তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি আবারও দেখা গেছে চীনের একটি গবেষণা জাহাজ। শুক্রবার সকালে তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘টংজি’ নামের জাহাজটি লিউচিউ দ্বীপের প্রায় ২৮ নটিক্যাল মাইল বা ৫২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি গত মে মাসের পর তাইওয়ানের আশপাশে জাহাজটির তৃতীয় উপস্থিতি। বিষয়টি নিয়ে তাইওয়ানের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটির খুব কাছেই অবস্থান
টংজি প্রায় ২ হাজার টন ওজনের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা জাহাজ। এটি সাংহাইয়ের থংজি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় রয়েছে। লিউচিউ দ্বীপটি তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে এবং কাওশিয়ং শহরের কাছাকাছি অবস্থিত।
কাওশিয়ংয়ে রয়েছে তাইওয়ানের নৌ একাডেমি এবং দেশটির সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি। ফলে এই এলাকার কাছাকাছি চীনা গবেষণা জাহাজের চলাচলকে স্বাভাবিকভাবেই সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নজরদারিতে তাইওয়ান
তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ যাত্রার সময় টংজিকে কোনো বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পানিতে নামাতে বা টানতে দেখা যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তাকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে।
এর আগে মে মাসে একই জাহাজকে তাইওয়ানের কাছাকাছি এলাকায় দড়ির মতো সরঞ্জাম পানিতে নামাতে দেখা গিয়েছিল। তখন তাইওয়ানের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, জাহাজটি অনুমতি ছাড়া সমুদ্র জরিপের কাজ করতে পারে। উপকূলরক্ষী বাহিনী সেসময় জাহাজটিকে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছিল।
কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে এই জাহাজ
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, টংজি সব ধরনের আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম এবং এতে দূরনিয়ন্ত্রিত যান, গবেষণাগার ও চালকবিহীন ব্যবস্থা বহনের সক্ষমতা রয়েছে। তাই এটি শুধু একটি সাধারণ গবেষণা জাহাজ কি না, তা নিয়ে তাইওয়ানের নিরাপত্তা মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, চীনা জাহাজগুলোর নিয়মিত উপস্থিতি দ্বীপটির ওপর চাপ তৈরির একটি কৌশলের অংশ। বিশেষ করে সামরিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর কাছে এ ধরনের চলাচলকে তাইপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখছে।
চীনের পক্ষ থেকে সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















