তীব্র তাপপ্রবাহ, পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবং খাবার-পানীয়ের বাড়তি চাহিদা—সবকিছুর পরও গত জুলাইয়ে গ্রেট ব্রিটেনে খুচরা পণ্যের বিক্রি কমেছে। দোকান ও অনলাইনে পণ্য বিক্রির পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাবে, জুনে খুচরা বিক্রি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছিল। এর আগে জুনের প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ হবে বলে প্রাথমিক হিসাবে জানানো হয়েছিল। মে মাসে বিক্রি বেড়েছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ।
পোশাক ও আসবাব বিক্রিতে বড় ধাক্কা
জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে খাদ্যপণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দোকান। এ খাতে বিক্রি কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। পোশাকের দোকানে বিক্রি কমে যাওয়াই এর অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক খুচরা বিক্রেতা জুনেই মূল্যছাড়ের বিক্রি এগিয়ে আনায় জুলাইয়ে পোশাক কেনার আগ্রহ কমে যায়।
এর সঙ্গে তীব্র গরমও ক্রেতাদের আচরণে পরিবর্তন আনে। প্রচণ্ড তাপমাত্রার কারণে অনেকে শহরের ব্যস্ত বাজারে যাওয়ার বদলে বাড়িতে অবস্থান করেছেন। কেউ কেউ অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন কিংবা বড় খুচরা বিপণিকেন্দ্রের দিকে ঝুঁকেছেন।
আসবাবপত্রের বাজারেও ছিল মন্দাভাব। অতিরিক্ত গরমের মধ্যে অনেক পরিবার ঘরের সাজসজ্জা পরিবর্তনের পরিকল্পনা পিছিয়ে দেয়। পণ্যের মজুত কম থাকায় বড় বিপণিবিতানগুলোর বিক্রিতেও প্রভাব পড়ে। তাপপ্রবাহের কারণে কিছু খুচরা প্রতিষ্ঠান পণ্য পৌঁছে দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলেও সতর্ক করেছিল।
খাবার ও পানীয়ের বাজারে স্বস্তি
তবে খাবার ও পানীয়ের বিক্রি ছিল ব্যতিক্রম। রৌদ্রোজ্জ্বল ও উষ্ণ আবহাওয়া এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ ঘিরে মানুষের আগ্রহ এই খাতে চাহিদা বাড়িয়েছে।
বিশেষ করে ঘরে বসে খেলা দেখার আয়োজনকে কেন্দ্র করে খাবার ও পানীয় কেনার প্রবণতা বেড়েছে। তবে এই বিক্রি আরও বেশি হতে পারত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বড় ম্যাচগুলো দেখার জন্য অনেক মানুষ দোকানের বদলে পানশালা ও ক্রীড়া বারমুখী হয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের বিক্রি সরকারি হিসাবে খুচরা বাণিজ্যের বদলে আতিথেয়তা খাতের অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্বকাপে জমজমাট পানশালা
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাফল্য পানশালা ও পানীয় ব্যবসায় বড় ধরনের গতি এনে দেয়। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠায় এবং ম্যাচগুলো ঘিরে দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখায় এই খাতে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পুরো প্রতিযোগিতায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ কোটি অতিরিক্ত পাইন্ট বিয়ার বিক্রি হয়েছে বলে ব্রিটিশ বিয়ার ও পানশালা সমিতি জানিয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি পাউন্ড।
শরৎকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রীষ্মের তীব্র গরম ও বিশ্বকাপের প্রভাব খুচরা বাজারের ওপর মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। মানুষ গরমে বাজারে যাওয়ার বদলে ঘরে অবস্থান করেছে, আবার বিশ্বকাপের কারণে অনেকেই কেনাকাটার চেয়ে পানশালা ও ভ্রমণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
এখন গ্রীষ্মের ব্যস্ত সময় শেষ হওয়ার পথে। ফলে শরৎ মৌসুমে ক্রেতাদের আবার দোকানমুখী করতে নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর দিকে নজর দিচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
তীব্র গরমে মানুষ বারবিকিউয়ের জন্য খাবার ও সমর্থকদের সামগ্রী কিনলেও প্রচণ্ড তাপ এড়াতে অনেকেই শহরের প্রধান বিপণিকেন্দ্রগুলো থেকে দূরে থেকেছেন। ফলে গরমের ইতিবাচক প্রভাব খাবার ও পানীয়ের বাজারে দেখা গেলেও সামগ্রিক খুচরা বাণিজ্যে তা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















