চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে শুক্রবার দেশে ফিরেছেন। তবে সফরে উত্তর কোরিয়াকে যুক্ত করে বহুপক্ষীয় শান্তি আলোচনার জন্য সিউলের যে উদ্যোগ, তাতে সমর্থন দিতে রাজি হননি তিনি। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সিউলের প্রস্তাবে চীনের সাড়া নেই
ওয়াং ইয়ের এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন উত্তর কোরিয়া নিয়ে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাত বছর পর প্রথমবারের মতো পিয়ংইয়ং সফর করেন। এর পরপরই উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অংশগ্রহণে বহুপক্ষীয় শান্তি আলোচনা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ওয়াং ইয়ের সফরে সেই প্রস্তাবের প্রতি বেইজিংয়ের স্পষ্ট সমর্থন পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রও সামরিক মহড়া কমাচ্ছে
ওয়াং ইয়ের সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আরও আলোচনার আহ্বান জানান।
এতে কোরীয় উপদ্বীপে কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও চীনের অবস্থান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।
ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে উত্তর কোরিয়ার বার্তা
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া ১০টির বেশি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর এবং উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ—দুই ঘটনাই কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সিউলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়।
চীনের অবস্থান থেকে আপাতত স্পষ্ট, বেইজিং উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে সিউলের প্রস্তাবিত বহুপক্ষীয় উদ্যোগে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার পথে এগোচ্ছে না। ফলে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়াকে আরও কঠিন সমীকরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















