দ্রুত টাকা বাঁচানোর সহজ উপায় হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতের খরচ কমানো ও নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে নানা ব্যবহারিক দক্ষতা শেখার দিকে ঝুঁকছেন তরুণরা। পোশাক সেলাই থেকে রান্না, কাঠের কাজ কিংবা পুরোনো জিনিস নতুন করে ব্যবহারের মতো দক্ষতা এখন অনেকের কাছে বিনোদনের পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয়ের মাধ্যমও হয়ে উঠছে।
সেলাই থেকে সঞ্চয়ের ভাবনা
কানাডার টরন্টোর ৩০ বছর বয়সী আদা র্যাম্পারসোড চলতি বছরের শুরুতে বন্ধুদের সঙ্গে সেলাই শেখার একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন। পর্দাহীন অবসর কাটানো ও বন্ধুদের সঙ্গে নতুন কিছু করার অভিজ্ঞতা হিসেবে শুরু হলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, এই দক্ষতা ভবিষ্যতে তার অর্থ সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুটি প্রায় তিন ঘণ্টার প্রশিক্ষণের জন্য তিনি প্রায় ১৭৩ কানাডীয় ডলার খরচ করেন। তার মা ও নানিও সেলাই করেন। পারিবারিক প্রভাবের পাশাপাশি নিজের পোশাকের মাপ ঠিক রাখার প্রয়োজনীয়তাও তাকে সেলাই শেখায় আগ্রহী করেছে।
অনেক সময় পছন্দের পোশাক তার শরীরের মাপ অনুযায়ী পুরোপুরি ঠিক হয় না। সামান্য সরু করা কিংবা নিজের মাপ অনুযায়ী পরিবর্তন করলেই পোশাকটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। আগে কোনো পোশাকে ছিঁড়ে গেলে বা পুরোনো হয়ে গেলে সেটিকে প্রায় অচল মনে হলেও এখন নিজেই মেরামত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অপচয় কমিয়ে বাড়ছে আর্থিক সক্ষমতা
সেলাই শেখার মাধ্যমে শুধু পোশাক মেরামত নয়, পুরোনো পোশাক নতুনভাবে ব্যবহার করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এতে নতুন পোশাক কেনার প্রয়োজন কমতে পারে এবং পোশাকের অপচয়ও কমানো সম্ভব।
র্যাম্পারসোড মনে করেন, এর মাধ্যমে নিজের কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি অর্থও সাশ্রয় করা যায়। এমনকি ভবিষ্যতে সেলাইয়ের দক্ষতাকে বাড়তি আয়ের কাজেও পরিণত করার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
অর্থাৎ একটি ছোটখাটো ব্যবহারিক দক্ষতা একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা, পরিবেশ সচেতনতা এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অভিজ্ঞতার বদলে দক্ষতায় বিনিয়োগ
তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইউরোপে ২৭ হাজার ভ্রমণকারীর ওপর করা একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মানুষ ছুটির সময় নতুন কোনো দক্ষতা শেখার পরিকল্পনা করছেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
রান্নার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বস্ত্র তৈরি, হস্তশিল্প ও কাঠের কাজের মতো ঐতিহ্যবাহী ব্যবহারিক দক্ষতাও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অর্থাৎ ছুটির সময় শুধু বিনোদন নয়, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে এমন কিছু শেখার আগ্রহও বাড়ছে।
দ্রুত সঞ্চয়ের কৌশল নয়
তবে সেলাই বা এ ধরনের দক্ষতা শেখাকে তাৎক্ষণিক অর্থ সাশ্রয়ের কৌশল হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে সতর্ক করছেন আর্থিক পরিকল্পনাবিদরা। একটি প্রশিক্ষণ নিতে টাকা খরচ করতে হয়, প্রয়োজন হতে পারে সরঞ্জাম কেনারও। দক্ষতা আয়ত্ত করতেও সময় ও নিয়মিত অনুশীলন দরকার।
তাই শুরুতেই ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণ বা সরঞ্জাম কেনার বদলে বিনা খরচের শেখার উপকরণ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা অর্জন করে বোঝা দরকার, দক্ষতাটি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগবে কি না।
দক্ষতা হতে পারে ভবিষ্যতের সম্পদ
তরুণদের জন্য মূল শিক্ষা হলো, নতুন কোনো ব্যবহারিক দক্ষতা শেখা শুধু শখ পূরণের বিষয় নয়। সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি দৈনন্দিন ব্যয় কমাতে, অন্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে বাড়তি আয়ের পথ খুলতে পারে।
তবে এর সুফল পেতে হলে ধৈর্য ও নিয়মিত অনুশীলন জরুরি। আজ শেখা একটি ছোট দক্ষতাই হয়তো আগামী দিনে নতুন পোশাক কেনার খরচ কমাবে, পুরোনো জিনিসকে আবার ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে কিংবা বাড়তি আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















