যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ প্রকল্পে আপাতত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার আদালত নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, যাতে প্রকল্পটির ওপরের অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত রায় নয়, বরং সাময়িক প্রশাসনিক স্থগিতাদেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের আবেদন নিয়ে আরও পর্যালোচনার সময় পাচ্ছেন বিচারকেরা।
৪০ কোটি ডলারের প্রকল্প
হোয়াইট হাউসের পূর্ব দিকের অংশ ভেঙে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুটের একটি বিশাল বলরুম নির্মাণ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ৪০ কোটি ডলার।
ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থা অভিযোগ করেছে, কংগ্রেসের নির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসন এই নির্মাণকাজ শুরু করেছে। গত বছর পূর্ব দিকের ভবনটি ভেঙে ফেলার পর সেখানে বলরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের
প্রকল্পটি বন্ধ রাখার নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে বিচার বিভাগ। সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই প্রকল্প কেবল আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নয়; জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসনের দাবি, ভবনটির সঙ্গে নিরাপদ বলরুমের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ নানা নিরাপত্তা অবকাঠামো যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে বোমা হামলা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা এবং আকাশপথে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা রাখার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
ট্রাম্প আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন এই স্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আদালতের আপত্তি ছিল কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে
এর আগে ওয়াশিংটন ডিসির আপিল আদালত দুই-এক ভোটে নিম্ন আদালতের দেওয়া নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ বহাল রাখে। আদালত বলেছিল, প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের মালিক নন; তিনি কেবল সাময়িকভাবে এর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভবনটির কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের একতরফা ক্ষমতা নেই।
তবে নিম্ন আদালতের নির্দেশে পুরো প্রকল্প স্থগিত করা হয়নি। ভূগর্ভস্থ নির্মাণকাজ এবং হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তার জন্য কঠোরভাবে প্রয়োজনীয় কিছু কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

আপিল আদালত আরও বলেছিল, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখালেই কোনো প্রশাসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়ে যায় না।
প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ
বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, পূর্ব দিকের পুরো প্রকল্পের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ট্রাম্প বারবার এই স্থাপনাকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠনটি বলেছে, এখন পর্যন্ত যেসব আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে, তারা কেউই প্রশাসনকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় নির্মাণকাজ চালানোর একতরফা আইনগত ক্ষমতা দেয়নি।
বদলে যাচ্ছে হোয়াইট হাউসের চেহারা
হোয়াইট হাউসের বলরুম প্রকল্পটি ট্রাম্পের ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও সরকারি পরিসর বদলে দেওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর পাশাপাশি রাজধানীতে একটি বিশাল তোরণ নির্মাণ এবং কেনেডি সেন্টারের সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ধ্বংস করা পূর্ব দিকের অংশে একসময় ফার্স্ট লেডির কার্যালয় ও হোয়াইট হাউসের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কক্ষ ছিল। ভবনটির মূল অংশ ১৯০২ সালে প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের সময়ে নির্মিত হয় এবং ১৯৪২ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্টের সময়ে তা বড় করা হয়েছিল।
৪০ কোটি ডলারের বলরুম প্রকল্প নিয়ে আইনি লড়াই চলতে থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের সাময়িক আদেশের ফলে আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার পথ খোলা থাকল।
হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি; চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী আদালতীয় পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















