০২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
এইচ-১বি ভিসার অবসানেই কি ভারতীয়দের নতুন সুযোগ? শৈশবের চিনি খাওয়ার অভ্যাসে কি বাড়তে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি? সেপ্টেম্বরের পর্দা মাতাবে নয়টি আলোচিত ধারাবাহিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে বেসরকারিকরণের উদ্যোগ মেয়ের প্রথম জন্মদিনে স্পেন ভ্রমণ, কিন্তু এক বছরের শিশুর জন্য বদলে গেল পুরো পরিকল্পনা বন্ধুকে ধার দেওয়া টাকা ফেরত না পেলে কী করবেন—বন্ধুত্ব বাঁচাবেন, নাকি টাকা ফেরত চাইবেন? বাড়িতে বার্ধক্য কাটাতে ৬ সন্তান ও ৩ লাখ ডলারের সঞ্চয়: এক পরিবারের কঠিন বাস্তবতা গ্রিসে চার বছর: ছুটির স্বপ্নের আড়ালে যে বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের কোন বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট দেরি হয়, জেনে নিন পুরো তালিকা কিশোর-কিশোরীদের উবার যাত্রা এবার সরাসরি দেখতে পারবেন অভিভাবকেরা

ইমরানকে শিফা হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ: সরকারের রিভিউ আবেদন ফেরত দিল সুপ্রিম কোর্ট

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের করা আবেদন ফেরত দিয়েছে আদালত। অসম্পূর্ণ কাগজপত্রের কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় আবেদনটি ফেরত দেয়।

আবেদন নতুন করে দাখিলের প্রস্তুতি

আদালত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংশোধন করে সরকার আবারও রিভিউ আবেদন করতে পারে। পাশাপাশি রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের আপত্তির বিরুদ্ধেও আপিল করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে ইমরানের দল পিটিআই। দলের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা দাবি করেছেন, আদালতের আপত্তির পর সরকার তাদের রিভিউ আবেদন প্রত্যাহার করেছে। তিনি বলেন, ১৮ আগস্টের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে এখন আর কোনো অজুহাত থাকতে পারে না এবং ইমরান খানকে দ্রুত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া উচিত।

দুই দিনের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ

Govt files review petition against SC order to shift Imran Khan to Shifa  Hospital - Daily Ittehad

এর আগে মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি নাঈম আখতার আফগান ও বিচারপতি ইশতিয়াক ইব্রাহিম।

ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ, পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা এবং তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পরিবারের কাছে দেওয়ার দাবিতে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেন।

আদালত ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বোনকে তার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুমতিও দেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকারের যুক্তি কী

১৮ আগস্টের আদেশ পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে যায় সরকার। ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনারের মাধ্যমে সংবিধানের ১৮৮ অনুচ্ছেদের অধীনে করা আবেদনে বলা হয়, ইমরানকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ বৈষম্যমূলক এবং কারাগারের বিধিমালা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সরকারের দাবি, পাকিস্তান কারা বিধিমালা ১৯৭৮-এর ১৯৭ নম্বর বিধিতে বন্দিকে হাসপাতালে স্থানান্তরের পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু ১৮ আগস্টের আদেশ দেওয়ার সময় আদালতের নজরে এই বিধানটি আসেনি।

আবেদনে আরও বলা হয়, তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট নয়—এমন একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তিকে তার পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দিলে পুরো ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সরকার সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের সমতার অধিকারও তুলে ধরে যুক্তি দিয়েছে, একই অবস্থায় থাকা অন্য বন্দিরাও তখন একই ধরনের বিশেষ সুবিধা দাবি করতে পারেন। এতে কারা বিধিমালা লঙ্ঘিত হওয়ার পাশাপাশি বৈষম্য ও পক্ষপাতের অভিযোগ তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্যের সঙ্গে রাজনীতি না মেশানোর আহ্বান

সরকারের মন্ত্রীরাও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, ইমরান খান অতীতেও চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন এবং কারাগারের নিয়ম ও আইন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন।

তিনি বলেন, ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই এবং কারা ম্যানুয়াল ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়কে রাজনীতির বাইরে রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচ-১বি ভিসার অবসানেই কি ভারতীয়দের নতুন সুযোগ?

ইমরানকে শিফা হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ: সরকারের রিভিউ আবেদন ফেরত দিল সুপ্রিম কোর্ট

০৩:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের করা আবেদন ফেরত দিয়েছে আদালত। অসম্পূর্ণ কাগজপত্রের কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় আবেদনটি ফেরত দেয়।

আবেদন নতুন করে দাখিলের প্রস্তুতি

আদালত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংশোধন করে সরকার আবারও রিভিউ আবেদন করতে পারে। পাশাপাশি রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের আপত্তির বিরুদ্ধেও আপিল করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে ইমরানের দল পিটিআই। দলের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা দাবি করেছেন, আদালতের আপত্তির পর সরকার তাদের রিভিউ আবেদন প্রত্যাহার করেছে। তিনি বলেন, ১৮ আগস্টের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে এখন আর কোনো অজুহাত থাকতে পারে না এবং ইমরান খানকে দ্রুত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া উচিত।

দুই দিনের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ

Govt files review petition against SC order to shift Imran Khan to Shifa  Hospital - Daily Ittehad

এর আগে মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি নাঈম আখতার আফগান ও বিচারপতি ইশতিয়াক ইব্রাহিম।

ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ, পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা এবং তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পরিবারের কাছে দেওয়ার দাবিতে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেন।

আদালত ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বোনকে তার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুমতিও দেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকারের যুক্তি কী

১৮ আগস্টের আদেশ পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে যায় সরকার। ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনারের মাধ্যমে সংবিধানের ১৮৮ অনুচ্ছেদের অধীনে করা আবেদনে বলা হয়, ইমরানকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ বৈষম্যমূলক এবং কারাগারের বিধিমালা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সরকারের দাবি, পাকিস্তান কারা বিধিমালা ১৯৭৮-এর ১৯৭ নম্বর বিধিতে বন্দিকে হাসপাতালে স্থানান্তরের পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু ১৮ আগস্টের আদেশ দেওয়ার সময় আদালতের নজরে এই বিধানটি আসেনি।

আবেদনে আরও বলা হয়, তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট নয়—এমন একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তিকে তার পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দিলে পুরো ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সরকার সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের সমতার অধিকারও তুলে ধরে যুক্তি দিয়েছে, একই অবস্থায় থাকা অন্য বন্দিরাও তখন একই ধরনের বিশেষ সুবিধা দাবি করতে পারেন। এতে কারা বিধিমালা লঙ্ঘিত হওয়ার পাশাপাশি বৈষম্য ও পক্ষপাতের অভিযোগ তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্যের সঙ্গে রাজনীতি না মেশানোর আহ্বান

সরকারের মন্ত্রীরাও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, ইমরান খান অতীতেও চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন এবং কারাগারের নিয়ম ও আইন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন।

তিনি বলেন, ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই এবং কারা ম্যানুয়াল ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়কে রাজনীতির বাইরে রাখারও আহ্বান জানান তিনি।