লাশিতে দক্ষতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের চাকরি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বিতর্কও আরও তীব্র হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি ব্যবস্থার এই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের জন্য অপেক্ষার সময় কতটা কমায় এবং নিরাপত্তা কতটা বাড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















