যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা আর কেবল ওয়াল স্ট্রিটের একটি আর্থিক সমস্যা নয়। এটি এমন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব মার্কিন অর্থনীতি পেরিয়ে বিশ্ব অর্থব্যবস্থা, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এবার সুদের হার বাড়ার পেছনে যে কারণগুলো কাজ করছে, সেগুলো অতীতের পরিচিত সংকটগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ দ্রুত বেড়েছে। নতুন ৩০ বছরের মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদের হার সম্প্রতি ৫.৩ শতাংশে উঠেছে, যেখানে ২০২১ সালে তা ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ। ২০০৭ সালের পর এত বেশি হারে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থ জোগাড় করতে হয়নি। এর অর্থ হলো সরকারের রাজস্বের বড় একটি অংশ এখন ঋণের সুদ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে। প্রায় ২০ শতাংশ ফেডারেল রাজস্ব ঋণসেবায় ব্যয় হওয়ায় প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা অন্যান্য সরকারি খাতে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
এর প্রভাব ইতোমধ্যে অর্থনীতির নিচের স্তরেও পৌঁছে গেছে। উচ্চ বন্ধকি ঋণের কারণে বাড়ি কেনা বা পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন কঠিন হচ্ছে। গাড়ি ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদও বাড়ছে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোকে সরকারি বন্ডের তুলনায় অতিরিক্ত ঝুঁকি-প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে। ফলে ঋণের খরচ শুধু সরকারের জন্য নয়, পুরো অর্থনীতির জন্যই বাড়ছে।
প্রথম নজরে কারণগুলো পরিচিত
বাজারের অনেকেই সুদের হার বৃদ্ধির ব্যাখ্যায় কয়েকটি পরিচিত কারণ সামনে আনবেন—জেদি মূল্যস্ফীতি, দ্রুত বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে গ্যাস ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। এসব কারণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু এগুলো দিয়ে ব্যাখ্যা করলে সমস্যার গভীর পরিবর্তনটি চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
এবারের অস্থিরতার পেছনে অন্তত কয়েকটি নতুন শক্তি কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ঘিরে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল ঋণ নেওয়ার প্রস্তুতি।
এআই বিপ্লবের অবকাঠামো তৈরি করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ মূলধন চাইছে। চলতি বছরই তারা প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বন্ড বিক্রি করেছে এবং বছর শেষ হওয়ার আগে আরও অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এআই যে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দরজা খুলতে পারে, সে সম্ভাবনা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার অতীতেও কম্পিউটার প্রযুক্তি, ডটকম এবং ডেটা সেন্টারের মতো বড় পরিবর্তনের অর্থায়ন করেছে।
কিন্তু সমস্যাটি হলো সময় ও পরিমাণ। একই সময়ে যখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছে, তখন মার্কিন সরকারও বিশাল পরিমাণ ঋণ বাজারে ছাড়ছে। অর্থাৎ সীমিত বিনিয়োগকারীর অর্থের জন্য সরকার ও করপোরেট খাতের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে।
বিদেশি ক্রেতাদের পিছু হটা
এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ঐতিহ্যগত বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়া। চীন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রয়োজনের পাশাপাশি জাপানের মতো বড় বিনিয়োগকারীরাও এখন নিজেদের মুদ্রা ও অর্থনীতির চাপ সামলাতে বিদেশি সম্পদ বিক্রির কথা ভাবতে বাধ্য হতে পারে।
জাপানের ইয়েনের ওপর চাপ বাড়ায় দেশটির জন্য বিদেশে থাকা মার্কিন সরকারি ও করপোরেট বন্ড বিক্রি করে অর্থ দেশে ফেরানোর প্রয়োজন তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইয়েনকে সহায়তা করতে বিরল যৌথ বাজার হস্তক্ষেপে অংশ নিয়েছে।
বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা কমে গেলে মার্কিন সরকারি বন্ডের আরও বেশি অংশ তুলনামূলকভাবে অস্থির বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে চলে যায়। এর ফলে সুদের হার বাড়ার প্রবণতা আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
এবারের পরিবর্তনটি কোথায়
অতীতে সরকারি বন্ডের সুদের হার দ্রুত বাড়লে সাধারণত মূল্যস্ফীতি ছিল বড় কারণ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের বিভিন্ন সূচক বলছে, সেটিই মূল সমস্যা নয়। ফেডারেল রিজার্ভের বিশ্বাসযোগ্যতাও এখন পর্যন্ত বাজারে বড় ধরনের সংকটে পড়েনি। বরং বিনিয়োগকারীরা যে অতিরিক্ত মূল্য চাইছেন, তা মূলত প্রকৃত সুদের হারে প্রতিফলিত হচ্ছে—অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির প্রভাব বাদ দেওয়ার পরও অনিশ্চিত ও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সরকারি ঋণ ধরে রাখার জন্য তারা বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির বিশেষত্ব।
যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজার এখন এমন এক আন্তর্জাতিক পরিবেশের মধ্যে কাজ করছে, যেখানে শুধু ওয়াশিংটনের আর্থিক অবস্থাই নয়, অন্যান্য বড় অর্থনীতির দুর্বলতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন সুদের হার বাড়লে বিশ্বজুড়ে ঋণের খরচও বাড়ে। নিরাপদ বলে বিবেচিত জার্মান সরকারি বন্ডের সুদের হারও ২০১১ সালের পর দেখা যায়নি—এমন উচ্চতায় উঠেছে। জাপান, ফ্রান্স ও ব্রিটেন নিজেদের ঋণবাজারের দুর্বলতা নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন। এসব দেশের সরকারি ঋণবাজারে চাপ শেষ পর্যন্ত আবার মার্কিন বাজারেও ফিরে আসতে পারে।
ফলে এবার যে সুদের হার বাড়ছে, তার পেছনে একসঙ্গে কয়েকটি শক্তি কাজ করছে—সরকারের বিপুল ঋণ, এআই খাতে করপোরেট অর্থায়নের বিস্ফোরণ, বিদেশি ক্রেতাদের পশ্চাদপসরণ, জ্বালানি বাজারের ধাক্কা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা। এই সমন্বয়ই পরিস্থিতিকে অতীতের অনেক বাজার অস্থিরতার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
পুরোনো সমাধান কি এবার কাজ করবে?
এখানেই সবচেয়ে বড় নীতিগত প্রশ্ন। অতীতে ঋণের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সাধারণত দুটি শক্তি বাজারকে ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনত। একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে অর্থনীতিতে তারল্যের প্রবাহ কমাত। অন্যদিকে ঋণের খরচ এত বেশি হয়ে উঠত যে কোম্পানি ও সরকার নিজেরাই নতুন ঋণ নেওয়া কমিয়ে দিত।
কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দুটো ব্যবস্থাই আগের মতো কার্যকর নাও হতে পারে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/united-states-federal-reserve-building--washington-dc--usa-699686820-4fe8a5acea0b451b8998d683dfcd87db.jpg)
ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়ালে সরকারের বিপুল ঋণের ওপর সুদ পরিশোধের বোঝা আরও বাড়বে। এতে বাজেট ঘাটতি কমার বদলে সরকারের আর্থিক চাপ আরও তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে এআই নিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশা এতটাই শক্তিশালী যে উচ্চ সুদের হার তাদের ঋণ নেওয়ার আগ্রহ খুব সহজে থামিয়ে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
এর ফলে অর্থনীতির অন্য, বেশি সুদ-সংবেদনশীল অংশগুলোকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
আবাসন ও গাড়ির বাজার সবচেয়ে ঝুঁকিতে
উচ্চ সুদের সবচেয়ে সরাসরি আঘাত পড়বে আবাসন ও গাড়ির মতো খাতে। নতুন বাড়ির ক্রেতাদের জন্য মাসিক ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী মানুষদের একটি বড় অংশ বাজারের বাইরে চলে যেতে পারে। গাড়ি ঋণের ব্যয় বাড়লে পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে।
ক্রেডিট কার্ডের ঘূর্ণায়মান ঋণ এবং অতিরিক্ত লিভারেজে থাকা আর্থিক খাতের অংশগুলোও চাপের মুখে পড়বে। এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই আবাসন, পরিবহন ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ব্যয়ে চলে যায়।
অর্থাৎ বন্ডবাজারের একটি পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের সংকটে পরিণত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় যখন ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ, তখন এই আর্থিক চাপের রাজনৈতিক প্রভাবও উপেক্ষা করা যাবে না।
সরকারের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি
এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রশাসনকে বন্ডবাজারে আরও সক্রিয় হস্তক্ষেপের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার কমানোর চেষ্টা করা।
স্বল্পমেয়াদে এটি বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বন্ড কমিয়ে সরকারকে যদি আরও বেশি স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিতে হয়, তাহলে বাজারের তারল্য ব্যবস্থায় নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একটি সমস্যা সামাল দিতে গিয়ে আরেকটি সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তাই থেকেই যায়।
এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও অতীতের দীর্ঘস্থায়ী বাজার হস্তক্ষেপের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানোর চেষ্টা করছে। বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর শুরু হওয়া দীর্ঘ সময়ের অস্বাভাবিক নীতিগত সহায়তা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন বন্ডবাজার আবার নতুন ধরনের চাপের মুখে।
এআই কি শেষ পর্যন্ত সমাধান হতে পারে?
তবু এই পরিস্থিতির পুরো চিত্র কেবল নেতিবাচক নয়। এআই খাতে যে বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে, তা যদি সত্যিই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে উচ্চ আয় ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বর্তমান ঋণের চাপ সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কিন্তু সেই সম্ভাবনা এখনো ভবিষ্যতের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একই সঙ্গে দুটি কঠিন বাস্তবতার মোকাবিলা করতে হচ্ছে—একদিকে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির জন্য বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন, অন্যদিকে বর্তমান ঋণ ও বাজেট ঘাটতির লাগাম টেনে ধরা।
এই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে না। কংগ্রেস ও প্রশাসন যদি এমন একটি বাজেট কাঠামোতে পৌঁছাতে না পারে, যা অতিরিক্ত ঘাটতি ও ঋণের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে উচ্চ সুদের হার আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে—এই সংখ্যা সমস্যাটির মাত্রা বোঝানোর জন্যই যথেষ্ট।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য শিক্ষা
বর্তমান বন্ডবাজারের সংকেত তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার অন্যতম নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু যখন সবচেয়ে বড় ঋণগ্রহীতা দেশের ঋণের চাহিদা বাড়ে, একই সময়ে সবচেয়ে বড় কিছু ক্রেতার আগ্রহ কমে যায় এবং করপোরেট খাতও বিপুল অর্থ ধার করতে শুরু করে, তখন সেই বাজারের ভারসাম্য বদলে যাওয়া স্বাভাবিক।
এটি হয়তো সাময়িক বাজার অস্থিরতা হিসেবে শেষ হতে পারে। কিন্তু যদি বর্তমান প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি এমন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করতে পারে যেখানে সুদের হারকে অতীতের মতো সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই এআই কত দ্রুত নতুন প্রবৃদ্ধি তৈরি করবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, সেই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি আসার আগ পর্যন্ত সরকার, করপোরেট খাত এবং সাধারণ মানুষ কতটা উচ্চ ঋণব্যয়ের চাপ বহন করতে পারবে।
বন্ডবাজার এখন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে। এবং এই উত্তর শুধু বিনিয়োগকারীদের সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করবে না; এটি নির্ধারণ করতে পারে আগামী দিনের অর্থনৈতিক নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার নতুন ভারসাম্যও।
মোহামেদ এ. এল-ইরিয়ান 



















