দিল্লিতে ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পেলেটের আঘাতে আহত হওয়ার অভিযোগ করা ১৯ বছর বয়সী দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাহিল লোচাবের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সাহিল দাবি করেছেন, তাকে পাঁচ থেকে ছয়বার পেলেট ছোড়া হয় এবং শরীরে প্রায় ২০০টি পেলেট ঢুকে যায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তার সঙ্গে নিয়ে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে ছয় ঘণ্টার বেশি অবস্থান করার পর শুক্রবার এফআইআরটি নথিভুক্ত হয়।
এফআইআরে কী অভিযোগ সাহিলের
শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কাগজ ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দুপুরের দিকে লাঠিচার্জ ও হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি অন্যদের সঙ্গে পালিয়ে পালিকা বাজারের দিকে যান। তার হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।
সাহিলের দাবি, সেখানে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এর মধ্যেই ডান পাশের মুখ, চোখ ও বুকে বিস্ফোরণের মতো কিছু অনুভব করেন তিনি। ঘুরে তাকিয়ে নীল পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে বড় একটি রাইফেল হাতে দেখতে পান বলে এফআইআরে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় পাঁচ থেকে ছয়বার পেলেট ছোড়া হয়। এতে চোখ, মুখ, বুক ও হাতে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে একজন তাকে মোটরসাইকেলে করে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে সফদরজং হাসপাতালে এবং পরে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে পাঠানো হয়।

চোখে স্থায়ী ক্ষতির দাবি
সাহিল জানিয়েছেন, ২২ জুলাই তার ডান চোখে প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকেরা তার মেডিকেল লিগ্যাল সার্টিফিকেটে পেলেটের ক্ষতের কথা উল্লেখ করেন। পরে সিটি স্ক্যানে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় ২০০টি পেলেট থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, পেলেটগুলো ডান চোখ, ঘাড়, বুক, চোয়াল ও হাতে রয়েছে। চোখের ভেতরে থাকা কিছু পেলেট বের করা সম্ভব হয়নি এবং সেগুলো আজীবন থেকে যেতে পারে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। হৃদপিণ্ডের কাছেও পেলেট রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ১ আগস্ট ডান চোখে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করা হয়। চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগ নথিভুক্তে বিলম্বের দাবি
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওপেন লার্নিংয়ের এই শিক্ষার্থীর দাবি, এফআইআর করতে তিনি আগের আট দিন কনট প্লেস, সংসদ মার্গ ও মন্দির মার্গ থানাসহ ক্রাইম ব্রাঞ্চের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ নথিভুক্ত হয়নি।
সাহিলের ভাষ্য, পরে রাহুল গান্ধী তাকে সহায়তা করেন। পরিবারের জ্যেষ্ঠ ছেলে হিসেবে এই আঘাত তার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন। পুলিশকে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও ড্রোনের ভিডিও সংরক্ষণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর ধর্নার পর এফআইআর

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সাহিল ও তার মাকে সঙ্গে নিয়ে মন্দির মার্গ থানায় যান রাহুল গান্ধী। পরে কনট প্লেস হয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার শচীন শর্মার সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
এরপর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে থানার বাইরে ধর্নায় বসেন রাহুল। এফআইআর না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে সরবেন না বলে জানান তিনি। পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, জয়রাম রমেশ ও অধীর রঞ্জন চৌধুরীসহ কংগ্রেস নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে থানার ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। জনসমাগম বাড়ায় টলস্টয় মার্গ ও সংসদ মার্গেও ব্যারিকেড দেওয়া হয়।
দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তা, সাহিল ও রাহুল গান্ধীর মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে এফআইআর নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত হয় এবং রাত ৭টার দিকে অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।
পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ১১৮ ও ১২৫ ধারায় মামলা করেছে। এর মধ্যে ১১৮ ধারা বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত বা গুরুতর আঘাত করার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ১২৫ ধারা অন্যের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















