ব্রিটেনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক জেসন আরডের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তোলা মার্কিন শিক্ষাবিদ নাথান কোফনাসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে প্রাথমিক শাস্তিমূলক তদন্তও শুরু হয়েছে।
ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোফনাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয়।
কোফনাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে চাকরি থেকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানিয়েছিলেন, আরডের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত করছে।
আরডের মৃত্যুর পর নতুন করে বিতর্ক
একসময় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কম বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে আলোচিত জেসন আরডে ৪১ বছর বয়সে লন্ডনে মারা যান। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
আরডে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছিল বলেও তিনি স্বীকার করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় এবং তাঁর কর্মজীবন, ব্যক্তিগত জীবন ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও নানা প্রশ্ন সামনে আসে।
মৃত্যুর আগে আরডে বারবার জানিয়েছিলেন, তাঁকে ঘিরে প্রকাশ্য আক্রমণ তাঁর নিজের এবং পরিবারের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ তৈরি করছে।
অভিযোগ প্রকাশ করেছিলেন কোফনাস
গত ২১ জুলাই কোফনাস তাঁর নিজস্ব লেখায় জানিয়েছিলেন, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সূত্র তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে আরডের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের কথা জানিয়েছিল। তবে সেই সূত্রের পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি।
এদিকে কোফনাসের নিজের একাডেমিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আগে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কেমব্রিজের এম্যানুয়েল কলেজ তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল, কারণ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর কিছু লেখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। কোফনাসের লেখায় এমন বক্তব্যও ছিল যে যোগ্যতাভিত্তিক ব্যবস্থায় খেলাধুলা ও বিনোদন ছাড়া উচ্চপর্যায়ের প্রায় সব পদ থেকে কৃষ্ণাঙ্গরা হারিয়ে যেতেন। কোফনাস অবশ্য নিজেকে বর্ণবাদী নন বলে দাবি করেছেন এবং এম্যানুয়েল কলেজের সঙ্গে তাঁর আইনি বিরোধ চলছে।
আরডের পরিবার যা বলেছে
আরডের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছে, তিনি ভুল তথ্য ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু ঘিরে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়। লন্ডনের কেন্দ্রীয় এলাকায় আয়োজিত এক স্মরণসভায় হাজারো মানুষ অংশ নেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম আরডের মৃত্যুকে বহু দিক থেকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে এ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন।
মামলাটি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে আরডের বিরুদ্ধে ওঠা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে, অন্যদিকে সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা শিক্ষাবিদ কোফনাসই এখন তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক তদন্তের মুখোমুখি।
জেসন আরডে ও তাঁকে ঘিরে বিতর্কের পরিণতি নিয়ে ইতোমধ্যে একাডেমিক অঙ্গনে মতপ্রকাশ, অভিযোগের যাচাই এবং ব্যক্তিগত হয়রানির সীমারেখা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















