সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মাজার ও মসজিদের দানবাক্সের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনসহ পুলিশের আরও সাত সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে সিলাম চৌকবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দুপুর ১টার দিকে হযরত শাহ তাইয়্যব সাইলানী (র.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের কাছে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে ইটপাটকেল ও স্থানীয় অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে চাঁদীপুল-বালাগঞ্জ সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে সংঘর্ষ
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হযরত শাহ তাইয়্যব সাইলানী (র.) ওয়াক্ফ এস্টেটের ব্যবস্থাপনা, এর অধীনে থাকা ৪০টি দোকান এবং কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। দানবাক্সের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে সেই বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরাও। মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ পুলিশের কয়েকজন সদস্য এতে আহত হন।
আহতদের হাসপাতালে ভর্তি
সংঘর্ষে আহত প্রায় ২৫ জনকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে মসজিদের মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ এবং আরিফুল হক রনিও রয়েছেন।
সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিরোধ মেটাতে বৈঠক শনিবার
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, বিরোধ নিষ্পত্তি ও এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রবীণদের নিয়ে শনিবার রাতে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ওই বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।




















